পায়েল দেব, কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়তে চলেছেন শাসকদলনেত্রীর প্রাক্তন ডানহাত মুকুল রায়।আর তাঁর হাত ধরেই এক এক করে ছাড়তে চলেছেন তৃণমূল নেতারা।উত্তর দিনাজপুর জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক শুভ্র রায়চৌধুরী মুকুল রায়ের ইস্তফাকে হাতিয়ার করে বলেন, “দাদা দলে নেই, সেখানে আমারও থাকার কোনও মানে হয় না।” এভাবেই মুকুল রায়ের প্রতি আনুগত্য দেখিয়ে দল ছাড়লেন ।রবিবার ইস্তফাপত্র জমা দেন তিনি।তবে দল কি মুকুল রায়ের জন্যই ছাড়লেন ?উত্তরে তিনি বলেন, “মুকুল রায়কে দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে এবং তাঁর অনুপ্রেরণাতেই তৃণমূল কংগ্রেসে এসেছিলাম। কিন্তু, যেখানে মুকুলদা নিজেই দল ছেড়ে দিয়েছেন, সেখানে ওই দলের থাকার কোনও মানে হয় না। মুকুলদাকে আমি শ্রদ্ধা করি। তিনি আমার কাছে বটবৃক্ষের মতো। স্বাভাবিকভাবেই বটগাছের নিচেই থাকব।”
জানা গিয়েছে, টানা দু’বছর বিজেপির উত্তর দিনাজপুর জেলা সভাপতির দায়িত্ব সামলেছেন শুভ্রবাবু। এরপর মুকুল রায়ের সঙ্গে তাঁর আলাপ হয়। আর গত বছর ১০ জানুয়ারি তৃণমূলে যোগ দেন তিনি। তবে নিজে তিনি দল বদল করেননি। জেলার কয়েক হাজার বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে তৃণমূলে যোগ দেন, সূত্রের খবর।এরপর দায়িত্ব পান তৃণমূল জেলা সাধারণ সম্পাদক পদের।
প্রসঙ্গত, মুকুল রায় তৃণমূলে ভাঙন ধরাবেন তা অবধারিত। প্রাক্তন বিধায়ক, সাংসদ ও পুরসভা এবং পঞ্চায়েতের জনপ্রতিনিধি ছাড়াও তৃণমূলের বর্তমান বিধায়ক ও সাংসদ মিলিয়ে জনা কুড়ি তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে মুকুলের সঙ্গেই যোগ দেবেন। দল ত্যাগ বিরোধী আইনের আওতায় না পড়ার সংখ্যাটা আনার জোর চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে। সুত্রের দাবি, যদি সংখ্যাটা মুকুল আনতে না পারেন তাহলে যে সংখ্যাটা আনবেন তাদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ আইন প্রয়োগ করতে গেলে তৃণমূলকেই সমস্যায় পড়তে হবে। সুত্রের ব্যাখ্যা, কংগ্রেস থেকে তৃণমূল যাদের ভাঙিয়ে এনেছিল তাদের ক্ষেত্রেও ওই আইন প্রয়োগ করতে হবে। সব মিলিয়ে, দীপাবলির পর রাজ্য রাজনীতিতে এমন পরিবর্তন হতে চলেছে যা সামাল দিতে তৃণমূলকেই বেগ পেতে হবে।

No comments:
Post a Comment