ব্রেকিং: সুরজিতের জয়ে গর্বিত বাঙালি,গর্বিত দেশ - Breaking Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Tuesday, 23 January 2018

ব্রেকিং: সুরজিতের জয়ে গর্বিত বাঙালি,গর্বিত দেশ



চাঁদনী,নন্দকুমার: সারজায় ভারতীয় অন্ধ ক্রিকেট দল পাকিস্তানকে হারিয়েছে। ভারতীয়দের পাশাপাশি জয়ের উল্লাস দেখাদিলেও পূর্ব মেদিনীপুররের নন্দকুমারে কাঞ্চনপুরে সুরজিতের এলাকার মানুষের মধ্যে । উল্লাসের কারন ভারতীয় অন্ধ ক্রিকেট দলে খেলেছিল নন্দকুমারের  সুরজিত ঘড়া। জন্ম থেকে দৃষ্টিহীন। দারিদ্রতার করনে সেইভাবে চিকিৎসা করা সম্ভব হয়নি সুরজিতের পরিবারের। তাই ছোট থেকেই হলদিয়ার চৈতন্যপুর বিবেকানন্দ মিশন আশ্রমে তার বড় হয়ে ওঠা সুরজিতের। চিকিৎসা পরিষেবার পাশাপাশি চলতে থাকে পঠনপাঠন।  পঠনপাঠনের পাশাপাশি ছোট থেকে ক্রিকেট খেলায় নেশা ছিল সুরজিতের। বাড়ির দারিদ্রতাকে দূরে সরিয়ে মনের জোর নিয়ে ক্রিকেট খেলা শুরুর করে সে। প্রথম প্রথম স্থানীয় ছেলেদের সাথে খেলাধুলা করত। অল্পবিস্তর চোখে দেখতে পেত সে। তাতেই বাজিমাত করে দিত সুরজিত। যেখানেই খেলা হত সেখানেই চলে যেত সুরজিত। মনের মধ্যে দৃঢ় বিশ্বাস ছিল। একদিন না একদিন তার স্বপন পুরন হবে। আজ সত্যিই তার স্বপ্ন পুরুন হল।সে ভারতীয় অন্ধ ক্রিকেট দলের হয়ে খেলে পাকিস্তানকে হারিয়েছে।

আগামী ৭ ই জানুয়ারি থেকে পাকিস্থান ও দুবাইয়ে  হয়েছিল ৫ ম  ওডিআই ওয়াল্ড কাপ।  আর সেই ক্রিকেট খেলায়  অংশ নিয়েছিল ভারত, পাকিস্থান, নেপাল, বাংলাদেশ,শ্রীলংকা, অস্ট্রেলিয়া, সাউথ আফ্রিকা।

ফাইনালে পাকিস্তানকে হারিয়েছে ভারত। আর ভারতের হয়ে খেলেছিল পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দকুমারের কাঞ্চনপপুরের সুরজিত ঘড়া। আর সেই জেতার খবর গতকাল এলাকার মানুষ পরিবার পরিজন জানতে পেরে বেজায় খুশি।

জয়ের খবর প্রথম আসে শুভেচ্ছা ঘড়ার মোবাইলে। তিনি জানান, সুরজিত অনেক কষ্ট করে ভারতীয় অন্ধ ক্রিকেট দলে জায়গা পেয়েছিল। আর ভারতীয় দলের হয়ে খেলে সে পাকিস্তানকে হারিয়েছে এই খবর প্রথম আমার মোবাইলে সুরজিত জানায়। আর সেই খবর এলাকার মানুষের কাছে পৌছাতেই অনন্দে, উল্লাসে মেতে উঠেন এলাকার মানুষ। এখন শুধু সুরজিতের ফেরার অপেক্ষায় রয়েছি আমরা। বাড়ি ফিরে এলেই বড় ধরনের সংবর্ধনার ব্যবস্থার কথাও ভেবে রেখেছে স্থানিয় মানুষ। শুধু সুরজিতের বাড়ি ফেরার পথ চেয়ে রয়েছি আমরা।

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নন্দকুমার থানার কাঞ্চনপুরের বাসিন্দা নিতাইচাঁদ ঘড়া ও কৃষ্ণা ঘড়ার ছোট ছেলে সুরজিত। সুরজিতের তিন ভাই। সুরজিত ছোট। বড়দা অভিজিত আর মেজদা অরিজিত। নিতাইবাবু তিন ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে অন্যের বাড়িতে বাড়িতে কাজ করে কষ্টের মধ্যে ছেলেদের বড় করে তুলেছেন। তবে ছোট ছেলে জন্ম থেকে চোখে ঠিকমত দেখতে পেত না। তাই হলদিয়ার বিবেকানন্দ মিশন আশ্রমে পড়াশোনার জন্য ভর্তি করা হয়। সেখানে পড়াশোনার পর স্থানীয় শ্রীকৃষ্ণপুর হাই স্কুলে ভর্তি করা হয়। অভাবের কারনে উচ্চামাধ্যমিক পর্যন্ত পড়ানো সম্ভব হয়েছে। তবে চোখে কম দেখতে পেলেও ছোট বেলা থেকে ক্রিকেট খেলার নেশাছিল খুব। বাড়িতে বকাবকি করলেও তা শুনতা না। যেখানেই খেলা হত চলে যেত। নিজের চেস্টায় আজ সে একটি জায়গায় গিয়ে পৌঁছাতে পেরেছে ভেবে খুব ভাল লাগছে। ছেলে যাতে ভাল খেলে দেশ মুখ উজ্জ্বল করতে পারে সেই প্রার্থনাই করে চলেছেন মা ও সুরজিতের পরিবারের অন্যান্যরা।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad