কলকাতাসহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলা ও ব্লকস্তরে দিনটি কালো দিবস হিসেবে পালন করা হচ্ছে।
কলকাতায়
আজ রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের নেতৃত্বে বড় প্রতিবাদ
মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এখানে মিছিলে অংশগ্রহণকারী তৃণমূল সমর্থকরা ‘মোদি হঠাও, দেশ বাঁচাও’, ‘জিএসটি ‘কালা কানুন’ মানছি না, মানবো না’ স্লোগান দেন।
কলকাতা
ধর্মতলা এলাকায় আজ রাজ্যের বিদ্যুৎমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের
নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল হয়। এখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির
কুশপুত্তলিকা পোড়ানো হয়।
নোট বাতিলের বার্ষিকীতে বিক্ষোভ
কলকাতা রাসবিহারি অ্যাভিনিউয়ে বিজেপি’র অস্থায়ী মঞ্চ থেকে দিনটিকে ‘কালো টাকা বিরোধী দিবস’ ও ‘উল্লাস দিবস’
হিসেবে পালন করার সময় তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা সেখানে থাকা চেয়ার এবং
অন্যান্য আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হলে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে
বিক্ষোভকারীরা বিজেপির অস্থায়ী মঞ্চও ভেঙে ফেলেন। একই এলাকায় তৃণমূল ও বিজেপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি থেকে স্লোগান ইত্যাদিকে কেন্দ্র করে বচসা ও উত্তেজনা ছড়ায়।
তৃণমূল নেত্রী মালা রায়ের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে কটূক্তি করে প্ররোচনামূলক মন্তব্য করায় উভয়পক্ষের মধ্যে বচসা হয়, কিন্তু তাদের কোনো সমর্থক বিশৃঙ্খলায় জড়িত নয়। তাদের পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি থাকলেও বিজেপি’র কোনো কর্মসূচি ছিল কী না তা তার জানা নেই বলে মালা রায় বলেন। আজ কংগ্রেস ও বামফ্রন্টের পক্ষ থেকেও দিনটিকে কালো দিবস হিসেবে পালন করা হয়।
নোট বাতিলের বার্ষিকীতে মোদি বিরোধী বিক্ষোভ
নোট বাতিল প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল নেতা ও পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই সময় বলেছিলেন এটি একটি সর্বনাশা সিদ্ধান্ত,
ভারতে কালো দিন ফিরে আসবে। হাজারো মানুষ কাজ হারাবেন। আজ দেখা যাচ্ছে লাখো
মানুষ কাজ হারিয়েছেন। যারা মুম্বাই এবং সুরাটে কাজ করতেন তারা ফিরে আসতে
বাধ্য হয়েছেন। শুধু বাংলার মানুষ নয়, নোট বাতিলের দলে গুজরাটের মানুষও হাহাকার করছেন। ভারতের মানুষের জন্য আজ ‘কালোদিন’। দিনটিকে পালন করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভারত ছাড়োর ডাক দেয়া হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অবশ্য নোট বাতিলের সাফল্য দাবি করে এক বার্তায় বলেছেন, ‘১২৫ কোটি ভারতীয় নোট বাতিলের যুদ্ধে লড়াই করে জয়ী হয়েছেন।’ তিনি একে ‘ঐতিহাসিক সাফল্য’ বলে অভিহিত করেছেন। দুর্নীতি ও কালো টাকার বিরুদ্ধে দেশবাসী সরকারের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন বলেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন।
গত বছর ৮ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এক ঘোষণায় এক হাজার ও পাঁচশ’
টাকার নোট বাতিল হয়ে যায়। আচমকা ওই সিদ্ধান্তে বহু মানুষ দুর্ভোগে পড়েন।
সেই ঘটনার বর্ষপূর্তিতে বিরোধীদের পক্ষ থেকে দিনটিকে স্মরণ করতে ‘কালো দিবস’ এবং কেন্দ্রীয় সরকারে ক্ষমতাসীন বিজেপির পক্ষ থেকে ‘কালো টাকা বিরোধী দিবস ও উল্লাস দিবস’ হিসেবে পালন করা হচ্ছে।
কংগ্রেসের ভাইস-প্রেসিডেন্ট রাহুল গান্ধী বলেছেন, ‘নোট বাতিল একটি ট্র্যাজেডি। প্রধানমন্ত্রীর নির্বুদ্ধিতার জন্য কোটি কোটি ভারতীয়দের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে, আমরা তাদের পাশে আছি।’
উত্তর প্রদেশের প্রাক্তণ মুখ্যমন্ত্রী ও বি এস পি নেত্রী মায়াবতী নোট বাতিলকে দেশের ‘কালো অধ্যায়’ বলে অভিহিত করেছেন।
বিহারের প্রাক্তণ মুখ্যমন্ত্রী ও আরজেডি প্রধান লালু প্রসাদ যাদব একে অহংকারের পরিতৃপ্তি বলে অভিহিত করে ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেড়শ’ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেন।
No comments:
Post a Comment