#নীল কাশ্যপ
রাজনৈতিক গেম : রোষে তৃণমূল, পুরোহিতদের অগ্নিপরীক্ষার
মুখে দলকে ফেললেন অনুব্রত !সত্যিই কি ?
অনুব্রত মন্ডলের পুরহিত সম্মেলন কি রাজনৈতিক চাল ? নেপথ্যে স্বয়ং দলনেত্রীর মস্তিস্ক। লাখ টাকার এমন প্রশ্ন বিভিন্ন মহলের মুখে মুখে।রাজনৈতিক
মহলের একাংশের ব্যাখ্যা, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি পুরোহিত ভাতা ঘোষনা করলে মুসলিম
ভোট ব্যাঙ্কের ক্ষতি হতে পারে।আবার না করলে বিজেপির দিকে হিন্দু ভোটের একাংশ সরে
যাবে।এমন উভয় সঙ্কটের প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো স্নেহের অনুব্রতকে
দিয়ে খেলাটা খেললেন।এমন দাবি খোদ তৃণমূল সূত্রের।ব্রাক্ষণদের দিক যাতে দাবি ওঠে
এমন একটা পরিবেশ তৈরির জন্যই ব্রাক্ষণ সম্মেলন।
সূত্রের দাবি , মমতা
বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে চেয়েছিলেন ইমাম ভাতা ঘোষণার সময় পুরহিতরা নিজেদের দাবি পেশ
করুক সরকারের কাছে।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গ্রামীণ শিল্পী, ক্লাব সংগঠনদের যদি দিতে
পারেন তাহলে ধর্মীয় শিল্পীদেরও দেবেন।কারণ তিনি মমতা ময়ী মুখ্যমন্ত্রী ইমেজ বহন
করেন। বাংলার পুরহিতরা গল্পের সেই গরীব ব্রাক্ষণ হয়ে থাকতে পছন্দ করেন বলেই হয়ত
দাবি করেননি তারা।অনেক আমলা দুক্ষ করে এমন রসিকতা করেছিলেন ওই সময়।এদিকে পুরোহিত
সমাজ ভেবেছিল, দাবি করব কেন ? ইমামরা তো দাবি করেননি।তাও পেলেন।আমাদের ভোট মুল্যহীন।আমরা
বর্ণ শ্রেষ্ঠ ব্রাক্ষণ।পুরহিত জগদীশ চক্রবর্তীর কথায়, আমরা উপবাস থেকে অন্যের
মঙ্গল কামনায় পুজো করি।নিজের জন্য নয় অন্যের জন্য ঈশ্বরের কাছে ভিক্ষা করি।এই
পরম্পরা খোয়ানো পুরহিত পরম্পরায় নেই।এখনও গাঁ গ্রামে ব্রাক্ষণ সমাজ বসে।অনাচারকে
এই সমাজে প্রশ্রয় দেওয়া হয় না।রক্তের সর্ম্পককেও রেহাই দেওয়া হয় না।এটাই পুরহিত
সমাজের পরম্পরা।চারটে টাকার জন্য আন্দোলন কেন করব।এতদিন তো মরিনি।এখনও মরব না।
পুরহিত প্রফুল্ল
আচার্য বলেন, আমাদের যযমানরা অর্থাত যাদের হয়ে পুজো করি সেই মানুষ বাজারে গিয়ে এক
দরে জিনিস কেনেন।আমাদের জন্য তারা কৃপণ।প্রকাশ্যে অনেকেই লোভী বলেন।আমরা তাদের
জন্যই পুজো করি।এজন্যই ব্রাক্ষণ বর্ণ শ্রেষ্ঠ।ব্রাক্ষণ হল পরম্পরার সৃষ্টি।ইচ্ছে
করলেই হওয়া যায় না।এসব বুঝতে হবে।অন্যদের সাথে আমাদের গুলিয়ে ফেললে হবে না।
এদিকে অনুব্রত
মন্ডলের ব্রাক্ষণ সম্মেলনের পর পুরোহিত ভাতার দাবিতে ফের সোচ্চার হলেন হাঁসন
কেন্দ্রের কংগ্রেস বিধায়ক মিল্টন রসিদ। এই দাবিতে মঙ্গলবার তিনি গলায় প্ল্যাকার্ড
ঝুলিয়ে সিউড়ির রাস্তায় অনুব্রত মণ্ডল পুরোহিত সম্মেলনের পরদিন পুরোহিত ভাতার
দাবিতে সিউড়ির রাস্তায় হাঁসন কেন্দ্রের বিধায়ক মিল্টন রসিদের হাঁটা সোরগোল ফেলে
দিয়েছে। ভর দুপুরে গলায় পুরোহিত ভাতার প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে জেলা প্রশাসনের অফিসের
সামনে থেকে হাঁটতে শুরু করেন তিনি । যা দেখে পথ চলতি মানুষও থমকে দাঁড়িয় বলেন
ব্রাক্ষণ সম্মেলনের পর হিন্দুরা আরেকটু সাহসী হলেন।প্রসঙ্গত, পুরোহিত ভাতার দাবিতে তিনিই প্রথম বিধানসভায় দাবি তোলেন।
মিল্টনবাবুর দাবির ভিত্তিতে গত ২২ নভেম্বর বিধানসভার অধ্যক্ষের অনুমোদন নিয়ে সেই
আবেদন অর্থ দফতরে পাঠানো হয়। সোমবার পুরোহিতদের নিয়ে বোলপুরে সম্মেলন করে তৃণমূল। কিন্তু সেখানে পুরোহিত
ভাতার ঘোষণা না করায় ক্ষুব্ধ পুরোহিতরা। মিল্টনবাবু বলেন, “দল নয় মানুষ হিসাবে আমি তৃণমূলের
ব্রাহ্মণ সম্মেলনের অনেক আগে থেকেই পুরোহিত ভাতার দাবিতে সরব হয়েছি”। যদিও মিল্টনবাবুর এই অভিনব প্রতিবাদকে গুরুত্ব দিতে নারাজ
অনুব্রত মণ্ডল এবং বিজেপি নেতৃত্ব। অনুব্রত মন্ডল মনে করেন প্রচার পাওয়ার জন্যই
মিল্টন রসিদ এসব করছেন। বিজেপির জেলা সভাপতি রামকৃষ্ণ রায় বলেন, “ভোট পেতে এদের কেউ হিজাব পরছে আবার এখন
হিন্দু সেজে সমাজকে জাতি গত ভাবে ভাগ করার চেষ্টা করছে।” তৃণমূল ও বিজেপির দাবি ঠিক নয় কারণ,
অনুব্রত মন্ডলের ব্রাক্ষণ সম্মেলনের আগেই তারাপীঠে এই দাবিতে তাঁর এলাকার
ব্রাহ্মণদের নিয়ে মিছিলও করেছেন রশিদ। মঙ্গলবার সিউড়িতে সেই দাবির সপক্ষে গলায় প্ল্যাকার্ড
ঝুলিয়ে তিনি জনমত তৈরির চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, “যাদের সামনে রেখে আমরা নমাজ পড়ি এবং যাদের হাত ধরে জন্ম
থেকে মৃত্যু পর্যন্ত আমাদের নানা ক্রিয়া চলে, সেই ব্রাহ্মণ পন্ডিতদের নিচে বসিয়ে রাজনৈতিক পন্ডিতরা
বোলপুরে ওপরে বসে রইলেন। এটা আমার কাছে দৃষ্টিকটু মনে হয়েছে”। মিলটনবাবু জানান, আগামী ১২ জানুয়ারি ধর্মতলায় সংখ্যালঘুদের নিয়ে বিবেকজয়ন্তী
থেকে পুরোহিত ভাতা চালু এবং মৌলবি, মোয়াজ্জেম ভাতা বাড়ানোর দাবিতে তিনি সরব হবেন। একই সঙ্গে
পুরোহিত ভাতার দাবি নিয়ে গঙ্গাসাগর মেলায় সাধু সন্তদের কাছেও তিনি যাবেন। যদিও
তৃণমূল জেলা সভাপতি অনুব্রত মন্ডল বলেন, “বোলপুরে ব্রাহ্মণ সম্মেলন দেখে অনেকের মাথা ঘুরে গিয়েছে।
পরবর্তীতে রামপুরহাটে সংখ্যালঘু সম্মেলন হবে। একইভাবে তপশিলী জাতি , আদিবাসী ভাই বোনদের নিয়েও সম্মেলন করবে
তার দল। এই সম্মেলন দেখে অনেকেই তাদের নিয়ে রাজনীতি করতে চাইছে”। বিজেপি জেলা
সভাপতি রামকৃষ্ণ রায় বলেন, “আমরা ভারতীয়ত্ব বলতে হিন্দুত্বকে বুঝি।
বিজেপির প্রসার বাড়ছে । তাই যারা হিজাব পরে নমাজ পরে তারাই এখন তিলক কেটে হিন্দু
সেজে পঞ্চায়েত ভোটের আগে রাজনীতি করতে নামছে”।বিজেপির ব্রাক্ষণ নেতা জয় বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, বিজেপির জন্যই অনুব্রত
মন্ডলের ব্রাক্ষণ সম্মেলন।
No comments:
Post a Comment