মিথ্যার ছড়াছড়িতে মিথ্যুক ধরবেন কি ভাবে? - Breaking Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Sunday, 9 September 2018

মিথ্যার ছড়াছড়িতে মিথ্যুক ধরবেন কি ভাবে?




শতকরা ৭২ ভাগ মানুষ অন্যের মিথ্যাচার ধরতে পারে! বিশ্বাস হচ্ছে না! ঠিক আছে বিশ্বাস না করুন, মনে করুন আমি এমনিতেই বলেছি। অর্থাৎ কথাটি সত্য না।

আচ্ছা, আমরা কি বলতে পারি কখন বা কোন অবস্থায় আমাদের আশপাশের মানুষ মিথ্যা বলছে! আপনি হয়তো বিরক্ত হচ্ছেন বিষয়টা নিয়ে এবং ভাবছেন, পরিবারের সদস্য, বন্ধু, অফিসের সহকর্মী- সবার ব্যাপারেই আপনি জানেন এবং সেক্ষেত্রে তারা কে কখন কি বলছে তা সত্য না মিথ্যা-তা ধরাধরির কোনও ব্যাপার না। এটা সবাই পারে!

কিন্তু সাম্প্রতিক এক পর্যবেক্ষণে পাওয়া তথ্য হয়তো আপনাকে একটু চিন্তায় ফেলে দিতে পারে। ওই পর্যবেক্ষণে পাওয়া তথ্যগুলো দেখুন-

অধিকাংশ মানুষ দিনে অন্তত ২টি কঠিন মিথ্যা বলে
কথা এককান থেকে দুই কান হওয়ার ক্ষেত্রে এর সত্যাসত্যে কিছু বিচ্যুতি ঘটে
চাকরি বাঁচাতে শতকরা ৮০ ভাগেরও বেশি লোক মিথ্যার আশ্রয় নেয়

জার্মান পণ্ডিত নিৎসের সেই আলোচিত বক্তব্যটি এখানে স্মরণ করা যেতে পারে। তিনি বলেছেন, মিথ্যা হচ্ছে জীবনেরই একটি শর্ত বা অবস্থা। হয়তো বাউল সম্রাট লালন এ কারণেই বলেছেন- সত্য বল সুপথে চল ওরে আমার মন!

মিথ্যাচার বা প্রতারণা-প্রবঞ্চনা-জোচ্চুরি প্রমাণে পাশ্চাত্যের একজন আলোচিত পেশাদার নারী পামেলা মেয়ার। মিথ্যা যাচাই  করার ক্ষেত্রে নানান লাগসই কৌশল নিয়ে তার লেখা একটি বই আছে ‘লাইস্পটিং: প্রুভেন টেকনিক্স টু ডিটেক্ট ডিসিপশন’ নামে। পামেলার দাবি, প্রতিদিন আমরা ২০ থেকে ২০০টি মিথ্যা শুনে থাকি। একথা শুনে আপনারা হয়তো বলবেন, তিনি নিশ্চয়ই পলিটিশিয়ানদের সঙ্গে ওঠাবসা করেন! নাহলে এত মিথ্যা তিনি পান কই? আর পলিটিশিয়ানদের সঙ্গে কাজ না করে থাকলে তার এখনি উচিৎ পলিটিশয়ানদের মিথ্যা ধরার কাজে নেমে পড়া।

‘মিথ্যা-নির্ণয় কৌশল এমন এক জটিল-আধুনিক কলা, যা ছল-চাতুরি-ধোঁকাবাজিপূর্ণ গোলকধাঁধাঁর পাঁকচক্রের এই যুগজীবনে বেঁচে থাকার ক্ষেত্রে সত্যকে যাচাই করতে আপনার অবশ্যই জানা উচিৎ। আপনার প্রতিদিনকার চারপাশের দুনিয়া অনেক ভালোমানুষ সাধু-সন্ত-দরবেশ ছাড়াও ছেয়ে আছে আপনাকে প্রতারণার জালে ফাঁসাতে একপায়ে দাঁড়িয়ে থাকা ভুয়া ডিজিটাল বন্ধু, চাকরিপ্রার্থীর ফোলানো ফাঁপানে রিজিউম (জীবনবৃত্তান্ত), পক্ষপাতদুষ্ট মিডিয়া (সংবাদ মাধ্যম), বন্ধুর পরিচয়ে থাকা ছদ্মবেশী জোচ্চোর, মষেমেজে পরিবতর্ণ ঘটানো পাসপোর্ট-ব্যাংক-আইডি নাম্বার, বর্ণচোরা কুচক্রী, প্রেমিকের মুখোশের আড়ালে লুকিয়ে থাকা ভয়াবহ ধর্ষকসহ হাজারো ঠগ-বাটপারে।
উৎকর্ষের চরম সীমায় পৌঁছানো অত্যাধুনিক প্রযুক্তির এই যুগে একইসঙ্গে ঈর্ষণীয় বিকাশ ঘটেছে যোগাযোগ প্রযুক্তির। এ ‍দুয়ের কল্যাণে, বিশেষ অবস্থার সুযোগ নিয়ে মিথ্যার ঠাসবুনোটে এখন তিলকে তাল বানানো আর ‘বাঙালকে হাইকোর্ট দেখানো’ সহজ থেকে সহজতর হয়ে পড়েছে। প্রযুক্তির চরম উন্নতির এই যুগকে একই সঙ্গে মিথ্যা আর প্রতারণার এক মহামারী যুগ বললেও বাড়িয়ে বলা হয়না, বোধ করি।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad