এক রকম শখের বসেই প্রায় ১৩ লাখ টাকা (১০ হাজার পাউন্ড) সার্জারিতে খরচ করে পুরুষ থেকে নারী হয়েছিলেন ম্যাথু। নাম পরিবর্তন করে চেলসিয়া অ্যাটনলি ধারণ করেন তিনি।
কিন্তু নারীর জীবনের নানা বিড়ম্বনার অভিযোগ এনে সার্জারি করে ফের পুরুষ লিঙ্গে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন তিনি। নারী থেকে পুরুষ লিঙ্গে ফিরে যেতে তাকে ফের প্রায় ১৮ লাখ টাকা (১৪ হাজার পাউন্ড) ব্যয় করতে হচ্ছে।
চেলসিয়া (৩০) যিনি জন্মগতভাবে একজন পুরুষ ছিলেন। তার নাম ছিল ম্যাথু। কিন্তু নারী হওয়ার পর মেকআপ ও হিল পড়তে পড়তে তিনি এ রকম বিরক্ত ও ক্লান্ত। পোশাকে-আশাকে নারী হলেও বৈশিষ্ট্যগতভাবে তার মধ্যে নারীর কোনো বিষয় লক্ষ্য করতে পারছেন না তিনি।
তাই তিনি মনস্থির করেছেন, একজন নারী চেয়ে পুরুষ হয়ে বেঁচে থাকাই ভাল। এ ছাড়া নিজের বেড়ে ওঠা ইংল্যান্ডের ডার্বিশায়ারের চেস্টারফিল্ডও তার পরিচয় নিদিষ্ট করতে পারছেন না তিনি। এক রকম এ জন্য সংগ্রাম করতে হচ্ছে তাকে।
বিখ্যাত মডেল কেটি প্রাইজকে দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে ছেলে থেকে মেয়ে হওয়ার বাসনা তার মধ্যে প্রবল হয়ে ওঠে। এর মাধ্যমে তিনি নিজেকে বিউটি কুইন হিসেবে পরিণত করতে চেয়েছিলেন। তাই চিকিৎসকদের কাছে ধন্না দেন তিনি।
অবশেষে ২০০৭ সালে সার্জারি করে পুরুষ থেকে নারীতে রূপান্তরিত হন। কিন্তু এর সাত বছর পর ফের পুরুষে ফিরে আসতে চাচ্ছেন তিনি। দাতব্য প্রতিষ্ঠান থেকে সাহায্যপ্রাপ্ত চেলসিয়া একটি ম্যগাজিনকে জানান, শুধু কৃত্রিম বেস্ট লাগালে আর মেয়েদের পোশাক পড়লেই নারী হওয়া যায় না। এ জন্য আলাদা জিনগত কিছু উপাদান লাগে।
তাই সার্জারির মাধ্যমে শরীর থেকে বেস্ট কমানো ও পুরুষ লিঙ্গ স্থাপনের জন্য মোট ১৪ হাজার পাউন্ড খরচ করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ তিনি। আর বিশাল এ অর্থ জোগাড় করার লক্ষ্যে কাজ করছেন তিনি।
লন্ডনে বসবাসরত চেলসিয়া আরো জানান, আমার অভিষ্ট লক্ষ্য ছিল একজন নারী হওয়া কিন্তু কোনো ধরনের সার্জারিই আমাকে পুরোপুরি নারী করে তুলতে পারিনি। আমি এক রকম মিথ্যা নিয়ে বেঁচে আছি। আমি মেকআপ করি, হিল পরি কিন্তু এরপরও আমাকে যথার্থ নারী মনে হয় না।
এ নিয়ে আমি দুশ্চিন্তাই থাকি, উদ্বিগ্নতা আমার নিত্যদিনের সঙ্গী। তাই এ থেকে আমি মুক্তি পেতে চাই। আমি জন্মগতভাবে পুরুষ ছিলাম আর সেটি নিয়েই বাঁচতে চাই।

No comments:
Post a Comment