তাকে কী বলা যায়, অশ্লীলতা নাকি যৌন বিপ্লবের অগ্রদূত? মুক্তচিন্তা, গণতান্ত্রিক অধিকার ও যৌন স্বাধীনতা নিয়ে আজীবন কাজ করে গেছেন তিনি। বিশ্বজুড়েই নিন্দিত হয়েছেন। তবে সাফল্যের শীর্ষেও উঠে গেছেন তরতর করে। বিশ্ববাসী তাকে একনামে চেনে।
তিনি আর কেউ নন, পশ্চিমা বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত ‘প্লেবয়’ ম্যাগাজিনের প্রতিষ্ঠাতা হিউ হেফনার। ১৯৫৩ সালে বাড়ির রান্নাঘর থেকে এ ম্যাগাজিনের প্রকাশনা শুরু করেছিলেন। এক সময় এটি প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া ‘মেনস’ ম্যাগাজিনে পরিণত হয়। ম্যাগাজিনটি যখন সাফল্যের শীর্ষে তখন মাসে এট সর্বোচ্চ ৭০ লাখ কপি পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে।

হিউ হেফনারের প্রকাশিত আন্তর্জাতিক এই ম্যাগাজিনটি অনেকে ‘অশ্লীল’ বা নোংরা মনে করলেও, অনেকের কাছে এটি যৌন বিপ্লবের অগ্রদূত। হিউ হেফনার লাখ লাখ পুরুষের জন্য এক ফ্যান্টাসির দুনিয়া তৈরি করে গেছেন। তবে অধিকাংশ পাঠকের সঙ্গে তার পার্থক্য হলো, সেই ফ্যান্টাসির জীবন মি. হেফনার নিজেই যাপন করে গেছেন।
১৯৫০ ও ৬০ এর দশকে আমেরিকানদের মধ্যে নতুন এক প্রজন্ম তৈরি করেছেন হেফনার। যারা ভিন্ন এক স্ট্যান্ডার্ডে জীবনযাপনের মজা নিয়েছেন। রাজনৈতিক কর্মী এবং মানবপ্রেমিক এই ব্যক্তি শুধুমাত্র একটি ম্যাগাজিন প্রতিষ্ঠা করেননি, তিনি এর মাধ্যমে এক ধরনের লাইফস্টাইলও তৈরি করে দিয়েছিলেন। এছাড়া তার চালু করা প্লেবয়ের জনপ্রিয় ‘বো-টাই পরা র্যাবিট’ এর লোগোটি বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে স্বীকৃত একটি ব্র্যান্ড।
অন্যরকম বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী এই প্লেবয় ব্যক্তি জীবন থেকে চিরদিনের মতো ছুটি নিয়েছেন গেল বুধবার (২৭ সেপ্টেম্বর)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯১ বছর। যুক্তরাষ্ট্রের লস এঞ্জেলেসে নিজ বাড়িতেই তার স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে।
হেফনারের ছেলে কুপার হেফনার বলেছেন, ‘বাবাকে অনেকে মিস করবো’। বাবার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক বিবৃতিতে কুপার বলেন, ‘তিনি ছিলেন গণমাধ্যম ও সংস্কৃতি অঙ্গনের একজন অগ্রদূত। তাঁর জীবনযাপন ছিল ব্যতিক্রমধর্মী। তিনি মুক্তচিন্তা, গণতান্ত্রিক অধিকার ও যৌন স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করে গেছেন।’
হিউ মারস্টন হেফনার ১৯২৬ সালের ৯ এপ্রিল শিকাগোতে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা-মা দুজনেই ছিলেন শিক্ষক। তার ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গিও ছিল যথেষ্ট দৃঢ়। মার্কিন সেনাবাহিনীতে একজন লেখক হিসেবে কাজ করেছেন।
সাইকোলজি বা মনোবিজ্ঞান নিয়ে স্নাতক পাস করা হেফনার ‘এসকোয়ার’ নামে একটি মেনস ম্যাগাজিনের কপিরাইটার হিসেবে কাজ শুরু করেন।
১৯৫৩ সালে ‘প্লেবয়’ ম্যাগাজিন প্রকাশের উদ্যোগ নেন। প্রথম প্রকাশনার জন্য ৮ হাজার ডলার ধার করেন হেফনার। তবে প্রথম সংস্করণটি যদি সময়ের মধ্যে বিক্রি না হয় সেই আশঙ্কায় সে সংস্করণ থেকে তারিখ তুলে নেন হেফনার। মা এক হাজার ডলার দেন প্লেবয় প্রকাশনার জন্য।
মা সম্পর্কে হেফনার বলেছিলেন, আমি যে উদ্যোগ নিয়েছিলাম সেটাতে তার বিশ্বাস থাকার থেকে বড় কথা ছিল তার ছেলের ওপর মানে আমার ওপর তার অগাধ বিশ্বাস ছিলো। প্রথমে ম্যাগাজিনের নাম ‘স্ট্যাগ পার্টি’ রাখার পরিকল্পনা ছিল তার। তবে শেষ মুহূর্তে নাম পরিবর্তন করেন।

প্লেবয় এর প্রথম এডিশনে ম্যারিলিন মনরোর কয়েকটি নগ্ন ছবি প্রকাশ করা হয়। যেগুলো ২০০ ডলারের বিনিময়ে কিনেছিলেন হেফনার। ওই ছবিগুলো ১৯৪৯ সালের একটি ক্যালেন্ডারের জন্য তোলা হয়েছিল। ভাগ্য বা সিদ্ধান্ত যাই হোক না কেন হেফনারের প্লেবয় প্রকাশনার সময়টা ছিল একদম সঠিক। এমনটাই মনে করা হয়।
মানুষের যৌনাচার সম্পর্কিত ব্যবহার, বিশ্বাস ইত্যাদি নিয়ে আলফ্রেড কিনসি'র প্রতিবেদন ছাড়া সেই সময়ে যৌন বিষয়ক কথাবার্তা ছিল একধরনের ‘ট্যাবু’র মতো। প্লেবয় প্রকাশের কিছুদিন পর হেফনার বলেছিলেন ‘কিনসি ছিল গবেষক। আর আমি ছিলাম পুস্তিকা লেখক’।
যুদ্ধ পরবর্তী আমেরিকান সমাজে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর পুরুষদের মধ্যে প্লেবয় ম্যাগাজিন যেন ‘বাইবেলে’র মতো হয়ে উঠে। ম্যাগাজিনটিতে আঁটোসাঁটো পোশাক পরা নারীদের যে আকর্ষণীয় ছবি দারুণ সমন্বয় করে প্রকাশ হতো এবং যে ধরনের আর্টিকেল প্রকাশ হতো শহরের পঞ্চাশের দশকের পুরুষদের কাছে সেটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে।
হেফনার বলেছিলেন, ‘আমি এটাকে কখনো সেক্স ম্যাগাজিন হিসেবে ভাবিনি। আমি সবসময় এটাকে লাইফস্টাইল ম্যাগজিনই ভেবেছি। আর সেক্স বা যৌনতার বিষয় ছিল এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রথম প্রকাশের কয়েক সপ্তাহেই এটির ৫০ হাজারেরও বেশি কপি বিক্রি হয়ে যায়। হেফনার দেখলেন যে বাজারে পুরুষদের জন্য প্রকাশিত এই ম্যাগাজিনটি যথেষ্ট স্থান করে নিল। কারণ সে সময় পুরুষদের জন্য মূলত শিকার, শুটিং এবং ফিশিং বা মাছ ধরার বিষয়গুলোর ওপরেই বেশি জোর দিয়ে ম্যাগাজিন প্রকাশ করা হতো।

অন্যদিকে ম্যাগাজিনটির আরেকটি বিশেষত্ব ছিলো এর প্রচ্ছদের র্যাবিট বা খরগোশ লোগোটি। বো-টাই পরা ওই র্যাবিটের লোগোটি ডিজাইন করেছিলেন আর্ট পল। দশকের পর দশক ধরে এটি দারুণ একটি ব্র্যান্ড হিসেবে পরিচিত হয়ে গেছে।
১৯৫৫ সালে চার্লস বোমোন্টের লেখা একটি ছোট গল্প প্রকাশ করেন হেফনার। যে গল্পটির বিষয়বস্তু ছিল বিশ্বে সমকামী মানুষের সংখ্যা বেশি। সাধারণ পুরুষেরা নিপীড়নের শিকার হচ্ছে।
তিনি আর কেউ নন, পশ্চিমা বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত ‘প্লেবয়’ ম্যাগাজিনের প্রতিষ্ঠাতা হিউ হেফনার। ১৯৫৩ সালে বাড়ির রান্নাঘর থেকে এ ম্যাগাজিনের প্রকাশনা শুরু করেছিলেন। এক সময় এটি প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া ‘মেনস’ ম্যাগাজিনে পরিণত হয়। ম্যাগাজিনটি যখন সাফল্যের শীর্ষে তখন মাসে এট সর্বোচ্চ ৭০ লাখ কপি পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে।
হিউ হেফনারের প্রকাশিত আন্তর্জাতিক এই ম্যাগাজিনটি অনেকে ‘অশ্লীল’ বা নোংরা মনে করলেও, অনেকের কাছে এটি যৌন বিপ্লবের অগ্রদূত। হিউ হেফনার লাখ লাখ পুরুষের জন্য এক ফ্যান্টাসির দুনিয়া তৈরি করে গেছেন। তবে অধিকাংশ পাঠকের সঙ্গে তার পার্থক্য হলো, সেই ফ্যান্টাসির জীবন মি. হেফনার নিজেই যাপন করে গেছেন।
১৯৫০ ও ৬০ এর দশকে আমেরিকানদের মধ্যে নতুন এক প্রজন্ম তৈরি করেছেন হেফনার। যারা ভিন্ন এক স্ট্যান্ডার্ডে জীবনযাপনের মজা নিয়েছেন। রাজনৈতিক কর্মী এবং মানবপ্রেমিক এই ব্যক্তি শুধুমাত্র একটি ম্যাগাজিন প্রতিষ্ঠা করেননি, তিনি এর মাধ্যমে এক ধরনের লাইফস্টাইলও তৈরি করে দিয়েছিলেন। এছাড়া তার চালু করা প্লেবয়ের জনপ্রিয় ‘বো-টাই পরা র্যাবিট’ এর লোগোটি বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে স্বীকৃত একটি ব্র্যান্ড।
অন্যরকম বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী এই প্লেবয় ব্যক্তি জীবন থেকে চিরদিনের মতো ছুটি নিয়েছেন গেল বুধবার (২৭ সেপ্টেম্বর)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯১ বছর। যুক্তরাষ্ট্রের লস এঞ্জেলেসে নিজ বাড়িতেই তার স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে।
হেফনারের ছেলে কুপার হেফনার বলেছেন, ‘বাবাকে অনেকে মিস করবো’। বাবার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক বিবৃতিতে কুপার বলেন, ‘তিনি ছিলেন গণমাধ্যম ও সংস্কৃতি অঙ্গনের একজন অগ্রদূত। তাঁর জীবনযাপন ছিল ব্যতিক্রমধর্মী। তিনি মুক্তচিন্তা, গণতান্ত্রিক অধিকার ও যৌন স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করে গেছেন।’
হিউ মারস্টন হেফনার ১৯২৬ সালের ৯ এপ্রিল শিকাগোতে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা-মা দুজনেই ছিলেন শিক্ষক। তার ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গিও ছিল যথেষ্ট দৃঢ়। মার্কিন সেনাবাহিনীতে একজন লেখক হিসেবে কাজ করেছেন।
সাইকোলজি বা মনোবিজ্ঞান নিয়ে স্নাতক পাস করা হেফনার ‘এসকোয়ার’ নামে একটি মেনস ম্যাগাজিনের কপিরাইটার হিসেবে কাজ শুরু করেন।
১৯৫৩ সালে ‘প্লেবয়’ ম্যাগাজিন প্রকাশের উদ্যোগ নেন। প্রথম প্রকাশনার জন্য ৮ হাজার ডলার ধার করেন হেফনার। তবে প্রথম সংস্করণটি যদি সময়ের মধ্যে বিক্রি না হয় সেই আশঙ্কায় সে সংস্করণ থেকে তারিখ তুলে নেন হেফনার। মা এক হাজার ডলার দেন প্লেবয় প্রকাশনার জন্য।
মা সম্পর্কে হেফনার বলেছিলেন, আমি যে উদ্যোগ নিয়েছিলাম সেটাতে তার বিশ্বাস থাকার থেকে বড় কথা ছিল তার ছেলের ওপর মানে আমার ওপর তার অগাধ বিশ্বাস ছিলো। প্রথমে ম্যাগাজিনের নাম ‘স্ট্যাগ পার্টি’ রাখার পরিকল্পনা ছিল তার। তবে শেষ মুহূর্তে নাম পরিবর্তন করেন।
প্লেবয় এর প্রথম এডিশনে ম্যারিলিন মনরোর কয়েকটি নগ্ন ছবি প্রকাশ করা হয়। যেগুলো ২০০ ডলারের বিনিময়ে কিনেছিলেন হেফনার। ওই ছবিগুলো ১৯৪৯ সালের একটি ক্যালেন্ডারের জন্য তোলা হয়েছিল। ভাগ্য বা সিদ্ধান্ত যাই হোক না কেন হেফনারের প্লেবয় প্রকাশনার সময়টা ছিল একদম সঠিক। এমনটাই মনে করা হয়।
মানুষের যৌনাচার সম্পর্কিত ব্যবহার, বিশ্বাস ইত্যাদি নিয়ে আলফ্রেড কিনসি'র প্রতিবেদন ছাড়া সেই সময়ে যৌন বিষয়ক কথাবার্তা ছিল একধরনের ‘ট্যাবু’র মতো। প্লেবয় প্রকাশের কিছুদিন পর হেফনার বলেছিলেন ‘কিনসি ছিল গবেষক। আর আমি ছিলাম পুস্তিকা লেখক’।
যুদ্ধ পরবর্তী আমেরিকান সমাজে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর পুরুষদের মধ্যে প্লেবয় ম্যাগাজিন যেন ‘বাইবেলে’র মতো হয়ে উঠে। ম্যাগাজিনটিতে আঁটোসাঁটো পোশাক পরা নারীদের যে আকর্ষণীয় ছবি দারুণ সমন্বয় করে প্রকাশ হতো এবং যে ধরনের আর্টিকেল প্রকাশ হতো শহরের পঞ্চাশের দশকের পুরুষদের কাছে সেটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে।
হেফনার বলেছিলেন, ‘আমি এটাকে কখনো সেক্স ম্যাগাজিন হিসেবে ভাবিনি। আমি সবসময় এটাকে লাইফস্টাইল ম্যাগজিনই ভেবেছি। আর সেক্স বা যৌনতার বিষয় ছিল এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রথম প্রকাশের কয়েক সপ্তাহেই এটির ৫০ হাজারেরও বেশি কপি বিক্রি হয়ে যায়। হেফনার দেখলেন যে বাজারে পুরুষদের জন্য প্রকাশিত এই ম্যাগাজিনটি যথেষ্ট স্থান করে নিল। কারণ সে সময় পুরুষদের জন্য মূলত শিকার, শুটিং এবং ফিশিং বা মাছ ধরার বিষয়গুলোর ওপরেই বেশি জোর দিয়ে ম্যাগাজিন প্রকাশ করা হতো।
অন্যদিকে ম্যাগাজিনটির আরেকটি বিশেষত্ব ছিলো এর প্রচ্ছদের র্যাবিট বা খরগোশ লোগোটি। বো-টাই পরা ওই র্যাবিটের লোগোটি ডিজাইন করেছিলেন আর্ট পল। দশকের পর দশক ধরে এটি দারুণ একটি ব্র্যান্ড হিসেবে পরিচিত হয়ে গেছে।
১৯৫৫ সালে চার্লস বোমোন্টের লেখা একটি ছোট গল্প প্রকাশ করেন হেফনার। যে গল্পটির বিষয়বস্তু ছিল বিশ্বে সমকামী মানুষের সংখ্যা বেশি। সাধারণ পুরুষেরা নিপীড়নের শিকার হচ্ছে।
No comments:
Post a Comment