কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনন্ত কুমার হেগড়েকে বরখাস্তের দাবি - Breaking Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Wednesday, 27 December 2017

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনন্ত কুমার হেগড়েকে বরখাস্তের দাবি

কংগ্রেস এমপি গুলাম নবী আজাদ


সংসদে আজ বিরোধীদের তুমুল হট্টগোলের জেরে অধিবেশনের কাজকর্ম ব্যাহত হয়েছে। আজ (বুধবার) সংসদের কাজ শুরু হতেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনন্ত কুমার হেগড়েকে বরখাস্তের দাবিতে বিরোধীরা সোচ্চার হন।
সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় বিরোধীদলনেতা ও কংগ্রেস এমপি গুলাম নবী আজাদ অনন্ত কুমার হেগড়ের সংবিধান পরিবর্তন সম্পর্কিত বিতর্কিত মন্তব্য উত্থাপন করে তাকে বরখাস্তের দাবি জানান। এ সময় অন্য সদস্যরা তাকে সমর্থন জানিয়ে রাজ্যসভার ওয়েলে নেমে স্লোগানে ফেটে পড়েন। তীব্র গোলযোগের ফলে প্রথমে বেলা ১২ টা পর্যন্ত এবং পরে অধিবেশনের কাজ শুরু হলে পরিস্থিতি একইরকম থাকায় পুনরায় বেলা ২ টা পর্যন্ত চেয়ারম্যানকে অধিবেশনের কাজ মুলতুবি ঘোষণা করতে হয়।
আজ বিরোধী সদস্যদের হট্টগোলের ফলে শূন্যকাল এবং প্রশ্নোত্তর পর্ব হতে পারেনি।বিরোধী সদস্যদের দাবি, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনন্ত কুমার হেগড়ে সংবিধান বিরোধী মন্তব্য করায় তার মন্ত্রী পদে থাকার কোনো অধিকার নেই।
রাজ্যসভায় বিরোধীদলনেতা গুলাম নবী আজাদ বলেন, মন্ত্রী যে বিবৃতি দিয়েছেন তার সাফাই দেয়া উচিত। কেননা তিনি একটু পরেই সংসদ থেকে বেরিয়ে যাবেন।
আজাদকে থামিয়ে দিতে সংসদ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বিজয় গোয়েল বলেন, সংসদে বিনা নোটিসে কোনো ইস্যুতে আলোচনা হতে পারে না।
গোয়েলের পাল্টা জবাবে গুলাম নবী আজাদ বলেন, ভারতের সংবিধানের প্রতি যে মন্ত্রীর আস্থা নেই তার মন্ত্রী পদে থাকার কোনো অধিকার নেই।
তৃণমূল এমপি সুখেন্দু শেখর রায় বলেন, সংবিধানের প্রস্তাবনায় সেক্যুলারিজমের উল্লেখ আছে। কোনো মন্ত্রীর কী তা অমান্য করার অধিকার আছে?
সমাজবাদী পার্টির নেতা ও এমপি নরেশ আগ্রোয়াল বলেন, সংবিধান গণতন্ত্রের ‘রামায়ণ ও গীতা’। যে মন্ত্রী একে এবং বাবাসাহেব আম্বেদকরকে (সংবিধান রচয়িতা) অপমান করে তাকে অবিলম্বে বরখাস্ত করা উচিত।
রাজ্যসভার চেয়ারম্যান ওই ইস্যুতে বাবাসাহেবকে টেনে আনার বিরোধিতা করলে সমাজবাদী পার্টির অন্য এমপি এবং কংগ্রেস ও তৃণমূল এমপিরা ওয়েলে নেমে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে তুমুল বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে চেয়ারম্যানকে অবশেষে সভা মুলতুবি ঘোষণা করতে হয়।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি কর্নাটকের এক অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় কর্মদক্ষতা উন্নয়ন দফতরের প্রতিমন্ত্রী অনন্ত কুমার হেগড়ে বলেন, ‘কেউ যদি নিজেকে হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান কিংবা লিঙ্গায়েত বলেন, তাতে আমি খুশি হই। কারণ, তিনি তার শিকড়কে চেনেন। কিন্তু যারা নিজেদের ‘সেক্যুলার’ বলেন, তাদের বাবা মায়ের ঠিক নেই। তারা নিজেদের রক্তের যোগ জানেন না। তার মন্তব্য- ‘সংবিধান পরিবর্তন করে দিতেই আমরা ক্ষমতায় এসেছি। আগেও সংবিধান পরিবর্তন হয়েছে। ভবিষ্যতেও একে পরিবর্তন করা হবে।’হেগড়ের ওই মন্তব্যের পরেই রাজনৈতিকমহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad