অর্ক রায়, মালদা: বাড়ি থেকে বিতাড়িত এইডস আক্রান্ত রোগী। প্রশাসনে অভিযোগ জানিয়েও মেলেনি সুরাহা। স্ত্রী পুত্রকে নিয়ে প্রায় এক মাস ধরে রাস্তায়, রেললাইনে ধারে আস্তানা। মিলছে না খাবার-দাবার, মিলছে না প্রতিবেশী এবং গ্রামবাসীদের সহানুভূতি ও। ঘটনাটি ঘটেছে মালদার রতুয়া থানার সামসীর গণেশ পাড়া এলাকায়। অভিযোগ, তাড়িয়ে দেয়ার পর স্ত্রী পুত্রকে নিয়ে আবার বাড়িতে ঢুকতে চাইলে, এইডস আক্রান্ত এই ব্যক্তি ও তার পরিবারের ওপর ব্যাপক মারধর চালায় পরিবারের অন্য লোকেরা। ঘটনার পর স্থানীয় থানায় এবং প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গায় লিখিত অভিযোগ করলেও, অবস্থান কোন ধরনের পরিবর্তন ঘটেনি।পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয় প্রতিবেশীদের একটা বড় অংশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আক্রান্ত ব্যক্তি কিছুদিন আগেই গুজরাটে কাজ করতে গিয়েছিলেন। সেখানেই এই মারণ রোগে আক্রান্ত হন তিনি ।তার স্ত্রী ও এক পুত্র রয়েছে ।অভিযোগ, এই ব্যাক্তি এইডস রোগে আক্রান্ত এই কথা জানার পরই ,তার বাড়ির লোকেরা তার উপর নির্মম অত্যাচার শুরু করে, এমনকি মারধরের পরে তাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। ফলে প্রায় এক মাস ধরে এইডস আক্রান্ত রোগী এবং তার পরিবারের আশ্রয় এখন রাস্তার ফুটপাত, স্টেশন চত্বর। কোন দিন খাবার জোটে কোন দিন জোটে না।
কি ব্যাপারে স্থানীয় মানুষ জন এইডস রোগ সম্পর্কে মানুষের ভয় এবং সচেতনতা অভাবকেই দায়ী করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা বিমল রায় অভিযোগ করেছেন, "মূলত সচেতনতা এবং এই রোগ সম্পর্কে মানুষের আতঙ্কের কারণেই এই ধরনের ঘটনা ঘটছে। অত্যন্ত অমানবিক আচরণ করা হচ্ছে এই পরিবারটির সঙ্গে। পরিবারটির অভিযোগ, বারবার প্রশাসনের সাহায্য চাইলেও এখনো পর্যন্ত কোন ধরনের সাহায্য এই পরিবারটি পায়নি। এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের।'
স্থানীয় মানুষের এই বক্তব্যের সমর্থন মিলেছে প্রশাসনিক কর্তাদের গলাতেও। রতুয়া- ১ নম্বর ব্লকের জয়েন বিডিও শুভঙ্কর আচার্য জানিয়েছেন, "মূলত কুসংস্কার এবং সচেতনতার অভাবেই এই পরিবারের লোকেরা এবং স্থানীয় কিছু মানুষ এই ধরনের কাজ করছেন ।এদের মধ্যে সচেতনতা এবং এইডস রোগ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণার অভাব রয়েছে। প্রশাসনের তরফে এই পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করা হবে ।প্রয়োজনে এলাকার মানুষকে সচেতন করতে শিবির ও চালাবো আমরা।"
অন্যদিকে প্রশাসন এবং স্থানীয় মানুষের এই বক্তবের মাঝেও বহু মানুষকে ছুঁয়ে গেছে, ভিন রাজ্যে কাজ করতে গিয়ে, এই এইডস রোগে আক্রান্ত মানুষটির করুণ আর্তিটি,'আমি ঘরে ফিরতে চাই, পরিবারের সকলকে নিয়ে সবার মতোই সুস্থ স্বাভাবিক ভাবে বাঁচতে চাই, আমাকে একটু সুযোগ করে দিন।'
রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগে ঘটে চলা তথাকথিত উন্নয়ন, সংস্কার আর লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে সচেতনতামূলক প্রচার ,এর পরেও একটা রোগ সম্পর্কে মানুষের এই কুসংস্কার, অজ্ঞতা নিঃসন্দেহেই প্রদীপের নিচে অন্ধকার এর মতই ঘটনা। এখন দেখার, মানুষের ভালোবাসা আর প্রশাসনের একটু সহযোগিতায় এই আক্রান্ত এবং তার পরিবার, নিজেদের ঘর পরিবার-পরিজন প্রতিবেশীদের আবারো কত দিনে আগের মত করে ফিরে পান। আমরা অপেক্ষায় থাকলাম, আর শুধু অপেক্ষা নয়, আমাদের প্রতিজ্ঞা, আমরা এই আক্রান্ত পরিবারটিকে তাদের ঘরে ফেরাতে সমস্ত ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করব, যতক্ষণ না এই পরিবারটি তাদের অধিকার ফিরে পাচ্ছেন ততক্ষন এদের পাশে থাকবো আমরা ।আপনিও নিশ্চয়ই থাকবেন আমাদের এই লড়াই এ ?

No comments:
Post a Comment