অতিরিক্ত ওজনের জন্য বেশ লজ্জাই পাচ্ছিলেন টিসা পুলিন। কিন্তু কি করবেন বুঝতে পারছিলেন না। পাক্কা ১৮ স্টোন (২৫২ পাইন্ড) ওজন ছিল তার। প্রেমিক অ্যালেস্টার তিন বছর ডেট করার পর বিয়ের প্রস্তাব দেন পুলিনকে। তখনই একটা কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে নেন পুলিন। বিয়েতে কোন ভাবেই তিনি নিজেকে এমন কুৎসিতভাবে উপস্থাপন করতে চাইছিলেন না।
অবশেষে সিদ্ধান্তটা নিয়েই ফেললেন তিনি। প্রিয় বাড়িটি বিক্রি করবেন বলে জানিয়ে দিলেন প্রেমিককে। পুলিনের এ সিদ্ধান্তকে পাগলামি ছাড়া অন্যকিছু মানতে নারাজ ছিল তার প্রতিবেশিরা। কিন্তু পুলিনের ভাষ্য ছিল, ‘আমি রীতিমতো আমার ওজন নিয়ে সবার কাছে লজ্জা পেতাম।
এছাড়া এত ওজন বয়ে বেড়ানোও খুব কষ্টকর ছিল আমার জন্য। আমার বাড়িতে আমি সুন্দর একটা বাগান করেছিলাম। খুব প্রিয় ছিল সেটি। কিন্তু ওজন কমানোর জন্য বাড়ি বিক্রির মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল আমাকে। আমি চাইছিলাম যে কোন কিছুর বিনিময়ে হোক বিয়েতে যেন আমাকে সুন্দর দেখায়।’
৩৪ বছর বয়সী পুলিন একটি ট্যাক্সি ফার্মে রিসিপশনের কাজ করতেন। ২০০৩ সালের এক বিকেলে বয়ফ্রেন্ড অ্যালেস্টার তার অফিসের ল্যান্ড ফোনে পুলিনকে ভালো লাগার বিষয়টি জানান।। পুলিনের অফিসে ওই একটি ফোনই তখন ছিল। অ্যালেস্টারের ফোন পেয়ে পুলিন এত বেশি আবেগপ্রবণ হয়ে গিয়েছিলেন যে বিয়ের দিনে তাকে কেমন দেখাবে এ নিয়ে ভাবনা যেনো আরো বেড়ে গিয়েছিল তার।
২০০৬ সালে পুলিনকে বিয়ের প্রস্তাব দেন অ্যালেস্টার। অবশেষে ২০০৬ সালেই বেলজিয়ামের একটি হাসপাতালে ওজন কমানোর জন্য প্লাস্টিক সার্জারি করাতে যান পুলিন। কিন্তু এত টাকা কোথা থেকে আসবে? কারণ এ তো এক দুই হাজার টাকার ব্যাপার নয়।
কি আর করা প্রিয় বাড়িটি বিক্রির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন তিনি। বাড়িটির দাম হাঁকে সবাই ৮০,০০০ হাজার ডলার। অবশেষে ক্রেতার কাছে ৫০,০০০ হাজার টাকায় বাড়িটি বন্ধক রেখে টাকা নিয়ে সোজা হাসপাতালে যান পুলিন। প্রথমবারেই অপরেশনে সফল হন পুলিন। ২০০৮ সালে দ্বিতীয়বারের মত অপারেশন থিয়েটারে যান পুলিন।
চর্বি কমানোর জন্য কয়েক ধাপে অস্ত্রপচার হয় তার। আর সফলও হন তিনি।
পুলিন বলেন এটা আসলেই অনেক কষ্টসাধ্য একটি ব্যাপার। তারপরেও শুধুমাত্র ওজন কমানোর জন্য আমি এ কষ্ট সহ্য করেছি।
বাড়ি বিক্রি করে কোথায় যাবেন তিনি? অবশেষে স্বামী অ্যালেস্টারের লিঙ্কনশায়ারের স্পেলডিংয়ের বাড়িতে ওঠেন পুলিন। আর বিয়েতে পূর্বের চেয়ে অনেক সুন্দর লাগছিল পুলিনকে। এতেই মহাখুশি সে। আর যাই হোক স্বামী অ্যালেস্টারের সঙ্গে তাকে মানিয়েছে তো!

No comments:
Post a Comment