ফলচাষে আগ্রহী গ্রামের মহিলারা
হালিশহর, ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৭।
বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা গ্রামে গিয়ে ফল চাষের প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছিলেন; তাতে আগ্রহী মহিলাদের ভীড়। উত্তর ২৪ পরগণার সালিদহ অঞ্চলের আঁটিসাড়া গ্রাম। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে খুব বেশী দূরত্ব নয়; ফলে চাষীদের মধ্যে বিজ্ঞান সম্মত চাষাবাদের রেওয়াজ আছে। গ্রামবাসী উদ্যান ফসল চাষ করে বেশী লাভ করতে চান। তাই চাষ থেকে বেশী লাভ পেতে এবং চাষের কাজে সহযোগী হতে গ্রামের মহিলাদেরও উৎসাহী হতে দেখা গেল। নারী-পুরুষ মিলিয়ে ১০০ জনের মত চাষী অংশ নিলেন কৃষি আলোচনা সভায়। উন্নত পদ্ধতিতে আম চাষ নিয়ে বক্তব্য রাখলেন অধ্যাপক ড. কল্যাণ চক্রবর্তী; কলা চাষ নিয়ে আলোচনা করলেন ড. দিলীপ কুমার মিশ্র এবং ফলের লাভজনক বাগিচায় সাথী ফসল ও পুষ্টি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে চাষীদের মতামত দিলেন ড. দেবলীনা মাঝি। গবেষক দেবাশিস রাণা ও কৃষি সাংবাদিক জয়তি দে উপস্থিত ছিলেন।
ড. কল্যাণ চক্রবর্তী বলেন, বারোমাসি বা দোফলা আমগাছ উচ্চ ঘনত্বের দ্বি-বেড়া সারি পদ্ধতিতে লাগিয়ে লাভ বেশী পাওয়া যাবে। সাধারণ ভাবে আমগাছ ১০ মিটার x ১০ মিটার দূরত্বে লাগানো হয়। দ্বি-বেড়া সারিতে ৫ মিটার সারি দূরত্বে এবং সারিতে ৫ মিটার গাছ-দূরত্বে চারা লাগানো হয়। মাঝে ১০ মিটার ফাঁক দিয়ে আবার দ্বি-বেড়ায় ৫x৫ মিটার দূরত্বে দুটি সারিতে গাছ লাগানো হয়। এইভাবে গাছের সংখ্যা হেক্টরে ১০০ থেকে বেড়ে হয়ে যায় ২২২টি। গাছের সংখ্যা বাড়ায় মোট ফলনও বাড়ে। অন্যান্য জাতের মধ্যে তিনি আম্রপালি মল্লিকা সংকর জাতদুটি সুপারিশ করেন। ডাল কেটে, পরিচর্যা করে পুরনো আম বাগান কিভাবে পুনরুজ্জীবিত করা যায় তা নিয়েও আলোচনা করেন। আম বাগান থেকে নিয়মিত ফলন পেতে মাটিতে নির্দিষ্ট মাত্রায় প্যাক্লোবিউট্রাজোল হর্মোন প্রয়োগের সুপারিশ করেন। আমের শোষক পোকা এবং গুঁড়োচিতি রোগ সমেত নানান সমস্যার সমাধানের কথা বলেন।
ড. দিলীপ কুমার মিশ্র সচিত্র পোষ্টার প্রদর্শন করে কলার নানান উন্নত জাত, চাষ পদ্ধতি, রোগ-পোকার সমস্যা ও তার মোকাবিলার কথা আলোচনা করেন। টিস্যু কালচার কলার চারা কেন ভালো, সেকথা ব্যাখ্যা করেন। কলা থেকে নানান প্রক্রিয়াকৃত খাবার তৈরির কথা আলোচনা হয় যার প্রতি মহিলাদের আগ্রহ ছিল। কলার তন্তু থেকে কিভাবে বস্ত্র বয়ন হতে পারে সে প্রসঙ্গও ছিল।
ড. দেবলীনা মাঝির বক্তব্যে মিশ্র ফল চাষের ধারণা কৃষকেরা মন দিয়ে শুনেছেন। কেন মাঠের ফসল চাষ না করে উদ্যান ফসল চাষ করতে হবে তা বুঝিয়ে বলেন।
কৃষকেরা নিয়মিত চাষের তথ্য পাবার আগ্রহ দেখালে উপস্থিত কৃষকদের 'ফার্মলোর' হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপের সন্ধান দেন গবেষক দেবাশিস রাণা। উনি বলেন, বহু কৃষি বিশেষজ্ঞ, অধ্যাপক ও প্রগতিশীল কৃষকের সমন্বয়ে গঠিত এই গ্রুপ কৃষকদের নানান সমস্যার সমাধান ও পরামর্শ দেয়। কৃষি সুপারিশ পাওয়ার সোশ্যাল মিডিয়া হল 'ফার্মলোর'। কৃষকদের অনেককেই সেই সুযোগ গ্রহণ করতে গ্রুপের সদস্য হন।
আলোচনা সভায় কৃষকেরা নিজেদের কিছু প্রশ্ন তুলে ধরলে তার উত্তর দেওয়া হয়। কৃষকদের মধ্যে বিজ্ঞানীদের চলভাষ নম্বর নেবার আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মত। পরিশেষে উপস্থিত সবাইকে মিষ্টিমুখ করিয়ে সভা শেষ হয়।
হালিশহর, ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৭।
বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা গ্রামে গিয়ে ফল চাষের প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছিলেন; তাতে আগ্রহী মহিলাদের ভীড়। উত্তর ২৪ পরগণার সালিদহ অঞ্চলের আঁটিসাড়া গ্রাম। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে খুব বেশী দূরত্ব নয়; ফলে চাষীদের মধ্যে বিজ্ঞান সম্মত চাষাবাদের রেওয়াজ আছে। গ্রামবাসী উদ্যান ফসল চাষ করে বেশী লাভ করতে চান। তাই চাষ থেকে বেশী লাভ পেতে এবং চাষের কাজে সহযোগী হতে গ্রামের মহিলাদেরও উৎসাহী হতে দেখা গেল। নারী-পুরুষ মিলিয়ে ১০০ জনের মত চাষী অংশ নিলেন কৃষি আলোচনা সভায়। উন্নত পদ্ধতিতে আম চাষ নিয়ে বক্তব্য রাখলেন অধ্যাপক ড. কল্যাণ চক্রবর্তী; কলা চাষ নিয়ে আলোচনা করলেন ড. দিলীপ কুমার মিশ্র এবং ফলের লাভজনক বাগিচায় সাথী ফসল ও পুষ্টি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে চাষীদের মতামত দিলেন ড. দেবলীনা মাঝি। গবেষক দেবাশিস রাণা ও কৃষি সাংবাদিক জয়তি দে উপস্থিত ছিলেন।
ড. কল্যাণ চক্রবর্তী বলেন, বারোমাসি বা দোফলা আমগাছ উচ্চ ঘনত্বের দ্বি-বেড়া সারি পদ্ধতিতে লাগিয়ে লাভ বেশী পাওয়া যাবে। সাধারণ ভাবে আমগাছ ১০ মিটার x ১০ মিটার দূরত্বে লাগানো হয়। দ্বি-বেড়া সারিতে ৫ মিটার সারি দূরত্বে এবং সারিতে ৫ মিটার গাছ-দূরত্বে চারা লাগানো হয়। মাঝে ১০ মিটার ফাঁক দিয়ে আবার দ্বি-বেড়ায় ৫x৫ মিটার দূরত্বে দুটি সারিতে গাছ লাগানো হয়। এইভাবে গাছের সংখ্যা হেক্টরে ১০০ থেকে বেড়ে হয়ে যায় ২২২টি। গাছের সংখ্যা বাড়ায় মোট ফলনও বাড়ে। অন্যান্য জাতের মধ্যে তিনি আম্রপালি মল্লিকা সংকর জাতদুটি সুপারিশ করেন। ডাল কেটে, পরিচর্যা করে পুরনো আম বাগান কিভাবে পুনরুজ্জীবিত করা যায় তা নিয়েও আলোচনা করেন। আম বাগান থেকে নিয়মিত ফলন পেতে মাটিতে নির্দিষ্ট মাত্রায় প্যাক্লোবিউট্রাজোল হর্মোন প্রয়োগের সুপারিশ করেন। আমের শোষক পোকা এবং গুঁড়োচিতি রোগ সমেত নানান সমস্যার সমাধানের কথা বলেন।
ড. দিলীপ কুমার মিশ্র সচিত্র পোষ্টার প্রদর্শন করে কলার নানান উন্নত জাত, চাষ পদ্ধতি, রোগ-পোকার সমস্যা ও তার মোকাবিলার কথা আলোচনা করেন। টিস্যু কালচার কলার চারা কেন ভালো, সেকথা ব্যাখ্যা করেন। কলা থেকে নানান প্রক্রিয়াকৃত খাবার তৈরির কথা আলোচনা হয় যার প্রতি মহিলাদের আগ্রহ ছিল। কলার তন্তু থেকে কিভাবে বস্ত্র বয়ন হতে পারে সে প্রসঙ্গও ছিল।
ড. দেবলীনা মাঝির বক্তব্যে মিশ্র ফল চাষের ধারণা কৃষকেরা মন দিয়ে শুনেছেন। কেন মাঠের ফসল চাষ না করে উদ্যান ফসল চাষ করতে হবে তা বুঝিয়ে বলেন।
কৃষকেরা নিয়মিত চাষের তথ্য পাবার আগ্রহ দেখালে উপস্থিত কৃষকদের 'ফার্মলোর' হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপের সন্ধান দেন গবেষক দেবাশিস রাণা। উনি বলেন, বহু কৃষি বিশেষজ্ঞ, অধ্যাপক ও প্রগতিশীল কৃষকের সমন্বয়ে গঠিত এই গ্রুপ কৃষকদের নানান সমস্যার সমাধান ও পরামর্শ দেয়। কৃষি সুপারিশ পাওয়ার সোশ্যাল মিডিয়া হল 'ফার্মলোর'। কৃষকদের অনেককেই সেই সুযোগ গ্রহণ করতে গ্রুপের সদস্য হন।
আলোচনা সভায় কৃষকেরা নিজেদের কিছু প্রশ্ন তুলে ধরলে তার উত্তর দেওয়া হয়। কৃষকদের মধ্যে বিজ্ঞানীদের চলভাষ নম্বর নেবার আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মত। পরিশেষে উপস্থিত সবাইকে মিষ্টিমুখ করিয়ে সভা শেষ হয়।



No comments:
Post a Comment