প্রথম ম্যাচেই ছয় মারলেন সদ্য তৃণমূল ত্যাগী মুকুল রায়। তিনি ধর্মতলায় এক বিজেপির সমাবেশ থেকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে সরাসরি অভিযোগের তির ছোঁড়েন। জাগো বাংলা থেকে বিশ্ব বাংলা সবই হল এক একটা কোম্পানি আর তার মালিক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তা ফাইল খুলে প্রমাণসহ বলেন।
প্রসঙ্গত মুকুল রায়ের মতলবটা প্রকাশ্যে না আনলেও তা বোঝা যায় যে তিনি খালি পঞ্চায়েত ভোটের জন্য বসে নেই। তাঁর চোখ গোটা দেশ। ফলে তিনি দেরি না করেই দেখা করতে গেলেন সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহের সঙ্গে কথা বলতে।
আহমেদাবাদ এয়ারপোর্টে কয়েক মিনিটের সাক্ষাৎ। তখনই অমিত শাহ তাঁকে অভিনন্দন জানান বলে মুকুল ঘনিষ্ঠ সূত্রে খবর। ওই কয়েক মিনিটেই পশ্চিমবঙ্গ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনাও হয়েছে। রাজ্যে দলের রণকৌশল নিয়ে দু’জনের মধ্যে কথা হয় বলে জানা গেছে। তবে ঠিক কী আলোচনা হয়েছে একান্তে তা নিয়ে ঝেড়ে কাশেননি কেউই।ভিত শক্ত করতে শনিবার নদিয়া সফরের সময় অমিতের ফোন পেয়ে দেরি করেননি। সোজা উড়ে যান দিল্লিতে। সেখান থেকে আজ সকালেই আমেদাবাদ। গুজরাতে BJP-র হয়ে প্রচার করবেন তিনি। গুজরাটের বাঙালি অধ্যুষিত এলাকায় তাঁকে প্রচারে নামাচ্ছে দল। সুরাতও তাঁকে কাজে লাগানো হবে বলে বিজেপি সূত্রে জানা গেছে।
রাজনৈতিক মহল সূত্রে খবর, ভোট প্রচারে গুজরাতে গিয়ে এক ঢিলে দুই পাখি মারতে চাইছেন তিনি। একদিকে সর্বভারতীয় নেতার পরিচয় ধরে রাখা। অন্যদিকে, মোদি-অমিতের খাসতালুকে প্রচারে ঝড় তুলে দলের অন্দরে নিজের নম্বর বাড়ানো। কারণ, তিনি ভালোই জানেন বঙ্গ বিজেপি তাঁর জন্য লাল কার্পেট রাখেনি। সর্বভারতীয় নেতাদের চাপে মুখে কুলুপ এঁটেছেন নেতারা। সময় এলে মুকুল বিরোধিতা করতে পিছপা হবেন না তাঁরা। আর দলে যোগ দিয়েই নিজের গোষ্ঠী তৈরির বিষয়টি মাথাতেও আনছেন না তিনি। তাতে হিতে বিপরীত হতে পারে। তার চেয়ে পছন্দের টেস্ট ম্যাচ খেলাই শ্রেয় বলে অতি ঘনিষ্ঠদের বলেছেন মুকুল। সেই খেলার অঙ্গ হিসেবে মোদি-অমিতের ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন।



No comments:
Post a Comment