তরুণীদের নিয়ে ছিল ‘হিটলারের আরেক বাহিনী’ - Breaking Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Sunday, 30 September 2018

তরুণীদের নিয়ে ছিল ‘হিটলারের আরেক বাহিনী’

তরুণীদের নিয়ে ছিল ‘হিটলারের আরেক বাহিনী’ (ভিডিও সংযুক্ত)
জার্মানির অবরুদ্ধ নগরী আচিয়ানে ১৯৪৪ সালের ১২ অক্টোবর কনকনে শীতের মধ্যে কম্বল মুড়ি দিয়ে একটি কুড়েঘরের ভেতর কাঁপছিলেন বার্বি ডেনস্ক। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এটি। হিটলারের নাৎসি বাহিনীর নারী শাখা ‘লিগ অব জার্মান গার্লস’র একজন সদস্য ছিলেন এই নারী। ওই সময় মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে নিজের শহরকে রক্ষা করতে লড়াই করেছিলেন তিনি।
ডেনস্ক বলেন, ‘চূড়ান্ত আক্রমণটা হলো সকাল নয়টায়। একেবারেই হঠাৎ করে। একের পর এক বিস্ফোরণ হচ্ছিল। সঙ্গে ছিল রাইফেল ও মেশিনগানের গুলি। চারদিকে চিৎকার-চেচামেচি। সবাইকে সতর্ক করতে আমি আমার বাঁশিটি বাজাতে শুরু করলাম। বাইনোকুলার দিয়ে তাকিয়ে শত্রুসেনাদের দেখতে পেলাম। আমরা মার্কিন সেনাদের ওপর গুলি চালাতে শুরু করলাম।’
এই নারী আরো বলেন, ‘হঠাৎ করেই সবকিছু ঝাপসা হয়ে এলো। বিকট শব্দে আমি মাটিতে পড়ে গেলাম। বন্ধুদের রক্তাক্ত দেহ দেখতে পাচ্ছিলাম। অনেকে মুখ থেকে রক্ত ঝরছিল। চারপাশের ধোঁয়ায় দম বন্ধ হয়ে আসছিল।’

যে সময়ের ঘটনার বর্ণনা ডেনস্কির মুখ থেকে শোনা গেল, তখন তার বয়স মাত্র ১৫। দক্ষতার জোরে সে সময় হিটলারের লিগ অব জার্মান গার্লসের নেতৃত্বের পর্যায়ে চলে আসেন তখনকার সময়ের এই তরুণী। পেয়েছেন গোল্ড মেডেলও। ১৯২০ সালে নারীদের এই শাখাটি প্রতিষ্ঠা করেন হিটলার। জার্মান মেয়েদের এখানে যোগ দেয়া ছিল বাধ্যতামূলক। তবে শুরুতে যুদ্ধে কোনো ভূমিকা রাখার চিন্তা ছিল না তাদের। কিন্তু ১৯৩৬ সাল থেকে নাৎসিদের এই নারী শাখাটি গার্লস গাইড হিসেবে কাজ শুরু করে।
তৎকালীন জার্মান তরুণীদের সামান্যই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা দেয়া হতো। মূলত পাঁচ ধরনের কাজ শেখানো হতো তাদের: শরীর চর্চা, খাবার রান্না করা, ধোয়া-মোছা, ঘরবাড়ি পরিষ্কার এবং শিশু লালন-পালন। পাঠ্যক্রমে যৌনতা শিক্ষার কোনো ব্যবস্থা ছিল না। নগ্ন হয়ে নৃত্যসহ অন্যান্য শারীরিক শিক্ষার ওপর জোর দেয়া হতো।

লিগ অব জার্মান গার্লস দলে যোগ দেয়া মেয়েদের অবশ্য হতে হতো সুন্দরী ও শক্তিশালী। ১০ থেকে ১৪ বছরের মেয়েদের যোগ দিতে হতো জাংমেডেল গ্রুপে। আর ১৪ থেকে ১৮ বছরের মেয়েদের যেতে হতো বিডিএম মিটিংয়ে। সেখানে হিমলার এবং গোয়েবলসের মতো নাৎসি নেতারা লেকচার দিতেন। বিভিন্ন র‌্যালিতে নিজেদের সক্ষমতা প্রদর্শন করতো এই দুই উপশাখাই।
সে সময়ে এই দলের সঙ্গে কাজ করেছেন আরেক জার্মান নারী হেলগা বাসলার। হিটলারের সঙ্গে করমর্দনও করেছেন তিনি। অতীতের স্মৃতি স্মরণ করে এই নারী বলেন, ‘আমার হাটু কাঁপতে শুরু করলো। আমি যখন দেখলাম হিটলার আমার দিকে হেঁটে আসছেন, আমার দেহই কাঁপছিল। মেয়েরা চিৎকার করে তার দিকে দৌড়ে যাচ্ছিল। অনেকে তার জন্য ফুল নিয়ে এসেছিল।’

হেলগা আরো বলেন, ‘ওইদিন থেকেই হিটলারকে আমি একজন রক্ষক ভাবতে শুরু করলাম। আজকের দিনের মেয়েরা কোনো জনপ্রিয় পপ তারকাকে যেভাবে দেখে, আমি তাকে সেভাবে দেখতাম। তার সঙ্গে সাক্ষাতের পর আমাদের অনেক মেয়েই প্রফুল্ল ছিল। আমরা রীতিমতো তার প্রেমে পড়ে গিয়েছিলাম।’
১৯৪৪ সালে মিত্রবাহিনী যখন ঢুকে পড়েছিল, তখন নাৎসিদের বাঘা বাঘা নেতারাও স্বীকার করতে শুরু করলো- যুদ্ধ জার্মানির বিপক্ষে চলে গেছে। এ সময় হিটলার একটি নির্দেশনা জারি করলেন, যেসব মেয়ের বয়স কমপক্ষে ১০ বছর, নিজের শহর রক্ষার জন্য তাদের মৃত্যু পর্যন্ত লড়াই করতে হবে। কীভাবে শত্রুকে ফাঁদে ফেলতে হয়, রাস্তাঘাট ধ্বংস করে দিতে হয়, রেলওয়ে এবং টেলিফোন লাইন বিচ্ছিন্ন করে দিতে হয়- এসব শেখানো শুরু হলো বিডিএম গ্রুপকে। তাদের শেখানো হতো গেরিলাযুদ্ধ। ১৯৪৫ সালের ১০ অক্টোবর লিগ অব জার্মান গার্লস নিষিদ্ধ করে তখনকার সময়ে জার্মানিকে নিয়ন্ত্রণকারী চারটি দেশের সংস্থা ‘অ্যালায়েড কন্ট্রোল কাউন্সিল’।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad