সময়টা 1850 থেকে 1855 সালের মধ্যে। নদিয়ার রানাঘাটের জমিদার তখন কৃষ্ণপন্তীর বংশধর গিরিন্দ্রনাথ পাল চোধুরী। সেই সময় তার রন্ধনসালায় ভিয়েনের দায়িত্ব ছিল ফুলিয়ার বাসিন্দা হারাধন ময়রার। শোনাজায় কোনো এক অনুষ্ঠানে মিষ্টি তৈরির সময় বাড়ির এক বাচ্চার বায়না সামাল দিতে ফুটন্ত রসে ছানা হাতে গোল বলের মতন বানিয়ে ছেড়ে দিয়েছিলেন। খেলার ছলে বানানো সেই মিষ্টি জমিদার পরিবারের খুব পছন্দ হয়েছিল। রসের মধ্যে ছানার গোল্লা, তাই নাম করন এর রসগোল্লা। নদিয়ার থেকে এই রসগোল্লার উৎপত্তি হলেও পরবর্তী সময়ে এই রসগোল্লার অনেক রকম ফের হয়েছে। যার মধ্যে বিখ্যাত নবীন চন্দ্র দাসের স্পঞ্জ রসগোল্লা। 2015 সালে যখন ওড়িশা সরকার রসগোল্লা তাদের দাবি নিয়ে GI রেজিস্ট্রেশনের দাবি জানালো তখন বাংলা তার বিরোধিতা করে রসগোল্লা বাংলার সৃষ্টি বলে দাবি জানায়। সেই সময় রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী রবি রঞ্জন চট্টোপাধ্যায় এর রসগোল্লার ইতিহাসের প্রমান তুলে দিয়ে আসেন রানাঘাট পুরসভার চেয়ারম্যান পার্থসারথী চট্টোপাধ্যায় ও কাউন্সিলর কশল দেব বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘ দুই বছর লড়াই চলার পর অবশেষে মঙ্গলবার রসগোল্লা বাংলার সৃষ্টি বলে স্বীকৃতি পায়। এই স্বীকৃতি পাবার খবর শুনে স্বাভাবিক ভাবেই উচ্ছসিত রানাঘাট বাসী। বুধবার সকালে বৃষ্টি উপেক্ষা করেই রানাঘাট কোর্ট মোড়ে সমস্ত পথচারী দের মধ্যে বাংলার জয়কে সামনে রেখে রসগোল্লা বিতরণ করে রানাঘাট স্বাধীনতা দিবস উজ্জাপন কমিটির সদস্যরা।
Post Top Ad
Wednesday, 15 November 2017
বৃষ্টি উপেক্ষা করেই বাংলার জয়কে সামনে রেখে কেন রসগোল্লা বিতরণ হল?
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment