ভারত সরকারের খসড়া হজনীতিতে ভর্তুকি তুলে দেয়া এবং ৪৫
বছরের বেশি বয়সী নারীদের মাহরাম পুরুষ সঙ্গী ছাড়াই চার জনের দল গঠন করে
হজে যেতে পারবেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম নেতাদের
মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, ‘হজে ভর্তুকি তুলে দেয়াই উচিত। কেননা ভর্তুকি দেয়ার নাম করে হজযাত্রীদের কাছ থেকে যে টাকা নেয়া হয়, তার চেয়ে অনেক কম খরচে হাজীরা হজে যেতে পারেন। ভর্তুকি দেয়ার নাম করে আসলে মিথ্যা প্রচারণা করা হচ্ছে।’
৪৫ বছরের বেশি বয়সী নারীদের মাহরাম পুরুষ ছাড়া হজে যেতে পারবে বলে যা বলা হয়েছে তা গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানান মুহাম্মদ কামরুজ্জামান।
তিনি বলেন, ‘শরিয়া
সম্মত উপায়েই নারীদের হজে যাওয়া উচিত। এতে কোনো কমিটির সুপারিশ বা সরকারি
সিদ্ধান্ত বা নির্দেশিকা জারি হওয়া কাম্য নয়। মাহরাম পুরুষ ছাড়া কোনো নারীই
হজে যেতে পারেন না। সরকার যদি মাহরাম পুরুষ ছাড়াই নারীদের হজে যেতে পারবে
বলে সিদ্ধান্ত নেয় তা ইসলামী শরীয়ায় হস্তক্ষেপের শামিল হবে।’
অল ইন্ডিয়া সুন্নাতুল জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক মুফতি আব্দুল মাতীন বলেন, ‘গ্লোবাল
টেন্ডারের মাধ্যমে বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে হজে গেলে অনেক কম খরচে হাজীরা
হজে যেতে পারবেন। সরকারিভাবে হাজীদের কাছ থেকে বেশি টাকা আদায় করে তাতে
ভর্তুকি দেয়া হচ্ছে বলে দাবি করার কোনো অর্থই হয় না।’
মুফতি আব্দুল মাতীন মাহরাম পুরুষ ছাড়া কোনো নারীর হজে যাওয়া উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন।
তিনি অবশ্য বলেন, ‘মাহরাম
পুরুষের সঙ্গে নারীরা হজে গেলেও সৌদি আরবে গিয়ে চরম অব্যবস্থার মধ্যে
পড়ছেন তারা। সেখানে একই ঘরে অন্য পুরুষ ও নারীদের মধ্যে তাদেরকে থাকতে
হচ্ছে। এক্ষেত্রে নারীদের পর্দা ও মর্যাদা লঙ্ঘিত হচ্ছে। সেজন্য নারীদের
ক্ষেত্রে বিশেষ ব্যবস্থা থাকা উচিত।’
এর আগে
গত জানুয়ারিতে মজলিশ-ই ইত্তেহাদুল মুসলেমিন (মিম) প্রধান ব্যারিস্টার
আসাদউদ্দিন ওয়াইসি এমপি হজ ভর্তুকি তুলে দেয়ার দাবি জানিয়েছিলেন। হজের জন্য
ভর্তুকি দেয়ার কোনো প্রয়োজন নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন। তার দাবি, ৬৯০
কোটি টাকার হজ ভর্তুকি দেয়া হয় এয়ার ইন্ডিয়াকে, হজ যাত্রীদের নয়। বরং,
রুগ্ন রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়াকে ভর্তুকির নামে ওই টাকা দেয়া হয়।
ওয়াইসি ভর্তুকির টাকা মেয়েদের শিক্ষায় ব্যয় করা উচিত বলে মন্তব্য করেন।
প্রাক্তণ সচিব আফজল আমানুল্লাহর নেতৃত্বাধীন এক কমিটি হজ নীতি নিয়ে খসড়া তৈরি করে
কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে। এর আগে সুপ্রিম কোর্ট
২০২২ সালের মধ্যে দফায় দফায় হজে ভর্তুকি তুলে দিতে নির্দেশ দিয়েছিল।
শনিবার কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু উন্নয়নমন্ত্রী মুখতার আব্বাস নাকভি বলেন,
কেন্দ্রীয় সরকার ২০১৮ সালের হজযাত্রা নয়া নীতি অনুযায়ী করতে চায়।
হজের খরচ কমাতে হজ যাত্রীদের বিমানের পরিবর্তে জাহাজে পাঠানোর প্রস্তাবসহ হজযাত্রার স্থান ২১ থেকে কমিয়ে ৯টি স্থান অর্থাৎ দিল্লি, লক্ষনৌ, কলকাতা, আহমেদাবাদ, মুম্বাই, চেন্নাই, হায়দরাবাদ, বেঙ্গালুরু ও কোচি করার কথা বলা হয়েছে।
No comments:
Post a Comment