অর্ক রায়, মালদাঃ মালদার ইংরেজবাজার পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পরিতোষ চৌধুরীর বিরুদ্ধে স্থানীয় একটি ক্লাবের লাইব্রেরীর জায়গা জবরদখল করে বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে সরব এলাকাবাসী। এ ব্যাপারে ইতিমধ্যেই নাগরিকদের পক্ষ থেকে অভিযুক্ত কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে স্থানীয় ইংরেজবাজার আর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। যদিও এই সমস্ত অভিযোগই অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত কাউন্সিলর পরিতোষ চৌধুরী, জানিয়েছেন সমস্ত অভিযোগই মিথ্যে, তাকে হেনস্থা করতেই স্থানীয় কিছু মানুষ চক্রান্তে নেমেছেন। কিন্তু তার বিরুদ্ধে হওয়া ইংরেজ বাজার থানায় লিখিত অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বিস্তারিত কিছু বলতে রাজি হননি। তার বক্তব্য বিতর্কিত জায়গাটি স্থানীয় একটি ক্লাবের তারাই সেখানে নির্মাণ কাজ করছে, কিন্তু এই নির্মাণের জন্য পৌরসভা থেকে অনুমতি বা প্রয়োজনীয় নকশা পাশ করানো হয়েছে কি? এর উত্তরে কাউন্সিলর জানান ছোট্ট একটা নির্মাণ হচ্ছে এর জন্য পৌরসভার অনুমতি বা নকশার কি দরকার। ক্লাবের ছেলেরা এই নির্মাণ করছে। নির্মাণের পর এই ঘর কাউন্সিলরের গাড়ি রাখার জন্য তাকে ভাড়া দেওয়া হবে কি না ?এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান এটা ক্লাবের সিদ্ধান্ত ক্লাবের সদস্যরা মিলিত ভাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে । কিন্তু পৌরসভার বৈধ অনুমতি বা প্ল্যান পাস না করিয়েই কিভাবে এই বেআইনি নির্মাণ চলছে এটা দেখার দায়িত্ব তো কাউন্সিলর এর ই। এই প্রশ্নে ও নীরব কাউন্সিলর। আর এখানেই প্রশ্ন উঠছে, কার স্বার্থে এই বেআইনি নির্মাণ? হঠাৎ করেই লাইব্রেরির জায়গায় কেন গ্যারেজ ঘর নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিল? কে ব্যবহার করবে এই গ্যারেজ ঘর ? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে আমরা হাজির হয়েছিলাম এলাকায়।
এলাকার স্থানীয় যুবক সৌভিক মন্ডল আমাদের অভিযোগ করলেন, দীর্ঘদিন ধরেই মালঞ্চ পল্লী ক্লাব এর এই ফাঁকা জায়গা টি পড়ে রয়েছে লাইব্রেরী হবে বলে। হঠাৎ করেই আমরা লক্ষ্য করলাম স্থানীয় কাউন্সিলর পরিতোষ চৌধুরী কিছু ছেলেকে সাথে নিয়ে এই ফাঁকা জায়গায় একটি গ্যারেজ ঘর বেআইনিভাবে করতে উদ্যত হয়েছেন। এ ব্যাপারে স্থানীয় মানুষ তাকে বারবার বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও তিনি সমস্ত বাধা উপেক্ষা করেন। অভিযোগ তিনি বলেন 'আমি কাউন্সিলার পৌরসভা আমার পকেট এ, আমাকে এই নির্মাণ বন্ধ করতে কে বাধা দেয় দেখছি।' এরপরই স্থানীয় মানুষজন ইংরেজবাজার থানায় এই অভিযুক্ত কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে গত ০২.০৯.২০১৮তারিখে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। যার প্রতিলিপি পাঠানো হয়েছে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, মালদার জেলা শাসক এবং পুলিশ সুপার কেও।
এই এলাকার অন্য এক বাসিন্দা মোহন সিংহ জানান, এই জমিটি দীর্ঘদিন ধরেই ফাঁকা অবস্থায় পড়েছিল, হঠাৎ আমাদের কাউন্সিলর একটি নতুন গাড়ি কেনার পর ই দেখি সেই জায়গায় একটি বেআইনি গ্যারেজ ঘর নির্মাণ করছেন, এ ব্যাপারে বহুবার তাকে বারণ করা হলেও তিনি শোনেননি। তাই বাধ্য হয়ে আমরা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। আর এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন কাউন্সিলর, অভিযোগ, 'যে সমস্ত ব্যক্তি এই অভিযুক্ত কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন, তাদের অনেককেই হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি মারধর ও করা হয় বলে অভিযোগ। অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য ও চাপ দেওয়া হচ্ছে, রাজি না হওয়ায় আমাকে হুমকি এবং মারধর করা হয়। মারধরের ঘটনা সমস্ত জানিয়ে ইতিমধ্যেই ৩রা আগস্ট'১৮ আমি ইংরেজবাজার থানায় অন্য একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। এখন ও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি।'
অন্যদিকে এই বেআইনি নির্মাণ প্রসঙ্গে ইংরেজবাজার পৌর সভার পৌরপ্রধান নিহার রঞ্জন ঘোষ জানান, 'অভিযোগ পেয়েছি, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। কোন বেআইনি নির্মাণ হলে অবিলম্বে পৌরসভার তরফ থেকে তা বন্ধ করা হবে। এ ঘটনায় কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধেও পৌরসভা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।'
কিন্তু স্থানীয় মানুষদের বক্তব্য কিভাবে পৌরসভার বৈধ নকশা বা অনুমোদন ছাড়াই দিনের পর দিন একটি জায়গা জবরদখল করে স্থানীয় কাউন্সিলর এর মদতে বেআইনি নির্মাণ কাজ চলছে? থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের এর পর পুলিশের ভূমিকায় বা কি? আদেও কি এই বেআইনি নির্মাণ বন্ধ করা হবে ? শাস্তি পাবে অভিযুক্তরা? নাকি রাজনৈতিক প্রভাব, আর পেশিশক্তির দাপটে, চলবে প্রকাশ্যেই দিনের আলোয় এই বেআইনি কর্মকাণ্ড? উত্তরের আশায়, ইংরেজবাজার পৌরসভা ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বহু মানুষ জন।




No comments:
Post a Comment