একদিকে পার্টির কঠিন গঠনতন্ত্র। অন্যদিকে সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়। মাঝে এক দশকের দূরত্ব। বহিষ্কৃত সিপিএম নেতার মৃত্যুতেও সেই ব্যবধান ঘুচল না। দলের সঙ্গে চল্লিশ বছরের যোগাযোগ থাকা সত্ত্বেও পাঁচ ঘণ্টা পর দায়সারা ভাবে বিবৃতি দিল পলিটবুরো। অভিমানে দেহ আলিমুদ্দিনে নিয়ে যেতে দিল না সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ের পরিবারও।এদিন ক্ষোভে ফেটে পড়ল সোমনাথের পরিবার ৷ ‘বাবাকে সারাজীবন শুষে খেয়েছে ৷ এখন ন্যাকামি করতে এসেছে ৷ ওঁদের বের করে দিতে বলেছি পুলিশকে ৷ বাড়ির ৩০০ মিটারের মধ্যে যেন না থাকেন ৷ আর কোনওদিন যেন বাড়িতে না আসেন’ , মন্তব্য সোমনাথ-পুত্র প্রতাপ চট্টোপাধ্যায়ের ৷
১৯৬৮ সালেই সিপিএমের সদস্য হন সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় ৷ দলের সঙ্গে দীর্ঘ চার দশকের সম্পর্ক। অথচ, তা ভেঙে যায় একলহমায়। ২৩ জুলাই ২০০৮ সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়কে দল থেকে বহিষ্কার করা হয় ৷
পরমাণু চুক্তি নিয়ে অনাস্থা প্রস্তাব এনে ইউপিএ ওয়ান সরকারকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দেয় প্রকাশ কারাটের সিপিএম ও বাম দলগুলি। সে যাত্রা ইউপিএ ওয়ান সরকার টিকে গেলেও, সিপিএমের অন্দরে জন্ম নেয় নতুন বিতর্ক।
প্রকাশ কারাটরা চেয়েছিলেন, সরকারের বিরোধিতা করুন সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় ৷ কিন্তু, দলের হুইপ না মেনে অধ্যক্ষ হিসেবে নিরপেক্ষ ভূমিকা নেন সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় ৷
দল না নিরপেক্ষতা? কোনটা আগে? পথ বাছতে দ্বিধা করেননি লোকসভার হেডমাস্টার মশাই। বহিষ্কার করেও নাটকের শেষ হয়নি। সিপিএম বনাম সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় লড়াইয়ের ধুয়ো তুলে তাঁকে বিশ্বাসঘাতক হিসেবে দেখানোর কৌশলও নেয় দলের একটি অংশ। ২০০৯ সালে লোকসভার অধ্যক্ষ পদ থেকে অবসর নেওয়ার পর মূলধারার রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। কিন্তু, পার্টির সঙ্গে নাড়ির যোগ ছিঁড়ে যাওয়া। এ নিয়ে অভিমান কম ছিল না সোমনাথের।
সোমনাথের বহিষ্কার নিয়ে তেমন ভাবে মুখ খোলেননি জ্যোতি বসু-সহ বঙ্গ ব্রিগেডও। দলের সঙ্গে ২০০৮ সালে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল তা দশ বছর পরেও একই থেকে গেল।
মৃত্যুর কিছু আগে ত্রিপুরার নেতা নৃপেন চক্রবর্তীকে দলে ফিরিয়ে নিয়ে উদাহরণ তৈরি করেছিল সিপিএম। এমন নজির কি ফের তৈরি করা যেত না? কিন্তু, সিপিএম নেতৃত্ব তা পারলেন কই? যেভাবে দলের অচলায়তনে প্রথন বাঙালী প্রধানমন্ত্রিত্বও হাতছাড়া হয়েছিল, সেই পথ ধরেই বমাপন্থীর প্রয়ানে ব্রাত্যই রয়ে গেল সিপিএম।

No comments:
Post a Comment