আমি কী করব না করব সেটা কেউ বলতে পারে না : মুখ্যমন্ত্রী - Breaking Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Thursday, 21 September 2017

আমি কী করব না করব সেটা কেউ বলতে পারে না : মুখ্যমন্ত্রী





প্রয়োজনে কেউ আমার গলা কেটে নিতে পারে। কিন্তু, কেউ বলতে পারে না, আমি কী করব, না করব। হাজারবার উৎসব করব। কলকাতা হাইকোর্ট মহরমের দিন দুর্গাপ্রতিমা নিরঞ্জন নিয়ে অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেওয়ার পর একডালিয়ায় দুর্গাপুজোর উদ্বোধনে গিয়ে একথা বললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একইসঙ্গে তিনি বলেন, আমি সংবিধান মেনে চলা লোক। মানবধর্মে বিশ্বাস করি। তোষণের রাজনীতি করি না।
উৎসবে কোনওরকম অশান্তি হলে রাজ্য সরকার যে কড়া ব্যবস্থা নেবে, তা স্পষ্ট করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, উৎসবে অশান্তি পাকালে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উৎসবে কোনও গোলমাল বরদাস্ত করা হবে না। কেউ উৎসবের সময় অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করলে, আমার থেকে বড় শত্রু তার কেউ হবে না।

রাজ্যের বিরুদ্ধে চক্রান্ত হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। আজ দুর্গাপুজোর উদ্বোধনে গিয়ে ফের কেন্দ্রকে তোপ দাগেন। বলেন, রাজ্যের বিরুদ্ধে চক্রান্ত হচ্ছে। নানারকম এজেন্সি দিয়ে চক্রান্ত চলে। কিন্তু, যদি দেবদেবী বলে কিছু থাকে, তাহলে আমি এই চক্রান্ত ধূলিসাৎ করে দেব।

প্রসঙ্গত, দশমীর দিন সন্ধে ৬টা থেকে একাদশীর দিন পর্যন্ত দুর্গাপ্রতিমা নিরঞ্জন করা যাবে না বলে রাজ্য সরকার বিজ্ঞপ্তি জারি করে। মহরম ও তাজিয়ার জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রাজ্যের এই বিজ্ঞপ্তির প্রতিবাদে কলকাতা হাইকোর্টে তিনটি জনস্বার্থ মামলা হয়। সেখানে শুনানির সময় রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনেরাল (AG) কিশোর দত্ত বলেন, সন্ধে ৬টা নয়, দশমীর দিন রাত ১০টা পর্যন্ত প্রতিমা নিরঞ্জন করা যাবে। অনভিপ্রেত ঘটনা এড়াতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে হাইকোর্টে সওয়াল করেন তিনি।

কিন্তু, রাজ্যের সিদ্ধান্ত খারিজ করে আজ কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাকেশ তিওয়ারি এবং বিচারপতি হরিশ ট্যান্ডনের বেঞ্চ অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেয় যে, একাদশীর দিনও প্রতিমা নিরঞ্জন হবে।

এদিকে , সত্যের জয়। সাম্প্রদায়িক রাজনীতির পরাজয়। মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যকে ধর্মের নামে যে ভাগ করার চেষ্টা করেছিলেন, সেই ভাগ রুখে দিল হাইকোর্টের নির্দেশ। দুর্গাপ্রতিমা নিরঞ্জন নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের অন্তর্বর্তী নির্দেশের পর একথা বললেন BJP নেতা রাহুল সিনহা।
তিনি আরও বলেন, “মুসলিম সম্প্রদায়ের কোনও লোক নিরঞ্জন বন্ধ হোক চান না। কিন্তু, শুধুমাত্র ধর্মীয় রাজনীতি করার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই নোংরা পদক্ষেপ করেছেন। এর তীব্র নিন্দা করছি আমরা। আর হাইকোর্টের নির্দেশকে স্বাগত জানাচ্ছি।”

BJP নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায় হাইকোর্টের নির্দেশকে স্বাগত জানান। মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, দ্বিতীয়বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর মুখ পুড়ল। মুখ্যমন্ত্রী ভোটব্যাঙ্কের জন্য এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করে BJP নেত্রী বলেন, মুখ্যমন্ত্রী যাঁদের জন্য এগুলো করছেন, তাঁদের ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহার করছেন। তাঁদের কোনও উন্নয়ন হচ্ছে না। এসব ওই সম্প্রদায়ের মানুষের বোঝা উচিত।

প্রসঙ্গত, রাজ্য সরকার বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল যে, দশমীর দিন সন্ধে ৬টা থেকে একাদশী পর্যন্ত দুর্গাপ্রতিমা নিরঞ্জন করা যাবে না। মহরমের তাজিয়ার জন্য এই নির্দেশ জারি করা হয়। রাজ্যের বিজ্ঞপ্তির বিরোধিতা করে হাইকোর্টে তিনটি জনস্বার্থ মামলা হয়। মামলার শুনানির সময় রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনেরাল (AG) কিশোর দত্ত বলেন, সন্ধে ৬টা নয়, দশমীর দিন রাত ১০টা পর্যন্ত প্রতিমা নিরঞ্জন করা যাবে।

কিন্তু, আদালত প্রশ্ন তোলে, কীসের ভিত্তিতে রাজ্য সরকার এই বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে ? AG উত্তরে জানিয়েছিলেন, কোনও অনভিপ্রেত ঘটনা এড়াতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই নিয়ে রাজ্যকে কড়া ভর্ৎসনা করে গতকাল দুই বিচারপতি বলেন, শুধুমাত্র ধারণার উপর ভিত্তি করে রাজ্য সরকার কোনও বিজ্ঞপ্তি জারি করতে পারে না। সংবিধান এটা অনুমোদন করে না। দুই সম্প্রদায় কেন একসঙ্গে অনুষ্ঠান করতে পারবে না, সেই প্রশ্নও তোলেন বিচারপতিরা।


আজ ওই মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট অন্তর্বর্তী নির্দেশে জানিয়ে দিল, মহরমের দিনও হবে দুর্গাপ্রতিমা নিরঞ্জন। আজ এই অন্তর্বতী নির্দেশ দিয়েছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাকেশ তিওয়ারি এবং বিচারপতি হরিশ ট্যান্ডনের ডিভিশন বেঞ্চ।

1 comment:

  1. এই মমতা বৃহত বাংলা গড়বার চেষ্ঠঠায় আছে..মায়ানমারে রেহিঙ্গা দের জন্য মমতার তলা ফেটে যাচ্ছে ..বাংলাদেশ কাশ্মীরি এর নির্জতিত হিন্দু দের জন্য নয়.হাইকোর্ট এর রায় প্রমানিত হল মমতা আসল হিন্দু .বিনাশ কালে বিপরীত বুদ্ধি

    ReplyDelete

Post Top Ad