গণেশ চতুর্থীর ব্যাঞ্জন বাহার - Breaking Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Tuesday, 11 September 2018

গণেশ চতুর্থীর ব্যাঞ্জন বাহার


ভাদ্রমাসের শুক্লা চতুর্থীতে শুরু হয় শ্রীগণেশের পবিত্র জন্মোৎসব উদযাপন। দশ দিনের এই গণপতি উৎসব শেষ হয় শুক্লা চতুর্দশীতে। ভাদ্র মাসের শুক্লা চতুর্দশীকে বলা হয় ‘অনন্ত চতুর্দশী’। যেমন এই বছর পুজো গণেশ জন্মজয়ন্তী শুরু হচ্ছে ১৭ সেপ্টেম্বর। শেষ হচ্ছে ২৭ সেপ্টেম্বর। পারিবারিক পুজোগুলি ৫ দিনের দিন গণেশ মূর্তি বিসর্জন দেওয়ার রীতি। তবে, বারোয়ারি পুজোমণ্ডপগুলিতে দশ দিনব্যাপী জমকালো গণেশ পুজো শেষে ‘অনন্ত চতুর্দশীর’ দিন জাঁকজমকপূর্ণ নির়ঞ্জন যাত্রায় সামিল হন মরাঠার জনগণেশ।
‘গণপতি বাপ্পার’ মর্তে আগমন শুভক্ষণে কাড়া-নাকাড়া বাদ্য ও শিঙা ধ্বনির সঙ্গে উচ্চারিত হয় শাশ্বত গণেশ মন্ত্র। পুজোর নৈবেদ্য উপাচারে নিবেদিত হয় ২১টি দুব্বো ঘাস, গুড় অথবা মিছরি, ২১টি লাল রভা ফুল, ২১টি লাল রঙা ফুলের মালা, ত্রিপত্র, রক্তচন্দন ইত্যাদি। সমস্ত রকম অর্ঘ নিবেদনে আরতির অনুষঙ্গে ধ্বনিত হয় প্রার্থনা মন্ত্র—

‘‘জয় গণেশ জয় গণেশ
জয় গণেশ দেবা।
মাতা জাকি পার্বতী পিতা মহাদেবা।।
একদন্ত দয়াবন্ত চার ভূজাধারী।
মাথে সিঁন্দুর সোহে মুসে কী সবারী।।
দীনন কি লাজ রাখো শম্ভু পুত্রয়ারী।
মনোরথ কো পুরা করো
জয় বলিহারী।।’’

গণেশ চতুর্থীর পুরো দশ দিন মরাঠি পরিবারের পাকশালায় শুধুমাত্র নিরামিষ ব্যাঞ্জন। পুজো চলাকালীন মরাঠি পরিবারে প্রথা মতো বাড়িতেই পুরণপোলি, মোদক, সাবুদানা খিচরি, রাজগিরা পুরি, আলু মেথি, আমভাত বরণ, মিঠি চাওল, মুগ ডাল বা হালোয়া, পাথোলি, ভাকরি রোটি, গাজর কা হালোয়া, তিল বা লাড্ডু, উসল, বেসন কা লাড্ডু, কাজু কে বরফি, বাওয়া লাড্ডু, খালিপেঠ, রাগাভস, পুলিওডারাই, মোচিতুর, পায়েসল ইত্যাদি ব্যাঞ্জন যথেষ্ট উৎসাহ উদ্দিপনায় প্রস্তুত ও পরিবেশিত হয়।
গণেশ চতুর্থীর দ্বিতীয় দিনে মরাঠি পরিবারের মহিলারা প্রথা মতো ‘হরতালিকা ব্রত’ পালন করেন। হরতালিকা ব্রত উপলক্ষে মহিলারা সাধারণত দু’ধরনের ব্রত রাখেন। কেউ কেউ রাখেন সম্পূর্ণ ‘নির্জলা উপবাস’। আবার অনেকে ‘ফলাহার উপবাস’ করেন। ব্রত শেষে মহিলারা তিলের লাড্ডু, গজক, রিওয়ারি ইত্যাদি মিষ্টান্ন গ্রহণ করেন। গণেশ পুজোর তৃতীয় দিনে মরাঠি পরিবারে জোয়ারের আটা দিয়ে ‘ভাকরি রোটি’ নামের এক ধরনের বিশেষ রুটি প্রস্তুত করেন। এবং যে কোনও ‘সবুজ’ রঙা সবজি যেমন পালং শাক কিংবা মেথি শাক দিয়ে ‘হরা সবজি’ রাঁধেন। প্রথা মতো এই ‘হরা সবজি’ ‘শ্রীগণেশ-গৌরীকে প্রসাদ হিসেবে ‘ভোগ’ দেওয়া হয়। ‘গণেশ-গৌরী’ পুজো সমাপনের পর সেই ‘ভোগ’ পরিবারের প্রত্যেকে গ্রহণ করেন। পুজোর কটা দিন মরাঠি পাকশালায় রকমারি নিরামিষ ব্যাঞ্জন।
আমাদের বাঙালিদের মধ্যেও যেমন বিশেষ উৎসব-উদযাপনে ঐতিহ্যবাহী কিছু ব্যাঞ্জন প্রস্তুতের রীতি আছে—যেমন পৌষ পার্বণে পিঠেপুলি। সরস্বতী পুজোর দিন খিচুরি, শ্রীপ়ঞ্চমীর পরের দিন অরন্ধন। সে দিন বাসি ঠান্ডা ভাত ও আগের রাতে রান্না করা ‘গোটা সেদ্ধ’ খাওয়ার চল আছে এদেশীয় পরিবারে। আবার পূর্ববঙ্গীয়রা শ্রীপঞ্চমীর দিন ‘জোড়া ইলিশ’ খাবেনই। জৈষ্ঠ মাসে জামাইষষ্ঠী উপলক্ষে নানা রকম গ্রীষ্মকালীন রসালো ফল। ভাদ্র মাসে সুস্বাদু তালের বড়া ও তালের নানান মিষ্টান্ন। রথের দিন পাপড় ভাজা। দুগ্গাপুজোর ষষ্ঠী ও অষ্টমীতে বরাদ্দ নানান উপাদেয় নিরামিষ সাবেকী আহার। আবার কালীপুজোর আগের দিন ভূত চতুর্দশীতে ‘চোদ্দো শাক’ খাওয়ার রীতি রয়েছে। অঘ্রাণে ‘নবান্নে’ উৎসব। তেমনই মরাঠিদের মধ্যেও গণপতি উৎসব ঘিরে নিজস্ব কিছু পরম্পরা আছে।
মরাঠি পাকশালা হাতড়ে এমনই কিছু গণেশ চতুর্থীর পরম্পরাবাহী মরাঠি সাবেকী ব্যাঞ্জনের দিকে নজর দেওয়া যাক। ‘গণেশ চতুর্থী’ উপলক্ষে মুম্বইকর তথা সমস্ত মরাঠাবাসীর ঘরে ঘরে নানান আয়োজন উৎসাহ উদ্দিপনায় প্রস্তুত হয় এই সাবেকী আহার-ব্যাঞ্জন। শ্রীশ্রী গণেশ মূর্তির সামনে গজাননদেবকে উৎসর্গ করে এই ব্যাঞ্জন নৈবেদ্য দেওয়ার রীতি।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad