'ভিক্ষুক' হল এক এমনই শ্রেণি যা সমাজবদ্ধ জীবের থেকে আলাদা, থুরি আলাদা করেই দেখা হয়। প্রতিনিয়ত জীবনযাপনের মধ্যে ভিক্ষুকের জীবনকাহিনীর বিষয়বস্তু কখনই আমাদের মনে আসে না। অথচ প্রাত্যহিক জীবনে পথে-ঘাটে-বাজারে হাত পেতে ভিক্ষা করতে প্রায়শই দেখা যায়। হয়ত দয়া হলে কেউ দেয় ১০ টাকা, আবার কেউ দেয় ২ টাকা,অাবার ভিক্ষুক দেখলে পিছন ঘুড়ে দাঁড়িয়ে পড়া মানুষদেরও খুব দেখতে পাওয়া যায়।কথায় আছে ভিক্ষা করে কেউ স্বভাবে,আবার কেউ অভাবে।
ঠিক এরকম সময়েই বাংলার টলিউডে আর্ট ফিল্ম জগতে আগমন হতে চলেছে 'Beggars are not losers' ছবিটি। জীবনের বাস্তবতায় ভরপুর এক অনস্বীকার্য ছবি, যার শুভমুক্তি পেতে চলেছে ১৬ অক্টোবর,সন্ধ্যে ৬টায়। মা দুর্গা দেবীর আগমনীও ঠিক একই দিনে।ইতিমধ্যে ছবিটি বাংলার বাইরেও বিভিন্ন জায়গায় বেড়িয়েছে।পাশাপাশি স্টার লাইট থেকে শুরু করে ন্যাশনাল বহু অ্যাওয়ার্ডও পেয়েছে। এই ছবিটি উদ্দেশ্য তথা দর্শকদের প্রতি বার্তা একটাই ভিক্ষুক, কিম্বা গরীব তাদের পরিচয় ছোট নয়,হেও করা নয়! তাদের পরিচয় একটাই তারা মানুষ। দামী গাড়ি, দামী জামা কাপড় পরলেই মানুষ হওয়া যায় না।দামী মনটাই যোগ্য মানুষের একমাত্র পরিচয়। ভিক্ষুকদেরও এক সুন্দর জীবন রয়েছে, মন রয়েছে, অনুভূতি রয়েছে, যা চার চাকা গাড়ির ভিতরে পায়ের উপর পা দেওয়া ম্যাডাম-স্যারদের চোখে পড়ে না। যা চোখে পড়ে না আমাদের নিষ্ঠুর সমাজের।
এই ছবিটি স্টারলাইট পিকচার প্রোডাকশনের প্রযোজক বিকাশ সাহার হাত ধরে ১৬ অক্টোবর শুভমুক্তি পেতে চলেছে। তিনি নবারুণ সংঘ সার্বজনীন পূজোর উদ্বোধনে আসছেন। দূর্গাপূজার টলিউডের নয়া চমক 'Beggars are not losers'.
পাশাপাশি এবারে নবারুণ সংঘ সার্বজনীন পূজোর বারো বছর পূর্তিতে রয়েছে চমক। কেননা, যেখানেই পূজো থিম বৃদ্ধাশ্রম সেখানে তো অভিনবত্ব থাকবেই। বাবা মা কি শুধুই বোঝা? একটা জন্মদাত্রী মা তার বাচ্চাকে দশ মাস গর্ভে ধারণ করে, নিজে না খেয়ে আস্তে আস্তে পরিশ্রম করে বড় করে। বড় হতে না হতেই অবহেলা। কেন এই সব কিছু নিয়ে বিকাশ সাহা নতুন চমক নিয়ে আসছে? রিলিজের মুখে রয়েছে তাদের ছবি " বেগার্স আর নট লুসার্স" সঙ্গে থাকছে তাদের পরবর্তী ছবি " ডেসটিনি ", ছবির মূল মর্মার্থ "বৃদ্ধাশ্রম "।
'Beggars are not losers' ছবিটির পরিচালক সোহেল সাহা বলেন, তিনি হলেন বাস্তববাদী পরিচালক।তাঁর ছবিতে সবসময়ই বাস্তবতাকে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়। তিনি এই ছবিটির মাধ্যমে ভিক্ষুকদের জীবনের পরিস্থিতি, সংকটতা, আত্মসম্মান, তাদের শখ-আহ্লাদ, চেতনা, মন, অনুভূতি সব প্রকাশ্যে ব্যক্ত করেছেন।এবং দর্শকদের বাস্তবয়তা সম্পর্কে সচেতন করার চেষ্টা করেছেন।ভেদাভেদ-ভাগাভাগি-উঁচু-নিচু সব ভুলে প্রকৃত মানুষ হওয়ার বার্তা তিনি এই ছবিটির মধ্যে দিয়েছেন।
সোহেল সাহা উদাহরণ দিয়ে বলেন, আমাদের জাতীয়তা বিবেক এতটাই নেমে গেছে যে রাস্তায় জাতীয় পতাকা ও ১০০ টাকা পড়ে থাকলে, আমরা জাতীয় পতাকা না তুলে আমরা ওই ১০০ টাকাটাই তুলব।

No comments:
Post a Comment