বাঁধন হারা পরকীয়া প্রেমে ডুবে প্রেমিকার ইচ্ছায় ফোনে স্বামী খুনের লাইভ শোনায় প্রেমিক - Breaking Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Tuesday, 6 June 2017

বাঁধন হারা পরকীয়া প্রেমে ডুবে প্রেমিকার ইচ্ছায় ফোনে স্বামী খুনের লাইভ শোনায় প্রেমিক














অনুপমের আদি বাড়ি বাংলাদেশের যশোর জেলার কেশবপুর থানার পাঁচপোতা গ্রামের সিংহ বাড়ির ছেলে অনুপম সিংহ। দুই দশক আগে বাংলাদেশ থেকে শৈশবে ভালো করে বাঁচতে সীমান্ত পেরিয়ে উত্তর চব্বিশ পরগনার বারাসত শহরে বসবাস শুরু করে । যৌবনে সাত বছরের প্রেম শেষে মনুয়া মজুমদারকে বিয়ে করে অনুপম। বাংলাদেশী ভাষা, চালচলন মনুয়ার ভালো লাগতো না । স্বামীকে দিনের পর দিন অপমান করতে শুরু করে মনুয়া । এরই মাঝে বাঁধন হারা পরকীয়া প্রেম শুরু । শান্ত বিত্তশালী স্বামীর থেকে বেশি ভালবাসা পায় বেকার ভবঘুরে যৌণপল্লী এবং মদে আসক্ত বৌ ছেড়ে যাওয়া যুবক অজিত । তারপর পরতে পরতে রোমান্টিক প্রেম এবং খুন ।





মে মাসের দুই তারিখ নিজের বাড়িতেই খুন হলেন বিদেশী মুদ্রা সহ  ট্রাভেল এজেন্সি কোম্পানিতে কর্মরত অনুপম সিংহ নামে নিহত এক যুবক । ঘটনাটি ঘটেছে বারাসত থানার  হৃদয়পুরের তালপুকুর এলাকায়। 
খুনের মুহুর্তে স্বামীর আর্তনাদ প্রেমিকের ফোনে লাইভ শুনেছিল পাষন্ড স্ত্রী 

 জানাগেছে, ঘটনার দিন  মঙ্গলবার অফিস থেকে রাত আটটা  নাগাদ তিন বন্ধুসহ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয় অনুপম ।অনুপমের স্ত্রী বারাসাত পুরসভা কর্মী অসুস্থতার কারনে কিছুদিন  শ্বশুরবাড়ি থাকতেন অনুপম বাবুর স্ত্রী। প্রতিদিন রাতে নবপল্লীর শ্বশুরবাড়িতে খেয়ে হৃদয়পুরের নিজের বাড়িতে ঘুমাতে যেতেন অনুপম। রাতে ফোন করে সাড়া না মেলায় বুধবার সকালে এসে আত্মীয়রা দেখতে পান হৃদয়পুরে পুর্বায়নের বাড়ীর ঘরের মধ্যে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে অনুপম। পুলিশ তদন্তে নেমে ঘর থেকে লোহার রড বাজেয়াপ্ত করে।প্রাথমিক অনুমান মাথায় ভারী কিছু দিয়ে আঘাত করে মারা হয়েছে। মৃতদেহ ময়না তদন্তে পাঠান হয়েছে। বছর খানেক আগে বিবাহিত অনুপমকে কে বা কারা কি উদ্দেশ্যে খুন করল তার রহস্যভেদ করতে ঘটনাস্থলে আসেন উঃ ২৪ পরগনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়।
 প্রেমিকের সঙ্গে চক্রান্ত করে স্বামী অনুপম সিংহকে খুন  করে গ্রেফতার হলেন বারাসতের এক গৃহবধূ। এমনকি খুনের মুহুর্তের স্বামীর আর্তনাদ লাইভ শুনতে প্রেমিকের কাছে আব্দার করে বছর আঠাশের ওই গৃহবধূ। 
গৃহবধূকে খুন করে প্রমাণ লোপাট করতে পুলিশকে বিভ্রান্ত করে নাকানি চোবানি খাইয়েও শেষ রক্ষা হয়নি প্রেমিক যুগলের। ঘটনাটি ঘটেছে বারাসত থানা এলাকায়। 

উত্তর চব্বিশ পরগনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা পুলিশ বারাসাত থেকে মনুয়া মজুমদার ও তাঁর প্রেমিক বুবাই কে গ্রেফতার করে মঙ্গল বার গভীর রাতে । পুলিশের দাবি, স্বামী অনুপম সিংহকে খুন করতে মনুয়া প্রেমিক অজিত রায় ওরফে বুবাইয়ের সাহায্য নেয়। এমনকি বুবাই ই অনুপমকে খুন করে। বারাসাত থানার নবপল্লীর বাপের বাড়িতে বসেই অজিতকে নিয়ে স্বামীকে খুন করার  ষড়যন্ত্র করে মনিয়া। 

প্রসঙ্গত এমাসের তিন তারিখ সকালে  বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন সংস্থায় কর্মরত অনুপম সিংহ (৩৩)কে নৃশংস ভাবে খুন হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায় হৃদয় পুরের নিজের বাড়িতেই।  তার মাথায় ভারী অস্ত্র দিয়ে  আঘাত করে তাকে খুন করা হয় বলে পুলিশের দাবি। দুই তারিখ গভীর রাতে খুন হয়েছিলেন অনুপম বাবু । সেই সময় তার স্ত্রী বাপের বাড়িতে থাকলেও স্বামীর হাতে এনগেজমেন্ট রিং না থাকা  সহ একাধিক বিষয় পুলিশকে স্ত্রী মনুয়ার দিকে নজর ফেরাতে ও তদন্তের কেন্দ্রবিন্দু তে রাখতে  বাধ্য করেছিল । বুধবারই মনুয়া ও  বুবাই কে বারাসাত আদালতে তোলা হয় এবং দশ দিনের পুলিশ হেপাজতে নিয়েছে। 
তদন্তকারী পুলিশ আধিকারিক সুত্রের খবর, খুনের পর অনুপমের স্ত্রী মানুয়ার স্বাভাবিক আচারন পুলিশের নজরে আসে। খুনের ঘটনা স্হলে এমন কোনও প্রমাণ রাখেনি বুবাই ও মানুয়া যা থেকে পুলিশ খুনের কিনারা করতে পারে। মানুয়ার সঙ্গে অনুপমের সম্পর্ক জানতে অনুপমের বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলেও কিছুই জানতে না পেরে শেষমেষ মনুয়ার ফোনে আড়ি পাতে পুলিশ। দুজনের আট ঘন্টার বিভিন্ন ধরনের কথাবার্তায় প্রথম দিনেই কিস্তি মাত করে পুলিশ। তবে নিশ্চিত হতে পারছিল না পুলিশ। কারণ, মনুয়া বুবাই পুলিশকে বিভ্রান্ত করতেই খুন কে করল? পুলিশের বিরুদ্ধে তদন্তের গাফিলতি এনে অভিযোগের মত ইত্যাদি কথা তারা বলছিল। নাছোড় পুলিশও ওঁত পেতে থাকে মনুয়ার ফোনে। এক সময় মনুয়া যাবতীয় বিভ্রান্তির নাটকের কথা বার্তা থেকে সরে এসে বুবাইকে বলে, ম্যায়নে জীবন সাথী চুনলিয়া। বুকের ওপর থেকে পাথর সরে গেছে। এখন খুব হাল্কা লাগছে। এমএ পাশ মনুয়া পিএইচডি করার স্বপ্ন দেখে। বাবা মা জামাইয়ের মৃত্যুতে কান্নাকাটি করলে বাবা মাকে তিরস্কারও করত মনুয়া। আঁড়ি পেতে শোনা কথাগুলো পুলিশকে বিভ্রান্তির ঘোর কাটায়। এরপর পুলিশ মনুয়া ও বুবাইকে গ্রেফতার করে। পুলিশের কাছে মনুয়া জানিয়েছে, বাবা মা তাকে জোর করে বিয়ে দেয় অনুপমের সঙ্গে। কয়েকমাস আগে অনুপম পরকীয়া সম্পর্কের কথা জানতে পারে। তখন অনুপম আত্মহত্যার কথা জনায় স্ত্রীকে। অনুপমের ওই সিদ্ধান্তে সমাজ ও পরিবারের কাছে হেরে যেতে হত। তাই প্রেমিককে দিয়ে স্বামীর স্বাদ পুরণ করতে খুন করেছে মনুয়া। 


অনুপমের যৌন জীবন ছিল বিকৃত তাই অনুপমের প্রতি দিন যত পেরিয়েছে আক্রোশও তত বড়ো হয়েছে

মুখোমুখি জেরায় ভেঙে পড়েছে অজিত। মনুয়া নিজের সিদ্ধান্তে অটল। বারাসতে অনুপম হত্যা মামলায় পুলিশ সূত্রে জানা গেছে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য। যদিও বেশ কিছু বিষয়ে পুলিশ এখনও ধোঁয়াশায়। 
পুলিশ সূত্রের দাবি, শনিবার রাতে অনুপম সিংহ হত্যা মামলায় ধৃত অনুপমের স্ত্রী মনুয়া মজুমদার ও মনুয়ার প্রেমিক অজিত রায়কে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করে। জেরার সময় অজিত মনুয়াকে বলে তোমার জন্য আজ আমার জীবন নষ্ট হল। প্রেমিক অজিতের কথা শুনে মনুয়া বলে, যা হয়েছে ঠিকই হয়েছে। পুলিশ সুত্রের আরও দাবি, মনুয়া জানিয়েছে অনুপম তাকে ভালবাসত। তবে অনুপমের যৌন জীবন ছিল বিকৃত তাই অনুপমের প্রতি দিন যত পেরিয়েছে আক্রোশও তত বড়ো হয়েছে। 

তবে পুলিশের ধোঁয়াশা এখনও পুরোপুরি কাটেনি। পেশাদার খুনির মতই খুন করা হয়েছে অনুপমকে। অথচ অজিত মানুষ মারা তো দূরের কথা আগে কখনও মুরগী কাটেনি। সেই ছেলে অনুপমকে খুন করে ওই রাতে টোটো ভাড়া করে মনুয়ার পাড়ায় স্বাভাবিক ভাবে পৌঁছাল কি করে।  পাশাপাশি আরেকটি প্রশ্ন দেখা দিয়েছে , অনুপমকে জখম করে খুন করলেও অনুপমের রক্ত কি অজিতের পোশাকে লাগেনি
পুলিশ আগেই জানিয়েছে, অনুপমকে খুন করতে স্ত্রী মনুয়া আগে থেকেই ঘটনারদিন প্রেমিক অজিতকে ঘরে ঢুকিয়ে বাইরে থেকে তালা বন্ধ করে আসে। অনুপম ঘরে ঢুকতেই অজিত অনুপমের মাথায় ক্রমাগত লোহার রড দিয়ে আঘাত করে সে। উত্তর চব্বিশ পরগনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, খুনের পর অজিত টোটো নিয়ে মনুয়ার পাড়ায় যায়। পুলিশ অনুপমের বাড়ি থেকে মৃত দেহের বাইরে একটা লোহার রড ও আংটি উদ্ধার করেছে বলে জানিয়েছে। লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাত করলে রক্ত ছিটকে অজিতের শরীরে মাখার কথা। এমনকি, মুখের মধ্যে রড ঢুকিয়ে খুঁচিয়ে মনুয়াকে মৃত্যু যন্ত্রণার গোঙানি শুনিয়েছিল অজিত। অনুপমকে খুন করার নৃশংসতা  ছিল বিভৎস। মাথা এবং মুখের অংশ এতটাই বিকৃত ছিল যে অনুপমকে চেনার উপায় ছিল না । এমনকি মেঝেতে যে ভাবে রক্ত ছড়িয়েছে তাতে গোটা ঘটনার সময়ও অনুপমের রক্ত অজিতের শরীরে বা পোশাকে লাগার কথা।  রক্তমাখা পোশাক পরে স্বাভাবিক ভাবে রাস্তায় বের হল কি করে অজিত?  তাহলে কি পোশাক বদল করেছিল অজিত। না কি অনুপমকে খুন করতে ব্যবহার করা হয়েছিল পেশাদার খুনি? কারন, পুলিশ অনুপমের ঘরের বাইরে থেকে ছবি তুলতে দিয়েছিল সংবাদ মাধ্যমকে। সেই ছবিতে দেখা যাচ্ছে ঘরের একটা অংশের মেঝেতে রক্ত ছড়িয়েছে। জখম অনুপম বাঁচার তাগিদে এদিক সেদিক করলে রক্ত ঘরের সর্বত্র থাকত। এখানেই উঠেছে প্রশ্ন  ,তাহলে কি অনুপম খুনের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত! যে খুনের সময় সাহায্য করেছিল অজিতকে । পুলিশ সূত্রের দাবি, খুন যে ভাবে করা হয়েছে তা পেশাদারের মতই। ঠান্ডা মাথায় খুন করতে কি শুধুই লোহার রড ব্যবহার হয়েছিল। 
পুলিশের জেরায় মনুয়া জানিয়েছে, অনুপম খুনের পর অজিতকে নিয়ে সে ভিন দেশে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। পুলিশের হাতে ধরা পড়ে সেই ছক বানচাল হয়েছে। 




অনুপম হত্যা মামলায়  রাজনৈতিক অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করতে নেমেছে বাম - তৃণমূলের একাংশ। অনুপম সিংহের স্ত্রী মনুয়া বারাসত পুরসভায় কি ভাবে চাকরি পেল সেই প্রশ্ন তুলেছেন বারাসত পুরসভার কাউন্সিলর ফরওয়ার্ডব্লকের সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়। আর সেই পোষ্ট ঘিরে অশান্তি ঢুকেছে শাসক তৃণমূলের ঘরে। 



এদিকে অনুপমের স্ত্রীকে কে কার সপারিশে বারাসত পুরসভায় চাকরি দিয়েছে সেই প্রশ্ন তুলেছেন বামেরা। ফরওয়ার্ড ব্লকের কাউন্সিলর সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় ফেসবুকের ওয়ালে লিখেছেন, আমি খুবই বিব্রত এই কারনে বারাসাতে হৃদয়পুরে যে নৃসংস খুন সংগঠিত হল সেই খুনের আসল অপরাধী মনুয়া মজুমদার নাকি বারাসাত পৌরসভার কর্মচারী, কোন মেধার ভিত্তিতে এই খুনী চাকরী পেলো, বারাসাতে যখন হাজার হাজার বেকার তখন এই খুনীকে চাকরী দিলো, আমি কাউন্সিলার হয়েও কিছু জানি না, অতি প্রাচীন এই পৌরসভার মুখে চুন কালি পড়েছে, শাসক তৃনমূলকেই এর দায় গ্রহন করতে হবে, ধিক্কার জানাই ....।
তিন বারের কাউন্সিলর সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় মনুয়া মজুমদারকে খুনি এবং অপরাধী শব্দে ব্যবহার করেছেন।  

প্রসঙ্গে বারাসত পুরসভার চেয়ারম্যান তৃণমূলের সুনীল মুখোপাধ্যায় বলেন, মনুয়া যখন চাকরী পেয়েছিল তখন এই খুনের ঘটনা ঘটেনি। আর সংবিধান অনুযায়ী আদালত দোষী সাব্যস্ত করার আগেই কাউকে নির্দিষ্ট অপরাধে অভিযুক্তকে অপরাধী বা দোষী বলা যায় না। বারাসত পুরসভার ছয় ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তৃণমূলের অরুন ভৌমিক মনুয়াকে অস্থায়ী ভাবে পৌরসভায় চাকরীতে নিতে সুপারিশ করে। তখন মনুয়ার বিয়েও হয়নি। মনুয়ার ব্যক্তিগত জীবনের সঙ্গে পুরসভার কোনও সম্পর্ক নেই। আর মনুয়াকে ইতিমধ্যে শোকজ করা হয়েছে। 
এদিকে তৃণমূল সূত্রের দাবি, মনুয়ার চাকরী ইস্যুকে খুনের সঙ্গে জড়িয়ে দিতে তৃণমূলের একাংশ বামেদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। গোটা ঘটনার কেন্দ্রে মনুয়াকে রেখে রাজনৈতিক খেলা খেলে তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দলকে কাজে লাগিয়ে অরুন ভৌমিককে কোন ঠাসা করার চক্রান্তে এক হয়েছে তৃণমূল ও বামেদের একাংশ।ফেসবুকে পোষ্টের মাধ্যমে সেই প্রোপাগান্ডা তৈরিতে সফলও হয়েছে ওই অংশ। 

এদিকে পুলিশ মনুয়া ও অজিতকে শাস্তি দিতে সব দিকের ফাঁকফোকর বন্ধ করে এগোতে চাইছে। মনুয়ার বাবা জামাই খুনের পর বারাসত থানায় অভিযোগ করেছিল। মেয়ে মনুয়া এই খুনের সঙ্গে জড়িত তা জানত না বাবা নির্মল।ওই  অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ এখনও তদন্ত করছে। ভবিষ্যতে যদি পিতৃস্নেহে নির্মল মজুমদার মামলা তুলে নেয় তাহলে মামলায় প্রভাব পড়তে পারে। তাই পুলিশ সেই ফাঁক মেরামত করে কোমর বেঁধেই নামছে। 
যদিও বাবা নির্মল মজুমদার বলেন, আমি মেয়ের ফাঁসি চাই। ও যদি কখনও ছাড়া পায় তাহলে জীবদ্দশায় মনুয়ার মুখ দেখব না। 



শারিরীক সম্পর্ক শেষে প্রেমিকের হাতে স্বামীকে খুন করার দায়িত্ব দিয়ে বাপের বাড়ি ফেরে মনুয়া 

শারিরীক সম্পর্ক শেষে প্রেমিকের হাতে স্বামীকে খুন করার দায়িত্ব দিয়ে বাপের বাড়ি ফেরে মনুয়া । স্ত্রীকে সব ধরনের চাহিদা না মেটানোয় অনুপমের ওপর তীব্র আক্রোশ জমে মনুয়ার মনে। এমনকি যৌন জীবন নিয়েও স্ত্রীকে পাশবিক অত্যাচার করত অনুপম। প্রেমিকার ওপর এই অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে প্রেমিকা মনুয়ার কথায় অনুপমকে খুন করতে রাজি হয়ে যায় প্রেমিক অজিত। 
বারাসতের হৃদয়পুরে যুবক খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এল পুলিসের হাতে।


পুলিশ হেপাজতের জেরায় মনুয়া ও অজিতের থেকে পুলিশ জানতে পেরেছে,  প্রেমিকের সাথে বসে খুঁটিনাটি সমস্ত কিছু পরিকল্পনা করেই আসরে নেমেছিল মৃত অনুপমের স্ত্রী মনুয়া মজুমদার। শুক্রবার দুপুরে প্রেমিক অজিত রায় ওরফে বুবাই এবং মনুয়াকে নিয়ে সেদিনকার সেই ঘটনার পুনর্নির্মাণ করে পুলিস। আর তাতেই বেরিয়ে এসেছে বহু চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। ঠাণ্ডা মাথায় পরিকল্পনা করে অনুপম সিংহকে খুন করা হয়েছিল বলে পুলিসের দাবি। 


অতিরিক্ত পুলিস সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়  জানিয়েছেন, গেছে ঘটনার দিন দুপুরে মনুয়ার প্রেমিক অজিত রায় অশোকনগরের বাড়ি থেকে থেকে বারাসতে এসে মনুয়ার কর্মস্থলে গিয়ে   দেখা করে অজিত। ছুটি হতে অফিস থেকে বেরিয়ে পড়ে তারা এবং দুজনে আলাদা আলাদাভাবে পৌঁছায় অনুপম সিংহের বাড়িতে। অজিত কাগজে মুড়ে নিয়ে যায় ঘাতক লোহার রড। সেখানে তারা দীর্ঘক্ষণ ধরে একান্তে সময় কাটায় । অনুপমকে কিভাবে খুন করা হবে, কিভাবে তাকে আঘাত করা হবে তা নিয়ে দুজনে ছক কষে। অজিতের যাতে কোনও সমস্যা না হয় তারজন্য বাড়ির কোন কোন লাইট অফ করে রাখা হবে সেই পরিকল্পনাও তারা দুজনে বসে ঠিক করে। পরিকল্পনার পর দুজনের মধ্যে শারীরিক সম্পর্কও হয়। প্রেমিকের হাতে স্বামীকে খুন করার দ্বায়িত্ব দিয়ে বাড়ি থেকে বাপের বাড়িতে ফেরে মনুয়া। বেরোনোর সময় বাইরে থেকে ঘরের তালা লাগিয়ে দেয় মনুয়া। ঘরের মধ্যে থেকে যায় অজিত। 


পুলিস আরও জানিয়েছে ওইদিন রাতে শ্বশুর বাড়িতে খেতে যাওয়ার কথা ছিল অনুপমের। কিন্তু মনুয়াই তাকে শ্বশুর বাড়িতে আসতে বারন করে। অনুপম কখন ঘরে ঢুকবে এবং তাকে মারতে কি ভাবে প্রস্তুতি নেবে সেই সব তথ্য ছক অনুযায়ী এক ফোনে অনুপমের থেকে জেনে অন্য ফোনে অজিতকে জানায় মনুয়া। 


পুলিস জানিয়েছে ওইদিন অনেক রাতে বাড়িতে ফেরে অমুপম। দরজা খুলে ভেতরে ঢুকতেই  লোহার রড দিয়ে লাগাতার অনুপমের মাথায় আঘাত করে অজিত। অনুপমকে খুন করে  ঠাণ্ডা মাথায় ওই ঘর থেকে বেরিয়ে মনুয়ার বাড়ির সামনে টোটো ভাড়া করে যায় অজিত। ফোনে কথা বলতে বলতে মনুয়ার সাথে গিয়ে দেখা করে সে। তাকে যাতে কেউ সন্দেহ না করে সেজন্য অনুপমের অন্ত্যেষ্টিতেও উপস্থিত ছিল অজিত। শুধু তাই নয় তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দিতে অনুপম যে ভ্রমণ ও মানি এক্সচেঞ্জ অফিসে কাজ করত সেখানে কারো সাথে গণ্ডগোল বা টাকা পয়সা নিয়ে গোলমালের কারণে অনুপম খুন হয়ে থাকতে পারে বলে পুলিসকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিল অজিত। কিন্তু শেষমেশ পুলিসের সন্দেহ থেকে রেহাই পায়নি মনুয়া ও অজিত। পুলিসের জালে ধরা পড়ে দুজনেই। জেরায় খুনের কথাও স্বীকার করে তারা। 


শুক্রবার দুজনকে অনুপমের হৃদয়পুরের বাড়িতে নিয়ে যায় পুলিস। কিভাবে ওই বাড়িতে ঢোকে করে অনুপমকে খুন করেছিল সে দিনকার সেই ঘটনা পুলিসের সামনে অভিনয় করে দেখান তারা। তবে এদিন দুজনকে ঘটনাস্থলে নিয়ে গেলে জনতার রোষের মুখে পড়ে অভিযুক্তরা। বিক্ষোভে ফেটে পড়ে পাড়া প্রতিবেশীরা। খুনিদের ফাঁসির দাবি করেন তারা। এমনকি দুজনকে জনতার হাতে ছেড়ে দেওয়ার দাবিও জানান তারা।  



খুনের আগে বেশ কয়েকবার ট্রায়াল দেন অজিত মনুয়া 

অনুপমকে খুন করতেই কি অজিতের সঙ্গে প্রেমের নাটক !




বিত্তশালী স্বামীর সংসার ছেড়ে কেন সাদামাটা মাধ্যমিক ফেল অজিত রায়ের সঙ্গে সম্পর্কের ইচ্ছে হল মনুয়ার ? অজিত এবং মনুয়াকে একটানা জেরা করে এবার সেই তথ্যই হাতড়াচ্ছে পুলিশ l এমনকি স্বামী অনুপমের সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদ না করে কেন খুনের পথ বেছে নিয়েছিলো ? অনুপমকে খুন করতেই কি অজিতের সঙ্গে প্রেমের নাটক! মনুয়া অজিতকে একা টানা জেরা করে এখনও সেই স্বদুত্তর পায়নি পুলিশ। 


স্বামী অনুপমকে খুন করতে প্রেমিক অজিতকে নিয়ে একাধিকবার ট্রায়াল দেন খুনি বৌ মনুয়া। পরকীয়া সম্পর্ক, কেরিয়ার পিপাশু এবং বেহিসাবী জীবন যাপনে লোভী মনুয়াকে  বিয়ের পর থেকেই অনুপম তাঁর ওপর অত্যাচার করতেন l ফেসবুক সহ কোনও সোশ্যাল সাইটে চ্যাট করা নাকি পছন্দ করতেন না অনুপম l তাঁর প্রিয় বিষয় নাচেও স্বামী বাঁধা দিয়েছিলেন বলে দাবি করে মনুয়া l চাকরি করতেও বাঁধা দেন বলে মনুয়া পুলিশকে জানিয়েছেন l আর এরপরই প্রেমিক অজিতের সঙ্গে মিলে অনুপমকে খুনের ছক করেন মনুয়া lদশ দিনের পুলিশ হেপাজতে অনুপম সিংহ হত্যা মামলায় এমনটাই জানিয়েছে স্ত্রী মনুয়া। মনুয়াদের এই জবাবে সন্তুষ্ট নয় তদন্তকারী আধিকারিকরা। 

পুলিশকে মনুয়া জানিয়েছেন, ঘটনার দিন খুনের বেশ কয়েকবার ট্রায়াল দেন তাঁরা l সেখানে অজিতের সঙ্গে হাজির ছিলেন মনুয়াও l এরপর তাঁদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হয় l কিন্তু, আচমকাই বার ফোন পেয়ে বাপের বাড়ি চলে যান মনুয়া l প্রেমিকা চলে যাওয়ার পর ঘরে বসে এক একই মদ্যপান করেন অজিত l অনুপম বাড়ি ফিরলে এরপর রড দিয়ে বার বার আঘাত করে তাঁকে অজিত খুন করেন  l রড দিয়ে খুন করার পরিকল্পনা ছিল অজিতেরই । মনুয়া পুলিশকে জানিয়েছে, অজিত তাকে বলেছিল তুই আমাকে ঘরের মধ্যে ঢুকিয়ে দে। বাকিটা আমি একাই করব। 

ছয় বছর প্রেম করলেও অনুপম সিংহকে গত বছর জানুয়ারিতে বিয়ে করতে রাজি ছিল না মনুয়া মজুমদার। প্রেমিক হিসাবে অনুপম যোগ্য হলেও স্বামী হিসাবে মোটেই ভালো ছিল না অনুপম। মনুয়ার বাবা নির্মল মজুমদারের প্রবল চাপে মনুয়া বিয়ে করতে রাজি হয়। এমনকি বিয়ে না করতে আত্মহত্যারও চেষ্টা করেছিল মনুয়া।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad