ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার দেশে 'অবৈধভাবে' বসবাসরত ৪০
হাজার রোহিঙ্গা মুসলিমকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার
বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে।
আজ
(শুক্রবার) এ সংক্রান্ত এক আবেদনে সাড়া দিয়ে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত
শুনানিতে সম্মত হয়েছে। আগামী ৪ সেপ্টেম্বর ওই মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
প্রখ্যাত
আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণের উপস্থাপনা বিবেচনা করে প্রধান বিচারপতি দীপক
মিশ্রের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারপতির সমন্বিত বেঞ্চ এ ব্যাপারে দ্রুত
শুনানিতে সম্মত হয়েছে। প্রশান্ত ভূষণ এ ব্যাপারে দ্রুত শুনানির জন্য
আদালতে হলফনামা দিয়েছিলেন।
আদালতে দু’জন
রোহিঙ্গা অভিবাসীর পক্ষ থেকে দায়ের করা পিটিশনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারে তারা
মামলার মুখোমুখি হচ্ছেন এবং তাদের সেখানে ফেরত পাঠানো হলে তা আন্তর্জাতিক
চুক্তির লঙ্ঘন হবে।
ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে সম্প্রতি 'অবৈধভাবে' বসবাসরত ৪০ হাজার রোহিঙ্গা মুসলিমকে দেশ থেকে বের করে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
জাতীয়
মানবাধিকার কমিশন গণমাধ্যমের রিপোর্টের ভিত্তিতে গত ১৮ আগস্ট সপ্রণোদিত
হয়ে এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নোটিশ পাঠিয়েছে। এবং
স্বরাষ্ট্র সচিবকে এ ব্যাপারে ৪ সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়।
সম্প্রতি জাতিসংঘের পক্ষ থেকেও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর ভারতীয় পরিকল্পনা সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র ফারহান হক বলেন, ভারতের পদক্ষেপে জাতিসংঘ উদ্বিগ্ন। তাদের মতে,
শরণার্থীদের নিবন্ধীকরণের পরে ওই দেশে ফেরত পাঠানো যায় না যেখানে তাদের
বিরুদ্ধে ধর্ম, জাতি, জাতীয়তা, সামাজিক সংগঠন সংশ্লিষ্ট ও রাজনৈতিক
মতাদর্শের ভিত্তিতে অত্যাচারের আশঙ্কা রয়েছে। ভারতের ক্ষেত্রে জোর করে
শরণার্থীদের ফেরত না পাঠানোর নীতি প্রযোজ্য।
রোহিঙ্গা নির্যাতনের প্রতিবাদে কোলকাতায় বিক্ষোভ কর্মসূচি
এদিকে,
মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের নির্যাতন ও গণহত্যার প্রতিবাদে আগামী ৬
সেপ্টেম্বর কোলকাতায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিয়ানমার কনসুলেটে স্মারকলিপি প্রদান
কর্মসূচি হাতে নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন মুসলিম সংগঠন।
আজ (শুক্রবার) সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের সাধারণ মুহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন,
৬ সেপ্টেম্বর ১৮ টি মুসলিম সংগঠন ও কিছু মানবাধিকার সংস্থার পক্ষ থেকে
কলকাতার মিয়ানমার কনসুলেটে স্মারকলিপি প্রদান করা হবে এবং বিক্ষোভ
প্রদর্শন করা হবে।
তিনি বলেন, ভারত থেকে ৪০ হাজার রোহিঙ্গা মুসলিমদের ফেরত পাঠানোর যে চেষ্টা চলছে আমরা তারও প্রতিবাদ জানাব।
কামরুজ্জামান বলেন, ‘এদেশে যারা শরণার্থী হিসেবে বাস করছেন তাদের প্রত্যকের সসম্মানে বাস করার অধিকার দিতে হবে। তিনি বলেন, ভারত আজীবন শরণার্থীদের সম্মান জানিয়ে এসেছে।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যদি নেপাল,
ভুটান, তিব্বত, বাংলাদেশ, পাকিস্তানের শরণার্থীদের সম্মান ও অধিকার এমনকি
নাগরিকত্ব দেয়া হলে মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের ক্ষেত্রে তার ব্যতিক্রম হবে
কেন? যদি রোহিঙ্গাদের ক্ষেত্রে আলাদা পদক্ষেপ করা হয় তাহলে তা কেন্দ্রীয়
সরকারের দ্বিমুখী নীতির প্রতিফলন বলে বিবেচিত হবে।

No comments:
Post a Comment