ইতিহাসের কিছু ভয়ঙ্কর নারী - Breaking Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Monday, 24 September 2018

ইতিহাসের কিছু ভয়ঙ্কর নারী



যুগে যুগে নারীরা পুরুষের পাশাপাশি থেকে মানবসভ্যতা এগিয়ে নিতে অনন্য অবদান রেখেছে। প্রতিটি ধর্ম নারীদের অধিকার ও সম্মানের কথা বলে।
নারীদের অধিকারবঞ্চিত করা আইনের চোখে অপরাধ। তারা কোমল হৃদয়ের মানবের উদাহরণ। কিন্তু এই পৃথিবীতে এমনও নারী রয়েছেন যাদের নৃশংসতা ও হিংস্রতা মনোবিজ্ঞানীদের কাছে বিস্ময় হয়ে রয়েছে। তাদের গল্প রাতের ঘুম কেড়ে নেয়। পুরনো ইতিহাস ঘেঁটে এমনই বেশ কয়েকজন নারীর কথা তুলে ধরা হচ্ছে। তাদের গা শিউরানো ইতিহাস আপনাকে চমকে দেবে।
মারিয়া সোয়ানেনবার্গ: এই ডাচ সিরিয়াল কিলারের জীবনকাল ছিল ১৮৩৯-১৯১৫ পর্যন্ত। নিজের পরিবারের সদস্যসহ ডজন ডজন খুন করে গেছেন তিনি। ধারণা করা হয়, তার হাতে খুন হয় ৬০ জনের বেশি মানুষ।
১৮৮০ এর দশকে বিষাক্ত আর্সেনিকের প্রয়োগে একের পর এক মানুষ মারতে থাকেন তিনি। অসুস্থ হয়ে পড়েন ১০২ জন। মারা যান ২৭ জন। নিজের মাকেও মেরে ফেলেছিলেন আর্সেনিকের প্রয়োগে।
আরও পড়ুন: যে ভাবে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছিল সাদ্দামকে! (ভিডিও সংযুক্ত)
ওয়ানেতা হোইয়াট: নিউ ইয়র্কের এই মা বেঁচেছিলেন ১৯৪৬-১৯৯৮ পর্যন্ত। ১৯৬৫-১৯৭১ সালের মধ্যে তিনি নিজের ৫ সন্তানকে হত্যা করে। প্রথমদিকে এই শিশুদের মৃত্যুর কারণ হিসেবে ‘সাডেন ডেথ সিনড্রোম’ মনে করা হয়। কিন্তু ১৯৯২ সালে ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি এই নারীর অশুভ মনের খবর পান। পরে ১৯৯৪ সালে জিজ্ঞাসাবাদের মুখে তিনি অপরাধ স্বীকার করেন।
হেলেনে জেগাদো: এই ফ্রেঞ্চ নারী বেঁচেছিলেন ১৮০৩-১৮৫২ সালের মধ্যে। তিনিও আর্সেনিকের মাধ্যমে ৩৬ জনেরও বেশি মানুষকে হত্যা করেন। বিশেষজ্ঞরা তাকে মানসিক বিকারগ্রস্ত বলে মনে করতেন। পরে তাকে ১৮৫২ সালে গিলোটিনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
গেসচে গটফ্রাইড: এই জার্মান সিরিয়াল কিলারকে জনসমক্ষে ১৮৩১ সালে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। এই নারী বিষ প্রয়োগে তার সন্তানদের, বাবা-মাকে, তার দুই স্বামী এবং এক বন্ধুকে হত্যা করেন। তিনি সেবিকা হিসেবে খুবই ভালো ছিলেন। তার এই হত্যাকাণ্ডের খবর প্রকাশের আগে সবাই তাকে ‘ব্রিমেনের দেবদূত’ বলে ডাকতেন। যাদের সেবা করতেন তাদের খাবারের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে মারতেন গেসচে।
অ্যামেলিয়া ডাইয়ের: ব্রিটেনের এই নারীকে একটি খুনে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। কিন্তু তিনি শত শত শিশুকে মেরে ফেলিছিলেন। একটি শিশু হাসপাতালে কাজ করেতেন। সেই সুবাদে শিশুদের কাছে পেতেন। বিভিন্ন তদন্তে ধারণা করা হয়, তার হাতে ৪০০ শিশু প্রাণ হারায়। ইতিহাসের ভয়ংকরতম সিরিয়াল কিলারদের মধ্যে তিনি একজন। ১৮৯৬ সালে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
দারিয়া সালতাইকোভা: রাশিয়ার সম্ভ্রান্ত পরিবারের এক বিকৃত মস্তিষ্কের নারী। এই নারী বেঁচে ছিলেন ১৭৩০-১৮০১ সাল পর্যন্ত। তিনি শতাধিক দাস-দাসীকে হত্যা করেন। তাকে প্রায় সময় হাঙ্গেরির ‘ব্লাড কাউন্টেস’ এর সঙ্গে তুলনা করা হয়।
এলিজাবেথ বাথোরি: এই নারী ইতিহাসে ‘ব্লাড কাউন্টেস’ নামে কুখ্যাতি পায়। অভিজাত বংশের এই নারী ১৩৮টিরও বেশি খুনের পেছনে রয়েছেন। টানা ৬ বছর ধরে তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলে। বেরিয়ে আসে তার রোমহর্ষক জীবনের কথা। তিনি ৩৮ জন দাসীকে নিষ্ঠুর নির্যাতনের পর হত্যা করেছিলেন। ধরা পড়ার পর বাকি জীবন জেলে কাটে তার।
১৫৬০-১৬১৪ সালের জীবনকাল তার। তিনি এতটাই কুখ্যাত ছিলেন যে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস বাথোরি ইতিহাসের ভয়ংকরতম নারী হত্যাকারী হিসেবে শনাক্ত করে। বিভিন্ন তদন্তের পর বা হয়, তার হাতে আসলে সাড়ে ৬ শোর বেশি মানুষের জীবন শেষ হয়।
অনেকেই বলতেন, তিনি আসলে কুমারী দাসীদের রক্তে গোসল করতেন। এভাবে তার নিষ্ঠুরতা লোকগাথায় ছড়িয়ে পড়ে। ড্রাকুলার সঙ্গে একমাত্র তাকেই তুলনা করা হয়।
সূত্র : এনওয়াই ডেইলি নিউজ

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad