কয়েক কোটি টাকা নিয়ে চম্পট সংস্থার কর্ণধারের - Breaking Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Thursday, 13 September 2018

কয়েক কোটি টাকা নিয়ে চম্পট সংস্থার কর্ণধারের


নোটবন্দীতে ভরসা জুগিয়েছিল। তাতেই আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ। ব্যবসা বাড়িয়ে কয়েক কোটি টাকা নিয়ে চম্পট দিলো সংস্থার কর্ণধার নারায়ণ গিরি । যদিও সংস্থাটির উৎপত্তি সারদা কান্ডের অনেক আগেই।২০০৬সালে টিকাশি বাজারে ছোট্ট একটি ঘর ভাড়া নিয়ে শুরু হয়েছিলো টিকাশি প্রগতি মিশন নার্সারি বিদ্যালয়।এর কয়েকবছর বিদ্যালয়টি চালু হওয়ার পর খুলে ফেলা হয় টিকাশি প্রগতি ফার্মার্স ক্লাব নামে একটি সংস্থা । এই সংস্থাটি সোসাইটি অ্যাক্ট অনুযায়ী রেজিস্ট্রি হওয়ার পর ণার্বার্ড এর বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করে । এরফলে স্থানীয় মানুষজন ভরসা পেতে শুরু করে । ততকালিন তৃণমূল এর গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য বাদল পাল এই সংস্থাকে নার্সারি বিদ্যালয় করার জন্য ১২ডেসিমেল জায়গা দান করে ।এখানেই গড়ে ওঠে পাকার দোতলা বাড়ি ।টিকাশি প্রগতি মিশন বিদ্যালয় এর পঠন পাঠন এখানে চলতে থাকে । এর পাশাপাশি কোচিং সেন্টার , আর্ট স্কুল ও চালু হয়।সংস্থার নামে স্থায়ী বাড়ি , জমি দেখিয়ে শুরু হয় ব্যাংকিং পরিসেবা । ব্যাংকের থেকে অধিক সুদ দেওয়ায় গ্রাহক পেতে অসুবিধে হয়নি। তেমনি সুদের হার বেশি হলেও যেকোন সময়ে ধার চাইলে গ্রামবাসীরা সহজেই পেয়ে যায়। প্রথমদিকে শুধু সেভিংস ও অল্প ঋণ দিত এই সংস্থা। এরপরে রেকারিং ও ফিক্সড ডিপোজিট চালু হয় । স্থানীয় এলাকায় বেশ জমেও উঠেছিলো।এমনকি সারদা কান্ডের পরও গ্রাহকদের টাকা সুরক্ষিত থাকায় ভরসা পায় স্থানীয়রা।বছর চারেক পর ২০১৬সালে নোটবন্দীর সময় ব্যাংকের ঝামেলা এড়াতে এখানে ব্যাপক টাকাও জমা করে এলাকাবাসি। এরপর থেকে ব্যবসা বাড়তে শুরু করে । সমস্যা কয়েকমাস আগে থেকেই শুরু হয় । কয়েকজন এর টাকা ফেরত দিতে সমস্যাও হয় । কারও কারও চেক বাউন্স হয় । এনিয়ে বিস্তর অভিযোগ ছিলো । হটাতই সপ্তাহখানেক আগে বেপাত্তা হয়ে যায় । এরপরই স্থানীয়দের সন্দেহ হয় । রবিবার বিদ্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ দেখায় আমানতকারীরা । সংস্থার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আমানত কারীরা অভিযোগ দায়ের করে। এরপরেই বন্ধ করে দেয় প্রগতি মিশন স্কুল । যার জেরে এখন সমস্যায় পড়েছেন দুশো স্কুল পড়ুয়া ।স্থানীয় অভিভাবক প্রতিভা মাইতি বলেন , স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে । কয়েকমাস পরেই পরীক্ষা । অন্য কোথাও ছেলেকে ভর্তি করতে পারছি না । ট্রান্সফার সার্টিফিকেট ছাড়া অন্য স্কুলও ভর্তি নিচ্ছে না। এদিন কয়েকজন পড়ুয়া সহ অভিভাবকরা এই বিক্ষোভে সামিল হয় । স্থানীয় আমানতকারী প্রভাত পন্ডা বলেন , বাড়ির পাশে নারায়ণ গিরি এমনিতে ভালো ছেলে আমরা জানি । এছাড়া এতবড় প্রতিষ্টান করেছে , তাই টাকা রেখেছিলাম । একবছরের জন্য প্রায় সাতলাখ টাকা রেখেছিলেন । কিন্তু সংস্থা কর্ণধার বেপত্তা হওয়ায় এখন তিনি চরম সংকটে। স্থানীয় ঝুমা জানা নামে এক বয়স্ক মহিলা জানান , ১০০দিনের কাজ করে প্রায় সত্তর হাজার টাকা রেখেছিলেন । সংস্থার চট গুটিয়েছে শুনে তার মাথায় হাত । এমনকি অভিযুক্ত ব্যক্তির প্রতিবেশী বিজয় পাল জমি বিক্রি করে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা একবছরের ফিক্সড ডিপোজিট করেছিলেন । সংস্থার কর্মকর্তা চম্পট দিয়েছে শুনে তিনিও হতবাক । শুধু এইকজন নয় , গোটা গ্রামের ছোটো বড় ব্যবসায়ী থেকে খেটে খাওয়া লোকজন মিলিয়ে পাঁচশোর ও বেশি আমানতকারী প্রতারিত হয়েছেন বলে জানান । এই বিষয়ে স্থানীয় নব নির্বাচিত সদস্য গৌরাঙ্গ সাউ জানান , বিষয়টি ব্লক নেতৃত্ব ও বিধায়ক রনজিত মন্ডলকে জানিয়েছি । প্রাথমিক ভাবে অনুমান পাঁচ থেকে সাত কোটি টাকা নিয়ে চম্পট দিয়েছে সংস্থার সম্পাদক নারায়ণ গিরি। এত্জ্নের টাকা কিভাবে তারা ফেরত পাবে সেবিষয়ে প্রসাশনের নজরেও এনেছি । রবিবার আমানতকারীরা বিদ্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ দেখনোর পাশাপাশি অভিযুক্ত নারায়ণ গিরির গ্রেপ্তার এর দাবী জানিয়েছেন।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad