সবকিছু যেভাবে চলছিল, তাতে ওভালে অপেক্ষা করছিল দুরন্ত এক টেস্ট ফাইনাল। কিন্তু তা আর হবে না। ডন ব্র্যাডম্যানের দলের ইতিহাস ছোয়ার জন্য দৌড়াবেন না কোহলি। টেস্ট সিরিজের নিস্পত্তি হয়ে গেল সাউদাম্পটনেই। জলে তলিয়ে গেল কোহলি এবং ভারতীয় ক্রিকেট ভক্তদের ইতিহাস তৈরির স্বপ্ন।
জয়ের জন্য ভারতের প্রয়োজন ছিল ২৪৫ রান। হাতে প্রায় দেড় দিন সময় ও ১০ উইকেট। চতুর্থ ইনিংসে বেশ চ্যালেঞ্জিং কাজই। সেই চ্যালেঞ্জে শুরুতেই তিন উইকেট খুইয়ে বিপদে পড়ে ভারত। সেখান থেকে অধিনায়ক বিরাট কোহলি ও আজিঙ্কা রাহানে শতরানের জুটি গড়ে জয়ের আশা দেখাচ্ছিলেন। মনে হচ্ছিলো জয়ের খুব কাছেই আছে ভারত। কিন্তু প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও টিম ইন্ডিয়াকে একাই ধসিয়ে দিয়েছেন ইংলিশ অফ স্পিনার মঈন আলী। এই ধসটা মঈন শুরু করেন কোহলিকে আউটের মধ্য দিয়ে। আর ভারতীয় গণমাধ্যমের মতে, আরেকবার প্রমাণ হলো কোহলি আউট তো ভারত আউট! সাউথাম্পটনে সিরিজের চতুর্থ টেস্ট ভারত হেরে গেছে ৬০ রানে।
তবে ব্র্যাডম্যানের অস্ট্রেলিয়া তো অনেক দূর, শেষ পর্যন্ত অজিত ওয়াড়েকরের ১৯৭১-এর ভারত বা কপিল দেবের ১৯৮৬-র ভারত অথবা রাহুল দ্রাবিড়ের ভারতও হতে পারেনি কোহলির দল। কারণ ইংল্যান্ড থেকে যে তিনবার সিরিজ জিতেছিল ভারত সেই তিনবারের অধিনায়ক ছিলেন এঁরা।
চতুর্থ ইনিংসে দু’শোর ওপরে রান তাড়া করার ক্ষেত্রে আতঙ্কের সব পরিসংখ্যান ভারতের নামের পাশে। এশিয়ার বাইরে এর আগে মোট ৬১ বার দু’শোর ওপরে লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে ভারত জিতেছে মাত্র তিন বার। হেরেছে ৩৬ বার। সেই সংখ্যাটা ৩৭ হয়ে গেল গতকাল।
ভারত সর্বশেষ দু’শো এর ওপর রান তাড়া করে জিতেছিল ২০০৩ সালে, অ্যাডিলেডে। অর্থাৎ ১৫ বছর আগে। আর অন্য দুটি আরও আগের। ১৯৬৭ সালে নিউজিল্যান্ডে এবং ১৯৭৫ সালে উইন্ডিজের পোর্ট অব স্পেনে। সাউদাম্পটনে সে রকম কোনও ইতিহাস আর লেখা হল না। কোহলির ব্যাট জয়ের স্বপ্ন দেখালেও, তিনি আউট হতেই তাসের ঘরের মতো ভেঙ্গে পড়ে সেই স্বপ্ন।
চার বছর আগে এ মাঠেই ধোনির ভারতকে ধসিয়ে দিয়েছিলেন মঈন আলী। সেই ম্যাচে দ্বিতীয় ইনিংসে ছয় উইকেট নিয়েছিলেন এই ইংলিশ স্পিনার। এ বার কোহলির ভারতকেও ধসালেন তিনি। আর দুই ইনিংস মিলে ৯ উইকেট এবং প্রথম ইনিংসে প্রবল চাপের মুখে ৪০ রানের লড়াকু ইনিংসে ম্যাচসেরাও মঈন।
No comments:
Post a Comment