মৃন্ময় নস্কর,দক্ষিণ ২৪ পরগণাঃ বাঘের ডেরায় মহিষমতীর প্রাসাদ ও রূপোয় সাজছে প্রতিমা।মা দুর্গার মাথায় মুকুট, গলায় হার, কানে দুল, নাকে নাকচাবি, দশ হাতের ব্রেসলেট ও পায়ের তোড়া সবই রূপো । তার মধ্যে পুঁতির মতো
লালচে পাথর বসানো হয়েছে। একই রকমের রুপোর গয়নায় সাজানো হচ্ছে লক্ষ্মী ও সরস্বতীকে।
কার্তিক ও গণেশের মাথার মুকুট থেকে বুকজোড়া তৈরী হচ্ছে রূপো দিয়ে। এই গয়নার সাজ
থেকে বাদ যাচ্ছে না মহিষাসুরও। সব মিলিয়ে গয়না তৈরীতেই কুড়ি
কেজি রুপো লাগছে। শুধু প্রতিমার গয়নাতেই নয়, চমক মণ্ডপ ও বিশাল বাজেটে ও। এ বছরের হিট সিনেমা বাহুবলী ২ এর মহিষমতীর চোখ বাঁধানো বিশাল রাজপ্রাসাদের
স্বর্ণ মহল ধাঁচে মণ্ডপ তৈরী হচ্ছে। সব মিলিয়ে মোট খরচ পড়ছে ৫০ লাখ টাকা। কলকাতার
নামী পূজার সাথে পাল্লা দিয়ে এই প্রথম দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের
ডেরা সুন্দরবনের কুলতলীতে এরকম পূজার বিগ বাজেটের আয়োজন হয় হচ্ছে যার সবেতেই
অভিনব ও চমক। প্রত্যন্ত কূলতলীর জামতলা বাজার সংলগ্ন এলাকায় এই বিগ বাজেট এর
পূজার উদ্যোক্তা নব নবীন সংঘ। কমিটির সভাপতি তথা তৃণমূল কংগ্রেস এর ব্লক সভাপতি
গোপাল মাঝি ও সম্পাদক বলদেব হালদার। সভাপতির কথায় কূলতলী চিংড়ি, কাঁকরা আর বাঘের ডেরা হিসাবে পরিচিত।
এখানকার চিংড়ি ও কাঁকরা দেশ বিদেশে রপ্তানি হয়। পুজোয় সেই জায়গাকে তুলে আনতে
প্রাণপণ লড়াই করে যাচ্ছে মৎস্যজীবী অধ্যুষিত এলাকার মানুষ। প্রথমে এই পূজা শুরু
হয়েছিলো ছোট্ট এক চালা ঘরে।
সন্ধ্যার
পর হ্যাচাক জ্বালিয়ে আলোর ব্যবস্থা করা হতো। কারণ, দীর্ঘ দিন ধরে বিদ্যুতের কোনো ব্যবস্থা ছিলনা। পরবতীঁ সময়ে বিদ্যুৎ
এলেও লো ভোলটেজ হয়ে থাকতো। অনেক প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়েও পুজো সারতে হতো নমো নমো
করে। এখন অনেক পরিবর্তন হয়েছে দেখতে দেখতে ২১ বছর পেরিয়ে ২২ শে পা দিলো। তাই ২২
কে স্মরণীয় করে রাখতে চায় উদ্যোক্তারা। তাই তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিগ বাজেটের
পূজার আয়োজন। তাই তারা ঠিক করেছে বহু আলোচিত বাহুবলী ২ এর রূপ দিতে। বাহুবলী
প্রাসাদের বাইরে ও ভিতরের নকশাকে হুবহু একই রাখা হচ্ছে। মণ্ডপ লম্বায় ৭০ ফুট এবং
চওড়ায় ৬ ০ ফুটের বেশী জায়গা নিয়ে। রাজপ্রাসাদের প্রধান ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে
হাতি। প্রহরীরা চারপাশে ঘিরে আছে প্রহরায়। কলকাতার এক শিল্পীকে দিয়ে মডেলটি তৈরী
করা হচ্ছে। ইটের পাঁচিল দিয়ে পুরো মণ্ডপটি ঘিরে দেওয়া হয়েছে ।

No comments:
Post a Comment