মৃন্ময় নস্কর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: জেল ফেরত আসামী প্রসেনজিত মণ্ডলের গনপিটুনিতে মৃত্যুকে ঘিরে এদিনও গ্রামের মানুষ সরব। তাঁদের দাবি প্রসেনজিত অত্যাচারি ছিল। তার অত্যাচারে গ্রামবাসীরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন। এলাকার মহিলা থেকে শিশু কেউ–ই তার অত্যাচারের হাত থেকে বাঁচতেন না বলে অভিযোগ। যখন যাকে ইচ্ছে হত তাকেই মারধর করত প্রসেনজিত বলে অভিযোগ। বৃহস্পতিবার দুপুরেও তেমনই প্রতিবেশি স্বপন খাঁয়ের বাড়িতে ঢুকে প্রথমে ভাঙচুর চালায় প্রসেনজিত। তারপর ঘুমন্ত স্বপনকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কোপায়। স্বপন আটকাতে গেলে তার হাতের আঙুল কেটে পড়ে যায়। এরপরেই প্রসেনজিত তার গলায় ও পেটে ধারাল অস্ত্রের আঘাত করে। সেই সময় স্বপনের মেয়ে লাবন্য ঘরে আসে ওই দৃশ্য দেখতে পায়। তার চিৎকারে প্রতিবেশিরা ছুটে আসেন। তাতেই প্রসেনজিত এলাকা ছেড়ে পালায়। তবে কি কারনে প্রসেনজিত তার প্রতিবেশি স্বপনের ওপর আক্রমন চালিয়েছে, তা স্পষ্ট নয় পুলিসের কাছে। তার পরিবারের মতে প্রসেনজিত মানসিক অসুস্থ। আর তার সেই অসুস্থতা বাড়লেই এমন আচরন করত প্রসেনজিত। এর আগেও একবার এক চানাওয়ালাকে বাড়িতে ডেকে প্রসেনজিত তাকে কুপিয়েছিল বলে অভিযোগ।
এমন আরও অনেক ঘটনা রয়েছে তার বিরুদ্ধে। একাধিকবার তার নামে সোনারপুর থানায় অভিযোগ হয়েছে। কখনও খুন, আবার কখনও ডাকাতি। পুলিসের তাকে গ্রেপ্তারও করেছে কয়েকবার। কিছুদিন আগেই একটি খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত থাকার কারনে তাকে জেল যেতে হয়েছিল। দু দিন আগেই জেল থেকে ছাড়া পেয়ে প্রসেনজিত বাড়ি ফেরে। তারপরেই বৃহস্পতিবার দুপুরে পেশায় দিন মজুরের কাজ করা স্বপন খাঁয়ের বাড়িতে ঢুকে তাকে কোপায়। স্বপন আশঙ্কাজনক অবস্থায় পার্ক সার্কাসের একটি নার্সিং হোমে চিকিৎসাধীন। ঘটনার পরই বিকালে প্রসেনজিতকে খুঁজে বের করে গনপিটুনি দিয়ে মেরে ফেলেন ক্ষুব্ধ গ্রামের মানুষ। পুলিস তাকে উদ্ধার করলেও বাঁচাতে পারে নি। এদিন তার দেহ ময়না তদন্তে পাঠানো হয়েছে। এলাকায় উত্তেজনা থাকায় পুলিস পিকেট বসানো হয়েছে। পুলিস এই ঘটনায় ৩০৪ ধারায় মামলা শুরু করেছে।

No comments:
Post a Comment