বিজেপিশাসিত রাজস্থান প্রদেশের আলওয়ারে কিছু হিন্দু অ্যাক্টিভিস্টের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ এক মুসলিম পরিবার থেকে ৫১টি গরু ছিনিয়ে নিয়ে গোশালায় হস্তান্তর করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ১০ দিন ধরে ওই মুসলিম পরিবারের কর্তা সুব্বা খান (৪৫) তার গরু ফিরে পাওয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে, পুলিশ বলছে ওই ঘটনায় তাদের কোনো হাত নেই।
গণমাধ্যমে দেয়া সাক্ষাৎকারে সুব্বা খান বলেন, গো-রক্ষকদের অভিযোগের ভিত্তিতে স্থানীয় পুলিশ জোর করে ৫১টি গরু ছিনিয়ে নিয়ে গোশালায় পাঠিয়ে দিয়েছে। তিনি এখন এসডিএম দফতর ও থানায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন কিন্তু এ পর্যন্ত কোনো ফায়দা হয়নি।
অন্যদিকে, পুলিশের দাবি, ওই ঘটনায় তাদের কোনো হাত নেই। স্থানীয় লোকেরাই গরুগুলো গোশালায় নিয়ে গিয়েছিল।
সুব্বা খানের বাসায় বর্তমানে ১৭টি বাছুর থাকায় তাদের এখন বাধ্য হয়ে বোতলে করে দুধ খাওয়াতে হচ্ছে। তিনি এসডিএম দফতর এবং থানায় হলফনামা দিয়ে বলেছেন, সমস্ত গরুই দুধেলা এবং তাদের বাছুর তার বাসায় রয়েছে।
স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান শের মুহাম্মদ বলেন, পুলিশের দাবি সুব্বা খান গরু জবাইতে জড়িত ছিলেন। শের মুহাম্মদ বলেন, যদি এরকম হয় তাহলে পুলিশ তার বিরুদ্ধে মামলা করেনি কেন?
আলওয়ারের পুলিশ সুপার রাহুল প্রকাশ বলেন, এ ধরণের ঘটনা তার জানা নেই।
কিশানগড়ের পুলিশ কর্মকর্তা রাঠোর সুব্বা খানের বাসা থেকে গরু ছিনিয়ে যাওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, গ্রামবাসীরাই সুব্বা খানের গরু গোশালায় নিয়ে গিয়েছিল।
এবার গ্রামবাসীরা এসডিএমকে চিঠি লিখে বলেছেন, সুব্বা খান গরু পাচারের সঙ্গে জড়িত নন। দুধ বিক্রি করে তার সংসারের জীবিকা নির্বাহ হয়।
মুহাম্মদ বলে, যদি মুসলিমদের এভাবে টার্গেট করা হয় তাহলে রাজ্য সরকারের উচিত আইন তৈরি করে মুসলিম সম্প্রদায়কে গরু পালন এবং পালিত পশু রাখায় নিষেধাজ্ঞ জারি করা।

No comments:
Post a Comment