মালদা: "শুধুই পা ভিজিয়ে ছবি তুলতেই বন্যার সময় মালদায় এসে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী"।মালদার দলীয় কর্মসূচিতে এসে এমনভাবেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র কটাক্ষ করলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী।
জেলার বন্যা দুর্গতদের পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের দাবিদাবা নিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে বিক্ষোপ সমাবেশ ও জেলাশাসককে ডেপুটেশন কর্মসূচি পালন করে মালদা জেলা কংগ্রেস।এদিনের কর্মসূচিতে যোগ দিতে উপস্থিত ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী।সঙ্গে ছিলেন উত্তর মালদার সংসদ তথা জেলা কংগ্রেস সভানেত্রী মৌসম বেনজির নূর,দক্ষিণ মালদার সংসদ আবু হাসেন খানচৌধুরী(ডালু) ছাড়াও জেলার সমস্ত কংগ্রেস বিধায়ক সহ জেলা নেতৃত্বে ও কর্মীরা।এদিন জেলা প্রশাসনিক ভবনের সামনে একটি বিক্ষোপ সমাবেশ করেন কংগ্রেস নেতৃত্ব।তারপরই কংগ্রেস নেতৃত্ব অতিরিক্ত জেলা শাসক দেবতোষ মন্ডলের হাতে বন্যা দুর্গতদের পুনর্বাসন,ত্রান থেকে বহু মানুষ বঞ্চিত থাকার কারণ,সরকারি সাহায্য সহ একাদিক দাবিদাবা নিয়ে একটি স্বারক লিপি তুলে দেন।
এই কর্মসূত্রে যোগ দিতে মালদায় এসে করা ভাষায় রাজ্য সরকার ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করেন বহরমপুর সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরী।এদিন তিনি জানান,"সারা উত্তরবঙ্গ ভয়ঙ্কর বন্যার স্বীকার হয়েছে।এমন পরিস্থিতির পরও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর ঘুম ভাঙে নি।মুখ্যমন্ত্রী গুরুং তামাং এগুলো নিয়েই ব্যস্ত।সেই সমস্যা তো রয়েছে তাবে বন্যা প্লাবিতদের সমস্যা নিয়ে কোনো উদ্বেগ নেই মুখ্যমন্ত্রীর।মালদা সহ একাধিক জেলার মানুষ এই ভয়াবহ বন্যায় জমির ফসল থেকে শুরু করে মাথা গোঁজার আশ্রয় পর্যন্ত হারিয়েছে।কিন্তু এই সমস্ত বিষয়ে আজ বাংলার মুখ্যমন্ত্রী উদাসীন নির্বিকার।বন্যার সময় মুখ্যমন্ত্রী মালদায় আসে ছিলেন।কিন্তু করলেন কি ? জাতীয় সড়কে পা ভেজালেন এবং ছবি তুললেন সেই সব খবরে তুললেন তারপর চলে গেলেন।এই সরকারকে বন্যা দুর্গতদের পাশে থেকে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।তাই আজ আমরা জেলাশাসকের দারস্ত হয়েছি।তবে অধীর বাবু কেন্দ্রের মোদি সরকারকেও নানা ইস্যুতে বিধলেন।তিনি আরো বলেন,আমাদের দেশে রেল যাত্রীদের নিরাপত্তা বলতে কিছু নেই।যেখানে প্রতিদিন দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে মানুষ।দুর্ঘটনার কবলে পড়ে মানুষের মৃত্যু সহ রেলের মূল পরিকাঠামোতে ত্রুটি সব ক্ষেত্রেই যখন প্রশ্নের মুখে।সেই পরিস্থিতিতে এই কেন্দ্রীয় সরকার এই সমস্ত সমস্যাকে গুরুত্বহীন করে বুলেট ট্রেনের উপর তোড়জোড় গুরুত্ব দিচ্ছে।কেন্দ্রের এক অদ্ভুত দ্বিচারিতা মনোভাব প্রকাশ পাচ্ছে।

No comments:
Post a Comment