স্বঘোষিত ধর্মগুরু গুরুমিত রাম রহিম সিংয়ের সাজা
ঘোষণাকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চীনের পক্ষ থেকে কটাক্ষ করা হয়েছে।
চীনা গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, ভারত আগে অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধান করুক। চীনা
সংবাদপত্রে ভারতকে ডোকলাম ইস্যুতে সেনা প্রত্যাহার করার কথাও বলা হয়েছে।
চীনের গ্লোবাল
টাইমসে বলা হয়েছে, ডেরা সাচ্চা সৌদার সহিংসতা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। চীন
আশা করছে ভারত দ্রুত এই বিষয়টি সমাধান করবে।
সম্প্রতি ডেরা সাচ্চা
সৌদা প্রধান গুরমিত রাম রহিম সিং ধর্ষণের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর
হরিয়ানা, পাঞ্জাবসহ বেশ কয়েকটি রাজ্যে গুরমিতের ভক্তদের তাণ্ডবে সংশ্লিষ্ট
এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সহিংসতার
জেরে কমপক্ষে ৩৮ বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হয়েছে। গোলযোগপূর্ণ এলাকায়
পরিস্থিতি সামাল দিতে কারফিউ জারি করাসহ সেনাবাহিনীকে মাঠে নামতে হয়েছে।
বিভিন্ন বিধি-নিষেধের পাশাপাশি ইন্টারনেটও বন্ধ করে দিতে হয়েছে।
এসব ঘটনাকে অজুহাত করে
চীনা গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, 'আমরা উদ্বিগ্ন যে, ভারত অভ্যন্তরীণ সহিংসতা
থেকে নজর ঘোরাতে ডোকলাম বিবাদকে ব্যবহার করতে পারে।’
কিন্তু এ ধরণের কোনো
সম্ভাবনার প্রমাণ অবশ্য চীনা গণমাধ্যমে দেয়া হয়নি। যদিও গোটা নিবন্ধে এ
কথার ওপর জোর দেয়া হয়েছে যে, ভারত আগে অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধান করুক।
এর পাশাপাশি এটাও বলা
হয়েছে যে, ওই ঘটনায় ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উন্মোচিত হয়ে গেছে। গ্লোবাল
টাইমসে বলা হয়েছে, ডেরা সাচ্চা সৌদার খ্যাতি এবং সর্বশেষ সহিংসতা ভারতের
রাজনৈতিক ও সামাজিক সমস্যাকে সকলের সামনে নিয়ে এসেছে।
ডোকলাম বিবাদ প্রসঙ্গে
ডেরা সাচ্চা সৌদাজনিত সহিংসতাকে ঢাল করে পুরোনো সুরের পুনরাবৃত্তি করে বলা
হয়েছে, ‘আমরা আশা করছি ভারত দ্রুত চীনা এলাকা থেকে নিজ জওয়ানদের সরিয়ে
নেবে এবং নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমস্যার দিকে নজর দেবে।’
চীনা গণমাধ্যমের
নিবন্ধে ভারতে স্বঘোষিত ‘বাবা’দের নিয়েও প্রশ্ন উত্থাপন করা হয়েছে। ওইসব
‘বাবা’রা ব্যাপক শক্তিশালী হয়ে ওঠায় ভারতের আধুনিকীকরণ নিয়েও প্রশ্ন
উত্থাপন করা হয়েছে।
No comments:
Post a Comment