কানাডার আইনপ্রণেতারা রাখাইনে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের ওপর অমানবিক নির্যাতনকে গণহত্যা বলে ঘোষণা করতে সর্বসম্মতভাবে ভোট দিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে মিয়ানমারে জাতিসংঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশনের তথ্য-উপাত্তে অনুমোদন দিয়েছেন দেশটির হাউস অব কমনস সদস্যরা।
নতুন করে কানাডার আইনপ্রণেতারা বলেন, তারা অনুসন্ধান করে দেখেছেন রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে যা হয়েছে, তা গণহত্যা। একইসঙ্গে তারা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের কাছে এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিচার করার আবেদন জানিয়েছেন। তারা মিয়ানমারের জেনারেলদের বিরুদ্ধেও তদন্ত ও বিচারের আহ্বান জানান।জাতিসংঘের গবেষকরা প্রথম থেকেই দাবি করেছেন, মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ওপর মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে। এই অপরাধের সঙ্গে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারাও জাড়িত আছেন।
এ প্রসঙ্গে কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড বলেন, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অপরাধ কতটা মর্মান্তিক ও নিষ্ঠুর ছিল, সেদিকেই আমি জোর দিতে চাই। রোহিঙ্গারা যাতে ন্যায়বিচার পান ও অপরাধীরা যাতে জবাবদিহিতার আওতায় আসে, সেজন্য একটি আন্তর্জাতিক চেষ্টার নেতৃত্ব দিচ্ছি আমরা।
তিনি আরও বলেন, আজকের এই সর্বসম্মত ভোট সেই চেষ্টারই একটা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
এদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত(আইসিসি)।মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের বিষয়ে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছেন।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২৫ অগাস্ট রাখাইনে নিরাপত্তা বাহিনীর বেশ কিছু স্থাপনায় ‘বিদ্রোহীদের’ হামলার পর রোহিঙ্গাদের গ্রামে গ্রামে শুরু হয় সেনাবাহিনীর অভিযান। সেই সঙ্গে শুরু হয় বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে রোহিঙ্গাদের ঢল। এরপর গত এক বছরে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের কথায় উঠে এসেছে নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণ, জ্বালাও-পোড়াওয়ের ভয়াবহ বিবরণ।
No comments:
Post a Comment