বাঙালির মকর সংক্রান্তি উৎসবের ইতিহাস ও বর্তমান - Breaking Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Tuesday, 9 January 2018

বাঙালির মকর সংক্রান্তি উৎসবের ইতিহাস ও বর্তমান



গঙ্গা ও বঙ্গোপসাগরের মিলনস্থান তীর্থভূমি গঙ্গাসাগর। গঙ্গাসাগরের খ্যাতি কেন? তীর্থভূমি বলে, না কি মেলাভূমি বলে। কিন্তু গঙ্গাসাগরের বেলাভূমিটি কম আকর্ষণীয় নয়।

ছোটবড় ৫১টি দ্বীপ নিয়ে ৫৮০ বর্গ কিমি জুড়ে সাগরদ্বীপ। গঙ্গার মর্ত্যে আসা ও সগর রাজার পুত্রদের জীবনদানের লোকগাথাকে ঘিরে গড়ে উঠেছে এই তীর্থভূমি। কপিল মুনির আশ্রমটি সমুদ্রগর্ভে বিলীন হয়ে গেলেও পরবর্তীকালে গড়ে ওঠা কপিল মুনির মন্দিরটিকে কেন্দ্র করে ভক্ত সমাগম হয়। মকর সংক্রান্তির পুণ্য তিথিতে লক্ষ লক্ষ মানুষের ভিড় জমে এই সঙ্গমে।

মেলার সময়টুকু বাদ দিলে গঙ্গাসাগর নিরালা, নির্জন। মন্দিরের সামনে থেকে নির্জন বালিয়াড়িটি সোজা গিয়ে মিশেছে সমুদ্রে। এখানে সমুদ্র ঢেউ ভাঙে না। তির তির করে এগিয়ে এসে পা ভিজিয়ে যায়। হাঁটতে হাঁটতে চলে যাও সমুদ্রের ভিতরে। পায়ের পাতা ভেজানো জল থেকে হাঁটু জলে। বড় কেউ সঙ্গে থাকলে স্নান করো। ফিরে এসো সমুদ্রতটে। অবাধে খেলে বেড়ায় লাল কাঁকড়া। তোমার আগমন টের পেলে সেঁধিয়ে যায় গর্তে। দূরে, দিগন্তরেখায়, একটা, দু’টো, তিনটে….অনেক অনেক নৌকা, নাকি ট্রলার। মাছ ধরতে গেছে গভীর সমুদ্রে।

ভ্যানরিকশায় চেপে বেরিয়ে পড়ো দ্বীপ দর্শনে। মঠ–মন্দির-আশ্রমের এই সাগরসঙ্গমে। ঘুরে এসো মনসাদ্বীপে রামকৃষ্ণ মিশনের আশ্রমে আর লাইটহাউসে। বিকেলে আর একবার চলে যাও সাগর কিনারায়। তবে ভিন্ন পথে। যে পথ সেচবাংলো থেকে সমুদ্রে গেছে সেই পথে। এই পথে ঝাউয়ের জঙ্গল পাবে। এখনও অক্ষত।

সন্ধ্যায় ঘরে বসে বড়োদের কাছে শুনে নাও ভগীরথের গঙ্গাকে মর্ত্যে আনার কাহিনি।


নিকটতম বড় শহর কলকাতা। রেলস্টেশন কাকদ্বীপ ও নামখানা। কলকাতা থেকে বাসে ঘণ্টা তিনেকের যাত্রায় পৌঁছনো যায় হারউড পয়েন্ট ৮ নম্বর লঞ্চ ঘাটে। ট্রেনে কাকদ্বীপ বা নামখানা পৌঁছেও বাসে বা রিকশায় হারউড পয়েন্ট ৮ নম্বর লঞ্চ ঘাটে পৌঁছনো যায়। সেখান থেকে ফেরি ভেসেলে গঙ্গা পেরিয়ে কচুবেড়িয়া। কচুবেড়িয়া থেকে বাসে বা ট্রেকারে ৩০ কিমি দূরে সাগর। মেলার সময় যাতায়াতের আরও বিশেষ ব্যবস্থা থাকে। গঙ্গাসাগরে থাকার জন্য নানান ধরমশালা ও পান্থনিবাস আছে। এ ছাড়া পি ডব্লু ডি, সেচ দফতরের ও পাবলিক হেলথ ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বাংলো ও পঞ্চায়েতের যাত্রীনিবাস আছে।

মকর সংক্রান্তির ইতিকথা ও ইতিহাস  


পৌষ বা মকর সংক্রান্তিতে সূর্য ধনু রাশি থেকে মকরে সঞ্চারিত হয়, তাই এর নাম 'মকর সংক্রান্তি'। একে 'উত্তরায়ণ সংক্রান্তি'-ও বলে, কারণ এই দিন থেকে সূর্য উত্তরায়ণের দিকে যাত্রা শুরু করে। এই সংক্রান্তির ব্রহ্মমুহূর্তে যমুনা নদীতে মকর-স্নান করলে আয়ুবৃদ্ধি হবে -- এই বিশ্বাসে মাতা যশোমতী বালক কৃষ্ণকে স্নান করাতে নিয়ে যান। পরে এদিনেই যমুনায় স্নান সেরে শ্রীকৃষ্ণ শ্রীমতি রাধিকার সঙ্গে 'মকর-পাতায়', এ হল আত্মার সঙ্গে আত্মার দৃঢ় বন্ধন স্থাপন।

বাংলার অনেক স্থানে একসময় কুমারী মেয়েরা এইদিন থেকে কনকনে ঠান্ডার ভোরে একমাস ব্যাপী মকরস্নান-ব্রত শুরু করতো। আলস্য, নিদ্রা, তন্দ্রা, জড়তা-তামসিকতার রিপুগুলিকে জয় করার এ ছিল এক সংগ্রামী মনোবৃত্তি। ছড়া গেয়ে পাঁচ ডুব দেওয়ার নিয়ম ছিল: "এক ডুবিতে আই-ঢাই।/দুই ডুবিতে তারা পাই।।/তিন ডুবিতে মকরের স্নান।/চার ডুবিতে সূর্যের স্নান।/পাঁচ ডুবিতে গঙ্গাস্নান।।"

২. উত্তরায়ণ সংক্রান্তিতে বাস্তুপূজার প্রচলন আছে। শঙ্খপাল, বঙ্কপাল, ক্ষেত্রপাল, নাগপালের ধ্যান করে বাস্তুর ধ্যান ও মানসোপচারে পূজা করা হয় এইদিন। বাস্তুর প্রণাম মন্ত্র হল, "ওঁ বাস্তুরাজ নমস্তুভ্যং পরমস্থানদায়ক। সর্বভূতজিতস্ত্বঞ্চ বাস্তুরাজ নমোহস্তু তে।" এরপর পাদ্যাদি দিয়ে গ্রাম্যদেবতার পূজা করা হয় এবং পায়স-বলি দান করা হয়।


'আমার মা'র বাপের বাড়ি' গ্রন্থে রানী চন্দ লিখছেন, পৌষ সংক্রান্তি "মহাধুমধামের সংক্রান্তি। বসতভিটার মঙ্গলের জন্য বাস্তুপূজা হয় এ দিন। তুলসীমন্ডপে 'ঝিকা' গাছের ডাল কেটে তার তলায় পুজো হয়। পুরুতমশাই নিজে 'চরু' রান্না করে দিয়ে যান। আজ এই চরু-ই পূজার প্রধান অঙ্গ।" চরু রান্না হয় পাটশলমির আগুনে, নতুন মাটির হাঁড়িতে দুধ-চাল-বাতাসা ফুটিয়ে।

৩.  পৌষ সংক্রান্তি দিনে গ্রাম-বাংলার অনেক স্থানে উঠোনে মড়াই-এর পাশে 'উঠোন লক্ষ্মী'র পুজো হয়। তিনিই কোথাও 'পৌষলক্ষ্মী'। এদিন বাড়ির উঠোন গোবরজল দিয়ে নিকিয়ে, শুচি-স্নিগ্ধ করে তোলা হয়। ধানকাটা পর্বে যে 'পৌষ তোলা'র চার-পাঁচ গুচ্ছ ধানগাছ সাদরে গৃহস্থ বাড়িতে আনা হয়েছিল, তাই গাদা থেকে নামিয়ে মাথায় বহন করে নামানো হয় উঠোনে। গোটা উঠোন জুড়েই আলপনার নান্দনিকতা। আঁকা হয় লক্ষ্মীর নানান গয়না; চাষের সমস্ত উপকরণ--গরু, লাঙল, জোয়াল, মই; আর লক্ষ্মীর পা--পৌষ গাদা থেকে পুজোস্থল পর্যন্ত, পুজোস্থল থেকে গৃহের সিংহাসন পর্যন্ত। এই চরণ চিহ্নে পা ফেলেই যেন লক্ষ্মী ঘরে আসবেন। বাংলার কোনো কোনো স্থানে একে বার (বাহির) লক্ষ্মীপুজোও বলে। পুজো শেষ হলেই ঠাকুর তোলা যায় না। রাতে লক্ষ্মীপেঁচা বা শেয়ালের (দক্ষিণ দামোদর অঞ্চলে শেয়াল লক্ষ্মীর বাহন বলে কথিত) ডাক শুনে উঠোন থেকে লক্ষ্মীকে ঘরে তোলা হয়। গভীর রাতে লক্ষ্মী তুলে উঠোন নিকিয়ে ঘুমতো যান গৃহকর্ত্রী।


৪. পৌষ সংক্রান্তির সঙ্গে সম্পর্কিত একটি লোকাচার হল 'আওনি-বাউনি' বা 'আউরি-বাউরি'। এটি আগের দিন পালিত হয়। তবে দক্ষিণ দামোদর অঞ্চলে এর নাম 'চাঁউনি-বাউনি' বা 'চাউড়ি-বাউরি' যা পৌষপার্বণের দু'দিন আগে 'মচ্ছিমূলো' খেয়ে পালিত হয়। 'গণদেবতা' উপন্যাসে এর বর্ণনা এইরকম, "....আউরি-বাউরি দিয়া সব বাঁধিতে হইবে, মুঠ লক্ষ্মীর ধানের খড়ের দড়িতে সমস্ত সামগ্রীতে বন্ধন দিতে হইবে, -- আজিকার ধন থাক, কালিকার ধন আসুক, পুরানে নূতনে সঞ্চয় বাড়ুক। লক্ষ্মীর প্রসাদে পুরাতন অন্নে নূতন বস্ত্রে জীবন কাটিয়া যাক নিশ্চিন্তে নির্ভাবনায়। অচলা হইয়া থাক্ মা, অচলা হইয়া থাক্।" সোনার পৌষ যে চলে যায়, তাকে বাঁধতে হবে! তাই শিসসহ ধানগাছ পুজো করে ঘরের খুঁটি, গোলা, গোয়াল ঘর, সিন্দুক ঢেঁকিশালে তা বাঁধা হয়। আর শস্য-সম্পদের শ্রীবৃদ্ধি কামনা করা হয়। তারই অঙ্গ হিসাবে বাংলার মেয়েরা ছড়া কেটে পৌষ বন্দনা করেন, "পৌষ পৌষ -- সোনার পৌষ/এস পৌষ যেয়ো না/জন্ম জন্ম ছেড়োনা।/না যেয়ো ছাড়িয়ে পৌষ--/না যেয়ো ছাড়িয়ে,/পৌষ পৌষ -- সোনার পৌষ।"


৫. পৌষ সংক্রান্তির আগের রাতে রাঢ় তথা পশ্চিম সীমান্ত বাংলায় 'টুসু জাগরণ' হয়। টুসু উৎসবের শুরু অঘ্রাণ সংক্রান্তিতে। পৌষ সংক্রান্তির ভোরে সূর্যোদয়ের আগে টুসু বিসর্জন দেওয়া হয়। কারণ সূর্যের সঙ্গে টুসুর ভাসুর-বুয়াসি বা ভাদ্র-বউ সম্পর্ক। যেহেতু চৌডল ব্যবহার করলে সূর্যদেব দর্শিত হন না, তাই সুদৃশ্য চৌডলে টুসু ভাসান যায়।

তুষ-তুষলীর ব্রতিনীরা এই দিন মাস-কালীন ব্রতের শেষে জমিয়ে রাখা তুষ-গোবরের গুলি মাটির হাঁড়িতে রেখে আগুন ধরায়। তারপর তা ভাসিয়ে দেয় নদী বা পুকুরের জলে। একাধিক ব্রতিনীর ভাসানো অগ্নিশিখা বহনকারী হাঁড়ি বায়ুচালিত হয়ে ঘাট-ঘাটলার কিনারে কিনারে চরে বেড়ায়।


৬.বাংলার কোনো কোনো স্থানে এদিন 'ধর্মের পিঠে' উৎযাপিত হয়। এই লোকানুষ্ঠানটি ধর্ম বা সূর্য পূজার অঙ্গ। বাড়ির উঠোন সকালে গোবর জলে নিকিয়ে নতুন কলকে নিয়ে পিটুলির ৫টি গোলাকার ছাপ দেওয়া হয়। ছাপ পড়ে গোয়ালে, গবাদিপশুর দেহে, গোলায়, ঢেঁকিশালে এবং ঘরের মধ্যে। গৃহস্থের সামগ্রিক কল্যাণ কামনাই এই লোকানুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য।

৭. দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্ত বাংলায় এদিন বৎসরান্তের কৃষিকাজ সমাপনান্তে খামার খুঁটিকে কেন্দ্র করে উৎসবের আয়োজন হয়। একে 'মেহি পূজা' বলে, কারণ 'মেহি'-র অর্থ খুঁটি। এই খুঁটি ঝাড়াই-মাড়াই সহ নানান কাজের সাক্ষী, গরু বাঁধার স্থান। তাই মেহি পূজা বা খামার পূজা হল  এক কৃতজ্ঞতার অনুষ্ঠান, ধন্যবাদাত্মক চিন্তন। খুঁটিকে কেন্দ্র করে আঁকা হয় নানান কৃষি উপকরণের আলপনা, পরিষ্কার করে সাজানো হয় সেইসব উপকরণ। কৃষক-পুরুষ শেয়ালের ডাক শুনে পুজোয় বসেন। পুজো শেষে নতুন ধানে ভরা মান মরাইতে তুলে সে বৎসরের মত কৃষিকার্যের সমাপ্তি হয়।


৮. পৌষ সংক্রান্তিতে গ্রহণ করা হয় দধি সংক্রান্তির ব্রত। এ দিন সেই ব্রতের সূচনা, প্রতি সংক্রান্তিতে তার আচরণ এবং পরের বছর এই দিনেই ব্রতের প্রতিষ্ঠা বা সমাপ্তি। এই দিন দধি দ্বারা বিষ্ণু ও লক্ষ্মীকে স্নান করিয়ে দধি ও ভোজ্য ব্রাহ্মণকে দান করা হয়। শোনা হয় ব্রতকথা।

ফল-সংক্রান্তি ব্রতের অঙ্গ হিসাবে এই সংক্রান্তিতে হরিতকী দান করলে হংসযুক্ত রথে আরোহণ করে বৈকুন্ঠে গমন করা যায় বলে হিন্দুদের বিশ্বাস।

৯. পৌষপার্বণ পিঠেপুলির অনুষ্ঠান। এজন্য চাল কোটা হয় 'বাউড়ি'-র আগের দিন। চাল গুঁড়ো, ভেজা চাল সর্বদা উঠোন-ঘর করতে হলে তা পাত্রে ঢেকে, তুলসি পাতা আর শুকনো লঙ্কা দিয়ে নিয়ে যেতে হয়, নইলে তা ভূতে পায়।

ঠাকুরমা'র ঝুলির 'কাঁকণমালা, কাঞ্চনমালা' গল্পে রয়েছে 'পিট-কুড়ুলির ব্রত'-র কথা, রাজ্যে পিঠা বিলানোর অনুষ্ঠান। রাণীকে চালের গুড়োয় আঙ্গিনায় আলপনা দিয়ে পিড়ি সাজিয়ে দিতে হয়, দাসীরা পিঠের যোগার-যাগাড় করে। রাণী রূপী দাসী তৈরি করেন আস্কে পিঠা, চাস্কে পিঠা আর ঘাস্কে পিঠা; দাসী বানান চন্দ্রপুলি, মোহনবাঁশী, ক্ষীরমুরলী, চন্দনপাতা। দাসী চালের গুঁড়োয় খানিকটা জল মিশিয়ে এতটুকু নেকড়া ভিজিয়ে পদ্ম আঁকলেন, পদ্ম-লতার পাশে সোণার সাত কলস আঁকলেন; কলসের উপর চূড়া, দুই দিকে ধানের ছড়া, ময়ূর, পুতুল, মা লক্ষ্মীর সোনা পায়ের দাগ।

সংক্রান্তির পূর্বদিন অনেক স্থানে ভাজা পিঠে হয়; তা সেদিন ও পরদিন সকালে খাওয়া হয়। সংক্রান্তির দিন তৈরি হয় নানান পিঠে, সেগুলি সেদিন ও পরদিন খাওয়া হয়। পৌষ পার্বণের পরদিনও পিঠে তৈরি হয় যা তার পর দিন পর্যন্ত খাওয়া হয়। এইভাবে গ্রাম বাংলায় পরপর চারদিন পিঠে উৎসব ও ভোজন।

পৌষ সংক্রান্তিকে 'তিল সংক্রান্তি'-ও বলে। এদিন তিল দিয়ে নাড়ু, মিষ্টি তৈরি করে পূজায় নিবেদিত হয়। লোকবিশ্বাস, এই দিন তিল না খেলে নাকি দিন বাড়ে না অর্থাৎ সূর্যের মকর যাত্রা সংঘটিত হয় না।


১০. মেদিনীপুরে এইদিন লৌকিকদেবী  বড়াম; মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, হুগলীতে সিনিদেবী এবং দক্ষিণ ২৪ পরগণায় বারা ঠাকুরের যুগ্মমূর্তি, নারায়ণী ও দক্ষিণ রায়ের বাৎসরিক পূজা অনুষ্ঠিত হয়।

মেদিনীপুর, পিংলা, ময়না, সবং অঞ্চলের মাহিষ্য কৃষক সম্প্রদায় এদিন বিকেলে 'বণিপুজো'র আয়োজন করে। গৃহের পুরুষ বা নারীরাই এর উদ্যোক্তা এবং পূজক। এর তিনটি পর্যায় -- মই খুঁটি প্রতিষ্ঠা, খেত মাড়ান এবং 'সাঁথ ধরা'। এটি মেহি পূজার মতই এক লোকাচার। খেত মাড়ান পর্বে চাষের জমিতে রক্ষিত একগুচ্ছ ধান গাছের ('ঝুঁটি') গোড়ায় 'লবাৎ' (নতুন ধানের চাল বেটে প্রস্তুত মিষ্টান্ন) ও ফলমূল নৈবেদ্য রেখে সরষে ও সাদা কল্কে ফুল ('শুক্ল যাদু'-র প্রতীক) দিয়ে পুজো করতে হয়। এরপর সেই ঝুঁটি ছিঁড়ে তা মইখুঁটির সঙ্গে বাঁধা হয়। আগামী বছর ভালো ধান হবার এ এক লৌকিক প্রার্থনা। 'সাঁথ ধরা' হল বন্য প্রাণির ডাক শুনে সেই পূজিত 'ঝুটিসযত্নে ধানের গোলায় তুলে রাখার অনুষ্ঠান। লোকবিশ্বাস, শেয়ালের সাঁথ ধরা সবচাইতে সৌভাগ্যের বিষয়।

রাঢ় অঞ্চলের অনেক স্থানে পৌষ সংক্রান্তির পরদিন তপশিলী সম্প্রদায়ের মানুষ কর্তৃক 'আক্ষেন' বা 'আখ্যান দিন' পালিত হয়। একে 'এখ্যান যাত্রা'-ও বলে। এদিন লোকদেবতা ও অপদেবতার উদ্দেশ্যে বলি দেওয়া হয়। পূজার শেষে আয়োজিত হয় নৃত্য-গীতের অনুষ্ঠান।

অনেক স্থানে এইদিন গ্রামের বালকেরা 'কুলাইর মাগন' বা 'কুলের মাগন' বা 'পৌষ মাগন' পালন করে। তারা আমন ধান উঠে যাবার পর বাড়ি বাড়ি গিয়ে যে চাল, ডাল, সবজি মাগন করে আনে তা এইদিন নিজেরাই মাঠে রান্না করে কুলাই ঠাকুরকে নিবেদন করে এবং একত্রে ভোজন করে।

১১. একটি প্রচল কথা হল, "অন্নচিন্তা চমৎকারা"। কৃষকের গোলায় যখন ক্ষুধান্নের মজুত পরিপুষ্টি লাভ করে তখনই আসে শান্তি ও সমৃদ্ধির উৎসব। ফসলোত্তর এই সংক্রান্তি সেই শান্তির বার্তাই নিয়ে আসে সমগ্র ভারতীয় উপ-মহাদেশে। পশ্চিম ভারতে এটি 'মকর সংক্রান্তি', দক্ষিণের রাজ্যে 'পোঙ্গাল', উত্তর ভারতে 'লোহরি', অসমে 'ভোগালি বিহু'; সুনির্দিষ্টভাবে কর্ণাটকে 'ইল্লুবিল্লা' এবং 'মকর সংক্রমণা', উত্তর প্রদেশে 'খিচড়ি', গুজরাটে 'উত্তরায়ণ', হরিয়াণা, হিমাচল প্রদেশে 'মাঘী', মহারাষ্ট্রে 'তিলগুল', বিহার-ঝাড়খন্ডে 'সকরাত'। সর্বত্রই ফসল তোলা, ঝাড়াই, মাড়াই-এর অবসরে নদী বা সাগরে পুণ্যস্নান; ঐতিহ্যবাহী খাদ্যসামগ্রী রচনা ও বিতরণ; নববস্ত্র পরিধান আর সূর্যদেবতার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের উৎসব।
প্রয়াগ, হরিদ্বার, গড় মুক্তেশ্বর, গঙ্গাসাগর প্রভৃতি স্থানে এই উপলক্ষে জমকালো মেলা বসে। প্রয়াগে কুম্ভ মেলার সূচনা আর শবরীমালায় তীর্থযাত্রার সমাপ্তি। লোকবিশ্বাস, এদিন পরলোকগমন করলে তাকে আর ইহজীবনে ফিরে আসতে হয় না, সরাসরি বৈকুণ্ঠ লাভ হয়।
নানান রাজ্যে 'তিল-গুড়' বা 'তিল-লাড্ডু' এদিনের শীতলতায় এক শক্তিদায়ী উষ্ণ খাবার। দক্ষিণের রাজ্যে তৈরি হয় 'পোঙ্গাল'। তামিল বা তেলেগু ভাষায় শব্দটির অর্থ হল 'হাঁড়িতে ভাত সেদ্ধ করা'। নতুন চাল, ভাজা মুগ, বাদামি আখের গুড়, ইক্ষু-শক্কর, দুধ ও নারকেল দুধের সঙ্গে কিশমিশ, কাজু, এলাচে প্রস্তুত এক সুস্বাদু মিষ্টান্ন।
গুজরাটে এদিন পালিত হয় ঘুড়ি উৎসব। এর প্রতীকি তাৎপর্য অসীম। আপন আকুতি দেবতার কাছে নিবেদনের নান্দনিকতায় রং-বেরঙের ঘুড়ির রূপ ধারন করে তারা আকাশে ওড়ে। তেলেগু গৃহস্থেরা এদিন গৃহের পুরাতন সামগ্রী বিক্রি করে বা আগুন ধরিয়ে 'বন-ফায়ার' করে। পাঞ্জাবীদের মধ্যেও এই প্রথা প্রচলিত আছে। অন্ধ্রপ্রদেশ-তেলেঙ্গানায় গবাদিপশুকে এদিন নানান সামগ্রী ভোজন করানো হয়। গুজরাটে তাদের গায়ে আঁকা হয় নানান রং। এই দিনে জ্ঞান ও বিদ্যার দেবী সরস্বতীকে স্মরণ-মনন করে মেধাবী ছাত্রদের বৃত্তি দেন গুজরাটি পন্ডিতেরা। অধ্যাত্মিক মনন ও অভ্যাসে এই দিনটি তাই মান্যতা পেয়ে এক সর্ব ভারতীয় উৎসবের মর্যাদা লাভ করেছে; পাপ, অপরিচ্ছন্নতা ও অপবিত্রতা দূরীকরণই যার মূল সুর।

তথ্যপঞ্জি:
১. স্বামী নির্মলানন্দ (১৪১০) বারো মাসে তেরো পার্বণ (৬ষ্ঠ সংস্করণ)ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘ, কলকাতা।
২. চিন্তাহরণ চক্রবর্তী (২০১৪) হিন্দুর আচার-অনুষ্ঠান ( তৃতীয় মুদ্রণ), প্যাপিরাস, কলকাতা।
৩. বরুণ কুমার চক্রবর্তী (১৯৯৫) বঙ্গীয় লোকসংস্কৃতিকোষ (সম্পাদনা), অপর্ণা বুক ডিস্ট্রিবিউটার্স, কলকাতা।
৪. সুভাষ বন্দ্যোপাধ্যায় (১৩৮৪) বাংলা উপন্যাসে লৌকিক উপাদান, ক্যালকাটা পাবলিকেশনস্, কলকাতা, পৃষ্ঠা ৫৮-১১৭।
৫. সুরেন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য (১৩৯৩) পুরোহিত-দর্পণ (অষ্টত্রিংশ সংস্করণ), সত্যনারায়ণ লাইব্রেরি, কলকাতা, পৃষ্ঠা ৪০১-৪২০।
৬. মনাঞ্জলি বন্দ্যোপাধ্যায় ও কল্যাণ চক্রবর্তী (২০০৯) কৃষক পরিবার, দক্ষিণের  বারান্দা ১(২):১৪-১৬।

লেখকঃ ড. কল্যাণ চক্রবর্তী




 মকর সংক্রান্তি উৎসবের ইতিহাস


পৌষ তোদের ডাক দিয়েছেআয় রে চলে,   আ য় আ য় আয়।
ডালা যে তার ভরেছে আজ পাকা ফসলে,   মরি   হায়   হায়   হায়॥
          হাওয়ার নেশায় উঠল মেতে   দিগ্‌বধূরা ধানের ক্ষেতে--
রোদের সোনা ছড়িয়ে পড়ে মাটির আঁচলে,   মরি   হা য়   হা য়   হায়॥

পৌষ পার্বণপৌষ সংক্রান্তি। বাংলার আরও একটি উৎসবের দিন। পৌষ মাসের শেষ দিনে আয়োজন করা হয় এই উৎসবের। একে আবার অনেকে 'মকর সংক্রান্তি' বলে থাকে। মকর সংক্রান্তি শব্দটি দিয়ে নিজ কক্ষপথ থেকে সূর্যের মকর রাশিতে প্রবেশকে বোঝানো হয়ে থাকে। ভারতীয় জ্যোতিষ শাস্ত্র অনুযায়ী সংক্রান্তি’ একটি সংস্কৃত শব্দএর দ্বারা সূর্যের এক রাশি থেকে অন্য রাশিতে প্রবেশ করাকে বোঝানো হয়ে থাকে। ১২টি রাশি অনুযায়ী এরকম সর্বমোট ১২টি সংক্রান্তি রয়েছে।


মহাভারতেও এই দিনের তাৎপর্য সম্পর্কে উল্লেখ রয়েছে। তাই সামাজিক এবং ভৌগোলিক গুরুত্ব ছাড়াও এই দিনটি ঐতিহাসিক এবং ধর্মীয় গুরুত্ব বহন করে। ধর্মীয় গুরুত্বের জন্য বিভিন্ন স্থানে দিবসটিতে কীর্তনপালা গানের আয়োজন করা হয়ে থাকে। মকর সংক্রান্তি বা পৌষ সংক্রান্তিতে মূলত নতুন ফসলের উৎসব ‘পৌষ পার্বণ’ উদযাপিত হয়। নতুন ধানখেজুরের গুড় এবং পাটালি দিয়ে বিভিন্ন ধরনের ঐতিহ্যবাহী পিঠা তৈরি করা হয়যার জন্য প্রয়োজন হয় চালের গুঁড়ানারিকেলদুধ আর খেজুরের গুড়। পৌষ সংক্রান্তির মাধ্যমে আমরা পৌষ মাসকে বিদায় জানাই ও মাঘ মাসকে আলিঙ্গন করি। সংক্রান্তির দিনে বাংলার বধূরা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী বিভিন্ন নকশা ও সুস্বাদু পিঠে তৈরী করে।



পৌষ সংক্রান্তিতে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিটি বাড়িতে পিঠা-পুলি তৈরী ও খাওয়ার ধুম পড়ে। সংক্রান্তির দিনে সকালে পিঠা-পুলিপায়েসদই-চিড়াতিলু-কদমা আর নকূল-বাতাসার পাশাপাশি বিভিন্ন ফলমূলের আয়োজন হয়ে থাকে। শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধরাও আত্মীয়সহ প্রতিবেশীর বাড়ি যান। আর কিশোররা ঘুড়ি উড়ানোর প্রতিযোগিতায় মেতে উঠে। সংক্রান্তি উপলক্ষে বুধবার বাজারে গুড়-মুড়ি-চিড়াদইনারকেলতিলুকদমা ও ফলমূলের বিক্রি হয় দেদারসে। পৌষ পার্বণ হলো বাঙালির ঐতিহ্য।


আবহমান কাল ধরে ও গ্রামীণ লোকসমাজ এর চর্চা করে বলে এখনও তার কিছু নিদর্শন লক্ষ্য করা যায়। শহরে এখন পিঠা উৎসব পালন করা হয় ভিন্ন আঙ্গিকে। মকর সংক্রান্তি নতুন ফসলের উৎসব ছাড়াও সনাতন ধর্মাবলম্বিদের কাছে উত্তরায়ণের সূচনা’ হিসেবে পরিচিত। একে অশুভ সময়ের শেষ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়পঞ্জিকা মতেজানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয় এই দিন। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রচলিত বাংলা দিনপঞ্জির সাথে সনাতন ধর্মাবলম্বিদের পঞ্জিকার ব্যবধান দুদিনের। তাই তাদের পৌষ সংক্রান্তি হয় দেশের প্রচলিত বাংলা দিনপঞ্জির মাঘ মাসের ২ তারিখ। পৌষ সংক্রান্তিতে পিঠা উত্সবপৌষ মেলা এবং বিভিন্ন লোকজ ধারার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও হয়ে থাকে l 


বিশ্বের বিভিন্ন দেশেবিশেষত দক্ষিণ এশিয়ায় এই দিবস বা ক্ষণকে ঘিরে উদযাপিত হয় উৎসব। নেপালে এই দিবসটি মাঘি নামেথাইল্যান্ডে সংক্রানলাওসে পি মা লাওমিয়ানমারে থিং ইয়ান এবং কম্বোডিয়ায় মহাসংক্রান নামে উদযাপিত হয়। অবশ্যিকভাবে দেশ ভেদে এর নামের মতোই উৎসবের ধরণে থাকে পার্থক্য।




 মাঠের বাঁশি শুনে শুনে আকাশ খুশি হল।
          ঘরেতে আজ কে রবে গো,   খোলো   খোলো দুয়ার খোলো।
          আলোর হাসি উঠল জেগে   ধানের শিষে শিশির লেগে--
ধরার খুশি ধরে না গোওই-যে উথলে,   মরি     হা য়   হা য়   হায়॥


এছাড়া পৌষ সংক্রান্তির অন্যতম আকর্ষণ হলো সাকরাইন বা ঘুড়ি উৎসব l পৌষ সংক্রান্তির দিন বাঙালির সারাদিনব্যাপি ঘুড়ি উড়ানোর প্রথা ছিল। হাল্কা খেলনা যা সুতা টেনে আকাশে ওড়ানো হয়। পাতলা কাগজের সাথে চিকন কঞ্চি লাগিয়ে সাধারণ ঘুড়ি তৈরি করা হয়। ঘুড়ি ওড়ানো একটি মজার খেলা। বহু দেশে ঘুড়ি ওড়ানোর উৎসব ও প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশে বিশেষ করে পুরনো ঢাকায় পৌষ মাসের শেষ দিন পৌষ সংক্রান্তিতে ঘুড়ি ওড়ানো উৎসব পালন করা হয়। এইদিন ঘুড়ি উড়ানোর জন্য তারা আগে থেকে ঘুড়ি বানিয়ে এবং সুতায় মাঞ্জা দিয়ে প্রস্তুতি নেয়। মাঞ্জা হল ঘুড়ি সূতা প্রস্তুত প্রণালী যা ঘুড়ি উড়াতে এবং কাটাকাটি খেলতে আফগানিস্তানবাংলাদেশভারতপাকিস্তান সহ ভারতবর্ষের আশেপাশের দেশে ব্যবহৃত হয়। সুতায় আঠারঙ এবং কাচের গুড়ার (চূর) প্রলেপ দিয়ে আকাশে ঘুড়ি কাটাকাটির জন্য তৈরি করা হয়। ঘুড়ি কাটাকাটির লড়াই সাড়া বছর ধরে চললেও এ অঞ্চলগুলো ঘুড়ি উড়ানোর উৎসবে বিশেষভাবে অনুষ্ঠিত হয়। দুইজন লড়াকু মাঞ্জা দেওয়া সূতা দিয়ে ঘুড়ি উড়িয়ে একজন আরেকজনকে টানে অথবা ছোড়ে (ঢিল) পদ্ধতিতে কাটার চেষ্টা করেন। বিজয়ী ঘুড়ি আকাশে উড়তে থাকে আর হেরে যাওয়া অর্থ্যাৎ কেটে যাওয়া ঘুড়ি বাতাসে দুলতে দুলতে দুরে মিলিয়ে যায়। কিশোর যুবক বৃদ্ধ সেই কেটে যাওয়া ঘুড়ি ধরার চেষ্টা করেন। ঘুড়ি উৎসব বাংলার প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী একটি উৎসব। এই উৎসবে প্রচুর লোক সমাগম ঘটে। 


মকর সংক্রান্তির মেলা 
- লক্ষ্মণ ভাণ্ডারী
  নদীর ঘাটে বসেছে আজ
মকর সংক্রান্তির মেলা,
বসেছে দোকান সারি সারি,
আর সার্কাসের খেলা।

দু আনার কেনা মাটির পুতুল,
তিন আনার বাঁশি,
হরেক মাল পাঁচ সিকে দাম,
সেথায় ভিড় বেশি।

ময়রা ভোলা বসেছে দোকানে,
টাঙায়েছে সামিয়ানা।
রসগোল্লা আর পানতোয়া,
সব পাবে আনা আনা।

আলুর চপ ও তেলেভাজা,
পাবে তার দোকানে,
চায়ের দোকান, পানের দোকান,
বসেছে এক কোণে।

মনিহারীর দোকান কত
বসেছে সারি সারি,
পুঁতির মালা ও কানের দুল,
দেখতে সুন্দর ভারি।

চুড়ি, মালা, খোপার বল
কিনতে ইচ্ছে হয়,
দাম শুনে মাথায় হাত,
কিনতে লাগে ভয়।

মেলার মাঝে খোকন সোনা
কাঁদছে বসে একা।
হারিয়ে গেছে বাবা মা তার,
পায় না কেন দেখা ?

হাসির চেয়ে কান্না দামী
আজকে মেলার ভিড়ে,
বসেছে মকর-সংক্রান্তির মেলা,
অজয় নদীর তীরে। 




মকর সংক্রান্তি সাবধানতা : প্রেমে বিপদ আসতে চলেছে


মকর সংক্রান্তির সময় প্রেমিক প্রেমিকাদের জন্য কষ্টের । ৬ জানুয়ারি থেকে মাসের শেষ পর্যন্ত এবং ৭ মার্চ থেকে ২ মে পর্যন্ত সম্পর্কে টানাপোড়েন দেখা দেবে। সম্পর্কের অবনিতও হতে পারে। সম্পর্কে টানাপোড়েন হতে পারে। ১৪ মে পর্যন্ত শুক্রের বিশেষ অবস্থানের কারণে জীবনে প্রেমের ওপর ফোকাস পড়তে পারে।



মকর সংক্রান্তি অনুকুল না হলেও প্রেমের  জন্য এই বছর চমকপ্রদ হতে পারে। এ মাসে আপনি প্রেমের সাথে যুক্ত কোন নতুন প্রস্তাব পেতে পারেন। যে জাতকের বিয়ের ইচ্ছা রয়েছে তার জন্য নতুন জীবনের সুত্রপাত ঘটবে অর্থাৎ বিবাহের মতো মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান সম্পন্ন হওয়ার সময় এটা।


মেষ রাশি (২১ মার্চ-২০ এপ্রিল) এবছরে পারিপার্শ্বিক বিভিন্ন অবস্থা আপনার জীবনে স্থায়িত্ব আনতে সাহায্য করবে। জীবনে ধৈর্য আসবে। তবে অতিরিক্ত আবেগপ্রবণ হবেন না। সহানুভূতিশীল হোন এবং ঠিকঠাক সিদ্ধান্ত নিন। এই বছর আপনার শাসক গ্রহ হবে মঙ্গল। ফেব্রুয়ারির শেষে আপনার গৃহ অতিক্রম করবে এবং তা মার্চের শেষ পর্যন্ত অবস্থান করবে। এই সময় কিছু কিছু জিনিসের কারণে আপনার ধকল বাড়তে পারে। কর্মক্ষেত্রে মাথা ঠাণ্ডা রেখে কাজ করুন। কোনও বিষয়ে বেশি উত্তেজিত না হওয়ায়ই ভালো কর্মক্ষেত্রে। কর্মক্ষেত্রে আশপাশের বন্ধুদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখুন। বছরের প্রথমদিকে বেশ উন্নতি পরিলক্ষিত হচ্ছে।প্রেম এবং সম্পর্কের ক্ষেত্রে মিশ্র ফল পাওয়া যাবে নতুন বছর ২০১৮-তে। প্রেম জীবনে টুইস্টও আসবে। তবে শুরুর দিকে কিছু অসুবিধা দেখা দিতে পারে জানুয়ারি মাসে। মূলত মঙ্গলের অবস্থানের কারণেই এই অসুবিধা তৈরি হতে পারে। ২০ এপ্রিল থেকে ১৪ মে পর্যন্ত শুক্রের বিশেষ অবস্থানের কারণে জীবনে প্রেমের ওপর ফোকাস পড়তে পারে। অন্যদিকে ১৭ অক্টোবর থেকে নভেম্বর সূর্যের অবস্থানের কারণে সমস্যা তৈরি হতে পারে। পরিবারের সদস্যদের সাথে সময় কাটানোর মাধ্যমে একলা এবং একাকীত্বের অনুভূতি কাটিয়ে উঠুন। আমোদপ্রমোদে এবং বিলাসিতায় বাজে খরচ করবেন না। বাচ্চারা কখনো বন্ধুদের বেশী সময় দিয়ে পড়াশোনায় বা বাড়িতে কম মনোযোগ দেওয়ায় আপনার অসন্তুষ্টির কারণ হতে পারে। প্রেম জীবন ভাল দিকে মোড় নিতে যাচ্ছে কারণ আপনি একটি ভাল সম্পর্কের বিকাশ ঘটাচ্ছেন আপনার কাজে লেগে থাকুন এবং আপনাকে সাহায্য করার জন্য যারা কোমর বেঁধে লেগেছেন তাদেরকে গণ্য করবেন না। আজ সেরকমই একটি দিন যখন বিষয়গুলি আপনার ইচ্ছামাফিক চলে না।

বৃষ রাশি (২১ এপ্রিল-২১ মে) বৃষরাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য মার্চ-এপ্রিল মাস নাগাদ জীবনে নতুন কিছু শুরু করা বিপদের হতে পারে। এই সময়ে গ্রহের কুপ্রভাব থাকবে। সহজে সমস্যার সমাধান হবে না। তবে ধীরে ধীরে সমস্তকিছু ঠিক হবে। তবে যে কাজই করুন না কেন, ধৈর্য হারালে চলবে না। বছরের প্রথমদিকে কেরিয়ারের ক্ষেত্রে একটু পরিশ্রম করতে হবে। তবে তারপরই উন্নতি পরিলক্ষিত হবে। মে মাস থেকে ব্যস্ততা বাড়বে কর্মক্ষেত্রে। তবে এই কর্মব্যস্ততা জীবনের পরবর্তীভাগে বেশ কাজে দেবে। প্রেম এবং সম্পর্কের ক্ষেত্রে মিশ্র ফল পাওয়া যাবে নতুন বছর ২০১৮-তে। বছরের শুরুতে প্রেমের বিষয়গুলি আপনার জীবনে ঝলকানি ছড়িয়ে দেবে। উল্লেখযোগ্যভাবে, যেভাবে চান সঙ্গী কিংবা সঙ্গীনীর সঙ্গে ভ্রমণে যেতে পারবেন কিংবা রাজকীয় ডিনারে অংশ নেবেন। তবে ৬ জানুয়ারি থেকে মাসের শেষ পর্যন্ত এবং ৭ মার্চ থেকে ২ মে পর্যন্ত সম্পর্কে টানাপোড়েন দেখা দেবে। সম্পর্কের অবনিতও হতে পারে। অন্যদিকে মে থেকে নভেম্বরের মধ্যে বিপরীত ধর্মী অবস্থান দেখা দেবে। এবছরের অকটা বড় সময় চাপ মুক্ত হতে আপনার মূল্যবান সময় আপনার বাচ্চাদের সাথে কাটান। আপনি বাচ্চাদের উপশমকারী ক্ষমতা অনুভব করবেন। যেহেতু তারা এই পৃথিবীর সবথেকে শক্তিশালী আধ্যাত্মিক এবং আবেগপূর্ণ ব্যক্তিত্বস্বরূপ। আপনি নিজেই সতেজ অনুভব করবেন। আপনার সৃজনশীল প্রতিভা সঠিকভাবে ব্যবহার করলে অত্যন্ত লাভজনক প্রমাণিত হতে পারে। ছোট ভাই বা বোন আপনার পরামর্শ চাইতে পারে। প্রেম ইন্দ্রিয়ের সীমা অতিক্রম করে যায়, কিন্তু আপনার ইন্দ্রিয় আজ ভালবাসার উচ্ছ্বাসের অভিজ্ঞতা লাভ করবে।

মিথুন রাশি (২২ মে-২১ জুন) আপনার শাসকগ্রহ বুধ এপ্রিল মাস থেকে পশ্চাদগামী আচরণ করতে শুরু করবে যা আপনার উপর প্রভূত প্রভাব ফেলতে পারে। মে মাস থেকে ভাগ্যে উন্নতি হতে পারে। তবে বছরের আরও দুবার বুধের স্থান পরিবর্তনের জেরে সাময়িক কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। ২০১৮ সাল আপনার কেরিয়ারের পক্ষে ইতিবাচক প্রমাণিত হতে পারে। এই বছরে আপনার কেরিয়ারের উন্নতি কেউ রুখতে পারবে না। আপনার কাজের ক্ষেত্রে উন্নতি বেশ ভালোভাবে পরিলক্ষিত হবে। প্রেম এবং সম্পর্কের ক্ষেত্রে বছরটি বেশ পজিটিভ হবে। প্রত্যেকটি অবস্থানকেই উপভোগ করবেন। এই স্বভাবই আপনাকে সঙ্গী কিংবা সঙ্গীনীর প্রতি আকৃষ্ট করবে। কিন্তু ১৩ জানুয়ারি থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি সময়টি বেশ কঠিন সময় হবে। এই সময়ের মধ্যে সম্পর্কে ভাঙনও দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে, ২ মার্চ থেকে ২৬ মার্চের মধ্যে সময়টি বেশ ভাল যাবে। ২০ এপ্রিল থেকে ১৪ মে-র মধ্যেকার সময় শারীরিক সান্নিধ্য উপভোগ করবেন। প্রেম নিয়ে আপনার ইচ্ছের সফল ছবি দেখা দিতে পারে ২ মে থেকে ৬ নভেম্বরের মধ্যে। তবে অক্টোবরের দ্বিতীয় ভাগে সম্পর্কে বাধা আসতে পারে। যদি আপনি যথেষ্ট বিশ্রাম না নেন তাহলে আপনার অত্যন্ত ক্লান্ত বোধ এবং অতিরিক্ত বিশ্রামের প্রয়োজন হবে। ব্যস্ততার মধ্যে বিনিয়োগ করবেন না- তাতে লোকসান হবেই যদি না আপনি বিনিয়োগ সময় সব দিক লক্ষ্য রাখেন। পরিবার বা ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সাথে জমায়েতের ফলে একটি সেরা দিন হয়ে উঠবে। পুরনো কোনও প্রেম আপনার পারিবারিক শান্তি বিঘিন্ত করতে পারে এই বছরে। ফলে সতর্কভাবে চলাফেরা করুন। যদি কোন ক্ষেত্রে আপনি কোন বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন তাহলে রুক্ষ বিবৃতি না করার জন্য সতর্ক থাকুন।

কর্কট রাশি (২২ জুন-২২ জুলাই) আপনার জীবনের সমস্ত রকমের আশা মেটানোর জন্য গ্রহদের অবস্থান সুবিধাজনক হয়েছে। ফলে এবছরে আপনার জীবনের নানান রকমের নতুন দিক খুলে যাবে। কর্কট রাশির জাতকেরা এই সময় পরিজন,পরিচিতি এবং বন্ধুদের থেকে প্রত্যেক কাজে সাহায্য পাবেন। প্রিয়জনের সাথে কোথাও বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা হতে পারে। তবে আপনার পরিবারের বাইরে থেকে অনেক বাধা বিপত্তি আসতে পারে, তাকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন। কর্কট রাশির ক্ষেত্রে ২০১৮ সাল বেশ চ্যালেঞ্জিং মনে হতে পারে। লড়াই, বাঁধা অনেক কিছুই কর্কট রাশির ক্ষেত্রে আসতে পারে, তবে আপনি এসমস্ত কাটিয়ে এগিয়ে যেতে পারবেন । প্রেম এবং সম্পর্কের ক্ষেত্রে মিশ্র ফল পাওয়া যাবে নতুন বছর ২০১৮-তে। প্রথমের দিকের মাসগুলিতে সঙ্গী কিংবা সঙ্গীনীর সঙ্গে সম্পর্কের কিছু টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে। ১৭ জানুয়ারি থেকে ৭ মার্চের মধ্যে এই অবস্থা চলতে পারে। তবে এবছর যাঁরা একা, কিন্তু প্রেমের কথা চিন্তাভাবনা করছেন, তাদের ক্ষেত্রে বছরটি খুব একটা প্রমিসিং হবে না। তবে এপ্রিল থেকে মে-র মধ্যে ইচ্ছে পূরণ হতে পারে। ৫ জুলাই থেকে ১ অগাস্টের মধ্যে সময়টি বেশ আনন্দদায়ক হবে। এদিকে, বছরের শেষে কর্মজীবনে ঝামেলা হবে । এই সময় বাইরের করো থেকে সাহায্য নিন, একা কিছু করবে যাবেন না । এই অভিজ্ঞতা আপনাকে মানসিক ভাবে নাড়িয়ে দেবে, তবে আস্তে আস্তে আপনি উন্নতি করবেন । শ্রম দিলে পুরস্কৃত হবেন ।আপনার সমস্যা হল আপনার টাকা ঝুলে থাকবে- আপনি সম্ভবত বেশি খরচ করবেন অথবা মানিব্যাগ অন্য স্থানে রখবেন- অসতর্কতার কারণে কিছু লোকসান নিশ্চিত হবে। দূরের জায়গার আত্মীয়রা আজ আপনার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।

সিংহ রাশি (২৩ জুলাই-২৩ অগাস্ট) এবছর আপনার রসে বসে কাটবে। ভাল অর্থ উপার্জন করবেন- কিন্তু এটিকে আপনার হাতের মধ্যে দিয়ে চলে যেতে দেবেন না। পরিবারের সদস্যদের হাসিখুশি প্রকৃতি ঘরের পরিবেশ উজ্জ্বল করতে তুলবে। আপনার কাজ হবে আরাম করা- কারণ আপনি আপনার প্রিয়জনের মাধ্যমে সুখ- সাচ্ছন্দ্য এবং পরমানন্দ খুঁজে পাবেন। ২০১৮ সালে সিংহ রাশির জাতকরা যে ক্ষেত্রেই যাবেন সেই ক্ষেত্রেই তাঁরা রাজার মতো করে দাপট দেখাবেন। তবে কর্মক্ষেত্রে সংযোগের গোলমালের জন্য সমস্য়ায় পড়তে পারেন তাঁরা। সিংহ রাশির জাতকদের পক্ষে এই বছরটি বেশ ভালো। যাঁরা চাকরি খুঁজছেন তাঁরা চাকরি পেতে চলেছেন এই বছরে। তবে কাজের ক্ষেত্রে প্রচুর বাঁধা বিপত্তি আসতে পারে। তবে কেরিয়ারের দিক থেকে একটা অস্বস্তি থেকেই যাবে। প্রেম এবং সম্পর্কে উত্থান-পতন হবে। প্রেম-সম্পর্ক নিয়ে অসন্তুষ্টি এবং অসন্তোষ দেখা দেবে পুরো বছর ধরেই। কিন্তু বৃহস্পতির আশীর্বাদ পাবেন আপনি। ১৩ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সময়ে ইগোর সমস্যা দেখা দিতে পারে। মার্চ থেকে মে মাসের সময়টা প্রেমের জন্য খারাপ সময়। তবে ইচ্ছা পূরণ হতে পারে জুন মাসে। অগাস্ট থেকে সেপ্টেম্বর সময়টা খুব ভাল সময় যাবে। সঙ্গী কিংবা সঙ্গীনীর সঙ্গে রাজকীয় ডিনার করার সুযোগ মিলতে পারে। আপনার পুরনো কাজের জন্য এবছর স্বীকৃতি পেতে পারেন। চন্দ্রগ্রহণের প্রভাব আপনার গ্রহ কক্ষেও পড়তে পারে। এর প্রভাবে আপনার জীবনে বড়সড় একটা পরিবর্তন আসতে পারে। হতে পারে সম্পর্ক সংক্রান্ত বা কর্মক্ষেত্র সংক্রান্ত, কিংবা আর্থিক বিষয় সংক্রান্ত হতে পারে। বছরের মাঝখান থেকে ধীর ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করবে। জীবনের গুরুত্বপূর্ণ কাজ বা সিদ্ধান্ত এই সময়ের পর নিতে শুরু করুন।

কন্যা রাশি (২৪ অগাস্ট-২৩ সেপ্টেম্বর) কন্যা রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য এই বছরটি বিশেষ বছর। জীবনে সবকিছু নিখুঁত করতে গিয়ে হাসিখুশি থাকাকে জলাঞ্জলি দেবেন না। যেটা যেভাবে আপনার কাছে আসছে সেটা নিয়েই খুশি থাকুন। কারণ আপনি যতই চেষ্টা করুন না কেন সবকিছুকে একশো শতাংশ নিখুঁত করতে পারবেন না। কন্যা রাশির জাতকরা ২০১৮ সালের এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় থেকে কেরিয়ারে প্রবল উন্নতি দেখতে পাবেন। তবে অনেক রকমের বাঁধা আসতে পারে, যা মাথা ঠাণ্ডা করে সামলালে ভালো ফল পাওয়া যাবে। সময় ঘুরে আপনার দিকে আসবেই, আর তার জন্য অপেক্ষা করে ঠিক সময়ে ঠিক কাজটি করেত হবে। এই বছরটি কন্যা রাশির জাতকদের পক্ষে প্রেম এবং সম্পর্কের ক্ষেত্রে মিশ্র ফল পাওয়া যাবে । প্রাথমিকভাবে সম্পর্কে অবনতি কিংবা ছাড়াছাড়িও হতে পারে। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে ইগোর সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে রাগকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, না হলে তার প্রভাব পড়বে সম্পর্কে। ২ মে থেকে ৬ নভেম্বরের মধ্যে কসমসের আশীর্বাদ আপনি পেতে পারেন। সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে সম্পর্কে উন্নতি হবে। তবে ১১ অক্টোবরের পর বিবাহ কিংবা সম্পর্ক স্থাপনের সম্ভাবনা। যদিও আপনার আর্থিক অবস্থান উন্নত হয়েছে, তবুও টাকা বেরিয়ে যাওয়ায় আপনার প্রকল্পগুলির কার্যনির্বাহে বাধার সৃষ্টি করবে। সাময়িক সঙ্গীর সঙ্গে ব্যাক্তিগত ব্যাপার আলোচনা করবেন না। আজ আপনি আপনার ভালোবাসার মানুষটির খুবই অভাব অনুভব করতে পারেন। আপনি পরোপকার ও সামাজিক কাজের দিকে আকৃষ্ট হবেন- ভালো কাজে সময় দিয়ে আপনার জীবনে অভূতপূর্ব পরিবর্তন আনতে পারেন। দিনটি আপনার বিবাহিত জীবনের ধৈর্য পরীক্ষা করবে। জিনিস আপনার নিয়ন্ত্রাধীনে রাখতে শান্ত থাকুন।

তুলা রাশি (২৪ সেপ্টেম্বর-২৩ অক্টোবর) তুলার জাতক জাতিকারা এই বছরে তাড়াহুড়ো করে কোনও ধরনের সিদ্ধান্ত নেবেন না। আর্থিক দিক থেকে এইবছর আপনার জন্য লাভের থাকবে। তবে টাকা দিয়ে আপনি সুখ কিনতে পারবেন না। নিজের আর্থিক সিদ্ধান্তগুলি নেওয়ার সময়ে সচেতন থাকতে হবে। এর পাশাপাশি প্রেমের ক্ষেত্রে এগোনোর বিষয়েও সচেতন থাকতে হবে। তুলা রাশির জাতকরা এই বছরে করিয়ারের দিক থেকে প্রচুর আর্থিক উন্নতি দেখতে পাবেন। নিজের কাজের প্রতি যত্নবান হোন। কাজের দিকটি আরও উন্নতি করলে আপনার অর্থভাগ্য়ের উত্থান কেউ রুখতে পারবে না। প্রেম-ভালবাসা এই বছরে পজিটিভ। বছরের শুরু থেকেই ভাল যাবে। ১৭ জানুয়ারি থেকে ৭ মার্চ পর্যন্ত সময় প্রেম এবং রোমান্সে পূর্ণ থাকবে। প্রেমের পরিপূর্ণতা দেখাচ্ছে রাজকীয় ডিনারেও যাওয়ার সুযোগ মিলবে। ১১ অক্টোবরের আগে পর্যন্ত স্বামী কিংবা স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক ভাল থাকবে। ১ অগাস্ট থেকে শুরু হওয়া সপ্তাহে বিদেশ ভ্রমণেরও সুযোগ মিলতে পারে। ২ মে থেকে ৬ নভেম্বরের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক থাকবে। নতুন সম্পর্ক হলে, তা স্থায়ী হবে। অনেক ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়ে সমস্যায় পড়তে পারেন আপনি। আপনার প্রিয়জনেরা আপনাকে আরও বেশি করে কাছে চাইবে। তাদের ইচ্ছাকে পূরণ করেছে পারবেন আপনি এবং তা এক অদ্ভূত আনন্দ দেবে। নিজের খাওয়া দাওয়া নিয়ন্ত্রণে রাখুন এবং শারীরিকভাবে সুস্থ থাকার জন্য ব্যায়াম করুন। আপনার খরচ বৃদ্ধি আপনার মনকে ভাবিত করে তুলবে। আত্মীয় এবং বন্ধুদের কাছ থেকে অপ্রত্যাশিত উপহার এবং উপঢৌকন পাবেন। সীমাহীন সৃজনশীলতা এবং উদ্যম আরেকটি লাভজনক দিনের দিকে আপনাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। যেমন দাম্পত্য জীবন সে চেয়েছিল তা না হওয়ার জন্য আপনার স্ত্রী আপনার ওপর রাগে ফেটে পড়তে পারেন। আর্থিক দিক থেকে কিছু ক্ষেত্রে এবছরে আপনার জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। তবে ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে বেশ উন্নতির দিকেই আপনার গ্রাফ। নতুন কোনও কাজে আপনাকে কেউ আটকাতে পারবে না। অনেক নতুন ধরনের সুযোগ আসতে পারে আপনার কাছে এই বছরে। তবে বুঝে শুনে সেই সমস্ত সুযোগের দিকে পা বাড়ান।

বৃশ্চিক রাশি (২৪ অক্টোবর-২২ নভেম্বর) বৃশ্চিক রাশির জাতকদের এবছরে ফোকাস থাকতে হবে, ভালো কিছুর জন্য মনসংযোগ করতে হবে। আপনার জীবনে আশা-আকাঙ্খা সবই থাকবে। অতীতে করা ভালো কাজের সুফল এবছর ঘরে তুলতে পারেন আপনি। তবে বছরের শেষভাগে এসে সম্পর্কের ক্ষেত্রে কঠিন সময় আসতে পারে। সতর্কতা ও কূটনীতি দুটোতেই আপনাকে দক্ষ হতে হবে। বফলে যতটা পারবেন এই ভালো সময়ের সুযোগ নিন। ২০১৮ সালে বৃশ্চিক রাশির জাতকরা বেশ উন্নতি দেখতে পাবেন কেরিয়ারে। পাশপাশি বেতন উত্তরোত্তর বৃদ্ধির চরম সম্ভাবনা পরিলক্ষিত হচ্ছে। তবে কেরিয়ার বেশ শান্তি সুস্থির সময় আসেত চলেছে আপনার। প্রেম এবং সম্পর্কের ক্ষেত্রে মিশ্র ফল পাওয়া যাবে নতুন বছর ২০১৮-তে। বছরের শুরুতে সম্পর্কে অস্বস্তিজনক কিছু ঘটতে পারে। সঙ্গী কিংবা সঙ্গীনী অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। ১৭ জানুয়ারি থেকে ৭ মার্চের মধ্যে সময়ে সম্পর্কে তীব্রতা আসবে কিংবা উৎসাহিত হওয়ার মতো দিকে যাবে। ৭ মার্চ থেকে ২ মে-র মধ্যে সময়ও প্রেমের জন্য খুব ভাল সময়। ১ অগাস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সময়ে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে না পড়াই ভাল। আর ১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া মাসে সময়টা প্রেমের পক্ষে ভুল ভাল সময়। ১১ অক্টোবরের পর সম্পর্ক আরও জোরদার হবে। ৬ নভেম্বর থেকে ২৩ ডিসেম্বরের মধ্যে সময়ে সম্পর্কে আরও রোমান্স আসবে। মঙ্গলের স্থানান্তরের সঙ্গে সঙ্গে এবছর আপনার ভাগ্যেও অনেক কিছু দিক দিক পরিবর্তন হতে পারে। তবে কিছু পরিকল্পনা আগে থেরকেই করে নিয়ে এগোতে পারলে ভালো। তার ফলে আপনার পরিবারে সুখ শান্তি আসবে। আপনার কম জীবনীশক্তি সিস্টেমের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী বিষের মত কাজ করবে। নিজের কিছু সৃষ্টিশীল কাজ নিয়োজিত রাখা এবং এই রোগের বিরুদ্ধে নিজেকে উদ্বুদ্ধ রাখাই সবচেয়ে শ্রেয়। আপনার খরচে অপ্রত্যাশিত উত্থান আপনার মানসিক শান্তিকে বিঘ্নিত করবে। বন্ধুদের সঙ্গে আপনি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন। ভালোবাসা কম উদ্দীপক থাকা সম্ভবপর। উত্তেজনাপূর্ণ দিন যখন ঘনিষ্ঠ সহকারীদের সাথে বেশ কিছু বিরোধ মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারে। আজ আপনার স্ত্রীর মেজাজ খারাপ আছে বলে দেখাচ্ছে।

ধনু রাশি (২৩ নভেম্বর-২১ ডিসেম্বর) এবছরের প্রথম থেকে নিজের চাকরির দিকে নজর দিন। এবছরের প্রথম থেকে বেশি করে টাকা জমাতে না পারলে তা ভীষণভাবে সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে আপনার জীবনে। শনি এই মুহুর্তে মকরের ওপর প্রভাব বিস্তার করেছে তাই আপনার আর্থিকভাবে সচেতন থাকাটা জরুরি। তবে খানেকদিনের জন্য নয়, অদূর ভবিষ্যতের জন্য টাকা সঞ্চয় করে রাখুন। সময়ে কাজে আসতে পারে। নিজের স্বাস্থ্য সম্পর্কে আরও বেশি সচেতন হোন। প্রেম এবং সম্পর্কের ক্ষেত্রে মিশ্র ফল পাওয়া যাবে নতুন বছর ২০১৮-তে। বছরের শুরুর দিকে সম্পর্কে টানাপোড়েন হতে পারে। অপর দিকে বছরের দ্বিতীয় অংশ ভাল যাবে। যাঁরা প্রেমের সম্পর্কে রয়েছেন তাঁদের ক্ষেত্রে ১৭ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সময়টা বেশ ভাল। যা চলবে ৭ মার্চ পর্যন্ত। অন্যদিকে, ২ মে থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত সময়ও খুব ভাল যাবে। তবে ১১ অক্টোবরের পর থেকে সময়টা কঠিন হতে পারে। এছাডা়ও যে কাজে প্রচুর পরিশ্রম ও মাথা খাটাতে হবে এমন কাজ থেকে বিরত থাকুন। কিছুদিন পরই বুধের নেতিবাচক প্রভাব কেটে যাবে। বৃহস্পতির প্রভাবে আপনার সামাজিক মেলামেশা ও বন্ধুর সংখ্যা বাড়তে পারে। নতুন বন্ধু তৈরি করুন এবং পুরনোদের সঙ্গে সময় কাটান। যাঁরা চাকরি করছেন সেই ধনু রাশির জাতকরা আরও বেশি উন্নতি করবেন, আর যঁরা চাকরির পদপ্রার্থী তাঁরা এবছরে চাকরি পেতে চলেছেন। কেরিয়ারের দিক থেকে এই বছরটি আপনার স্বস্তিদায়ক। গ্যাসের সমস্যায় ভোগা রোগীরা আবশ্যিকভাবে তেল এবং চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলবেন, যেহেতু এটা তাঁদের অসুস্থতা বাড়াতে পারে। বিনিয়োগ করা এবং ঝুঁকি নেওয়ার পক্ষে বছরটি ভালো নয়। আপনার অসংযত জীবনযাত্রা বাড়িতে উত্তেজনার সৃষ্টি করতে পারে। ভ্রমণ লাভদায়ক হলেও খরচসাপেক্ষ হবে। আপনার একজন পুরনো বন্ধু আপনার এবং আপনার জীবন সঙ্গীর পুরাতন সুন্দর স্মৃতি বয়ে নিয়ে আসবেন।

মকর রাশি (২২ ডিসেম্বর-২০ জানুয়ারি) সার্বিকভাবে দেখতে গেলে গত কয়েক বছরের তুলনায় এই বছর মকর রাশির জাতক জাতিকাদের ক্ষেত্রে ভাল কাটবে। তবে কিছু কিছু জাতক বা জাতিকার ক্ষেত্রে জীবনে অস্বাভাবিক কিছু বদল আসার সম্ভাবনা রয়েছে। কারোর পক্ষে তা মঙ্গলদায়ক হতে পারে কারোর পক্ষে তা কাম্য নয়। কাজের ক্ষেত্রে অনেক রকমের নতুন নতুন সুযোগ আসবে এই বছরে। পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে কোন সমস্যা থাকলে সেটি খুব শিগগিরিই মিটে যাবে। এবছর এই রাশির জাত জাতিকাদের প্রেম এবং সম্পর্কের ক্ষেত্রে মিশ্র ফল পাওয়া যাবে নতুন বছর ২০১৮-তে। বছরের শুরুর দিকের মাসগুলিতে দাম্পত্য জীবনে ঝাগড়াঝাটি হতে পারে। তবে অক্টোরের পরের সময়টা বেশ ভাল যাবে। ৭ মার্চ থেকে ২ মে পর্যন্ত সময় প্রেমের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভাল। ১১ অক্টোবরের পর প্রেমের সম্পর্ক সামনে আসতে পারে। সঙ্গী কিংবা সঙ্গীনীর সঙ্গে বিদেশ ভ্রমণেও যেতে পারেন। তবে যাঁরা নতুন করে প্রেমের সম্পর্কে আবদ্ধ হতে চান তাঁদের ১১ অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারলে ভাল হয়। সারাবছর পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনের সহযোগিতা পাবেন। পেশাগত ব্যস্ততার কারণে মাঝে মধ্যে পারিবারিক দায়িত্ব পালন করতে অসমর্থ হতে পারেন। কর্মক্ষেত্র ও পরিবারের মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রেখে চলার ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। মকর রাশির জাতকদের এই বছরে কর্মব্য়স্ততা আরও বাড়বে। বছরের প্রথমভাগে সেরকম কিছু না হলেও, বছরের শেষভাগে উন্নতি পরিলক্ষিত হবে কেরিয়ারে। তবে কেরিয়ারের বিষয়ে একটি দিক লক্ষ্য রাখতে হবে, যে আশপাশে অফিসের বন্ধু দের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রেখে চলাটা এবছরে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই বছরে বৃহস্পতির কৃপা আপনার রাশির ওপর থাকায় আপনার উন্নতি রোখা অসম্ভব। তবে মাথার থেকে বেশি গুরুত্ব দিন মনের কথায়। অনেক হিসাব নিকেশ করেও যা হয় না তা করে দেয় মনের কথা। ফলে অনেক সমস্যা এভাবে মেটাতে পারবেন।

কুম্ভ রাশি (২১ জানুয়ারি-১৮ ফেব্রুয়ারি) এই বছর বহু কুম্ভ রাশির জাতক-জাতিকাদের জানুয়ারি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে কিছুটা বাঁধা আসবে। আপনার মধ্যে যে শেখার ইচ্ছা রয়েছে, আপনার নিজের উপর যে বিশ্বাস রয়েছে তা নষ্ট হতে দেবেন না। নিজের গুণগুলিকে আঁকড়ে রেখে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে চলার চেষ্টা করুন। জীবন আপনার জন্য সন্তোষজনক মোড় নেবে। অংশীদারিত্ব এবং সম্পর্ক আপনার পক্ষেই থাকবে। প্রেম এবং সম্পর্কের ক্ষেত্রে মিশ্র ফল পাওয়া যাবে নতুন বছর ২০১৮-তে। বছরের প্রথমার্ধ আগে থেকেই চলে আসা সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভাল সময়। তবে অক্টোবরের পর থেকে অবস্থার পরিবর্তন হতে পারে। ২ মে থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত সময়টাও ভাল যাবে। এই সময়ের মধ্যে নিজের কাছের মানুষটির সঙ্গে বেশি সময় কাটাবেন। ১৬ অগাস্টের পর থেকে সময়ে সঙ্গী কিংবা সঙ্গীনীর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার হবে। তবে অক্টোবরের পর থেকে সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হতে পারে। চাকরির নতুন সুযোগ আসতে চলেছে কুম্ভ রাশির জাতকদের ক্ষেত্রে। কর্মক্ষেত্রেও শান্তি স্বস্তি পাবেন কম্ভ রাশির জাতকরা। এই বছর কাজের ক্ষেত্রে আপনার জনপ্রিয়তা বাড়বে। অর্থ উপার্জনের ক্ষেত্রে বেশি কিছু চেষ্টা করতে হবে না। অর্থ নিজে থেকেই আপনার কাছে আসবে। আপনার কাজের স্তর বিস্তৃতির জন্য এটি অত্যন্ত ভাল সময়। এই সময় আপনি ভ্রমণের পরিকল্পনা অনায়াসে করতে পারেন। তবে অন্দরের গ্রহগুলির পশ্চাদগামী অভিগমনের থেকে সাবধান থাকুন। বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে আপনি অনেক পুরনো বা আটকে থাকা কাজে হাত লাগাতে পারেন। এই সময় শুক্রের বিপরীতগামী আচরণের ফলে আপনার শেখার ক্ষমতায় বাধা পড়তে পারে। তবে গত বছরের তুলনায় এই বছরটি আপনার বেশ ভালো কাটবে। অনেক সুখ স্বাচ্ছন্দ্য নিয়ে আসবে এই বছর। গত বছর যে বিষয়গুলি আশা করেছিলেন তার কিছুটা এই বছর সম্পন্ন হতে পারে। চাকরির জায়গা থেকে আপনি অনেকটাই সুস্থিরতা অনুভব করবেন।

মীন রাশি (১৯ ফেব্রুয়ারি-২০ মার্চ) নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যেতে এবছরে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জের মুখো মুখি হবে না আপনি। তবে আপনার বুদ্ধির জোর আপনাকে বাঁচিয়ে নিয়ে যাবে। কোনও কাজ যদি আপনার বাকি থাকে, তাহলে সেই কাজ এবছরে সম্পন্ন হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কাজের চাপের কাছে বেশি নতি স্বীকার করবেন না। স্বাস্থ্যের দিকে নজর রাখবেন। মীন রাশির জাতকদের প্রেমের সম্পর্কে বছরটি যাবে বিভিন্ন রকম ভাবে। বিবাহিত জীবনে সম্পর্কে টানাপোড়েন চলতে পারে। নিজের রাগের কারণেই সেটা হবে। সম্পর্কে দূরত্ব এবং ভুল বোঝাবুঝি সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে। যদিও অক্টোবরের পরবর্তী সময়ে প্রেমের সম্পর্কের জন্য ভাল সময়। ২ মে থেকে ৬ নভেম্বরের মধ্যে সময়টা বেশ ভাল। এই সময়ের মধ্যে সম্পর্কেরও উন্নতি হবে। তবে বছরের শেষের দিকে ফের সম্পর্কে অবনতি ঘটতে পারে। চাকরীর ক্ষেত্রে ২০১৮ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত মীন রাশির জাতকরা বেশ কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন। কর্মক্ষেত্রে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজে ক্লান্ত হয়ে যেতে পারেন। তবে রাগের বশে কোনও সিদ্ধান্ত নেবেন না। মীন রাশির জাতকরা গোটা বছরেই কাজের চাপের কারণে স্বাস্থ্যের অবনতিতে ভুগতে পারেন। বছরের মাঝে আপনার জীবনে কিছু ঝঞ্ঝা আসতে পারে। তবে বছর শেষে গিয়ে পরিস্থিতি ফের ঠিক হয়ে যাবে। আপনার ভাগ্যের অধিপতি নেপচুন আপনার সঙ্গে সারাবছর থাকবে। ফলে ঘর থেকে দূরে থাকলেও সারাবছর আপনার মন বাড়িতেই পড়ে থাকবে। মঙ্গল যেহেতু বছরের শুরুতে আপনার সঙ্গে থাকবে তাই সমস্ত কাজেই প্রচুর এনার্জি পাবেন আপনি। সেটাকেই সম্বল করে বছরভর এগিয়ে যেতে হবে। তবে বছরের শেষে নিজেক অনেকটাই ঝড়ঝাপ্টা মুক্ত বলে মনে হবে আপনার। কেরিয়ারে উন্নতির পাশপাশি আর্থিক উন্নতিও পরিলক্ষিত হবে আপনার জীবনে। তবে যেকাজই করুন সেটা মন দিয়ে করলে তার সুফল পাবেনই।







গঙ্গাসাগর মেলায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের খুঁজে বার করবে ওয়েবসাইট



গঙ্গাসাগর মেলাকে উদ্দেশ্য করে রাজ্য পুলিশ, রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর, রাজ্য ইন্টার এজেন্সি গ্রুপ এবং ন্যাশানাল ইন্সটিটিউট অফ অ্যামেচার রেডিও হাত মিলিয়েছে একটি ওয়েবসাইট তৈরী করার জন্য। এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে গঙ্গাসাগর মেলায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের খুঁজে বার করা হবে আরও সহজ।
নিরুদ্দেশ ব্যাক্তির নাম, বিবরন, যোগাযোগের নম্বর এই ওয়েবসাইটে আপলোড করা হবে, এবং একটি ডকেট নম্বর দেওয়া হবে। নিরুদ্দেশ ব্যাক্তির আত্মীয় পরিজনরা এই ডকেট নম্বরের মাধ্যমে নিরুদ্দেশ ব্যাক্তির ব্যাপারে যাবতীয় তথ্য পাবেন।
এই সাইটে নিরুদ্দেশ ব্যাক্তির গলার স্বরও আপলোড করা যাবে। এই স্বরটিও মুহূর্তে অনুবাদিত হবে। ভাষার সমস্যার ক্ষেত্রে এই টুলটি খুব কাজে দেবে।
কোনও মেলাকে কেন্দ্র করে নিরুদ্দেশ ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার জন্য তৈরী করা পোর্টাল দেশে এই প্রথম। গঙ্গাসাগরে নিরাপত্তা ব্যাবস্থা নিশ্চিত করতে ও পাশাপাশি পুন্যার্থিদের দেখভালের জন্য এই প্রথম রাজ্য সরকার ১৬টি স্যাটেলাইট ফোন ব্যবহার করবে, যাতে প্রাকৃতিক দুর্যোগেও যোগাযোগ ব্যবস্থার কোনও অসুবিধে না হয়।







জানুন গঙ্গাসাগর মেলাতে কি কি থাকবে? 

সব তীর্থ বার বার গঙ্গা সাগর একবার । প্রতিবছরের মতো এবছরও গঙ্গাসাগর মকরস্নান ঘিরে  তোড়জোড় শুরু হয়েছে।  জেলা প্রশাসন থেকে বিভিন্ন স্বেচ্ছা সেবি সংগঠনের তড়ফে প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে। সাগরদ্বীপ ঘিরে সাজো সাজো রব গঙ্গাসাগর  দ্বীপের মেলা ঘিরে ।দক্ষিন সুন্দরবনের বড় দ্বীপের  মধ্য সাগরদ্বীপ অন্যতম। প্রায়  পঞ্চাশ হাজার মানুষের বাস এই দ্বীপে।  রুটি রুজির দিকে তাকিয়ে থাকেন বছরের ছয়দিন মেলা ঘিরে এলাকার বাসিন্দারা।

এবারের সাগরমেলা সরকারি ভাবে ৯ তারিখ থেকে শুরু হবে । মকরের স্নান ১৪ তারিখ ভোরে । কুম্ভ মেলা না থাকায় বিগত বছরের তুলনায় তীর্থ যাত্রীদের সংখ্যা বাড়বে বলে মত সাধু সন্ততিদের। পাশাপাশি তারাপিঠ জয়দেবের মেলার থেকে বেশী তীর্থযাত্রী আনাগোনা বাড়বে । মেলার কাউনডাউন শুরু হতেই কপিল  মুনির দুধারে শতাধিক সাধুর ঢল নেমেছে । গঙ্গাঘাটে জমায়েত হয়েছে ভিক্ষুক আর সাধু সন্তিদের । মেলা চত্তরে জেলা প্রশাসনের তরফে কড়া নিরাপত্তার চাদড়ে মুড়ে ফেলা হয়েছে। কোথাও কেন্দ্রীয় বাহিনীদের টহল।  কোথাও আবার রাজ্য পুলিশের উর্দিধারি নিরাপত্তা রক্ষী ।


মেলা পূর্ব পশ্চিম সমুদ্রতট বরাবর নির্মান করা হচ্ছে হোগলা ঘর । মেলা প্রাঙ্গন ঘিরে ভ্যাপার লাইট । কোথাও আবার ত্রিফলা আলোয় সৌন্দার্য্য বাড়াতে  মুরে ফেলা হয়েছে।   গ্রিন ক্লিন গঙ্গাসাগর করতে সাগর গ্রাম পঞ্চায়েতের তরফে কর্মী নিয়োগ রয়েছে । একশ দিনের কর্মীদের দিয়ে মন্দির চত্তরে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা করা হচ্ছে । এছাড়া কচুবেড়িয়া বাসস্ট্যান থেকে সাগরদ্বীপ বাসস্ট্যান্ড সব জায়গাতে বাফার জোন করা হয়েছে তীর্থ যাত্রীদের জন্য ।এবারের গঙ্গাসাগর অভিনব প্রয়াস বাবুঘাট থেকে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত সিসিটিভি ক্যামেরা ।



স্নান ঘাটে এলসিডি টিভি থাকছে। এছাড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।   মেলা ঘিরে রাজ্য ও কেন্দ্রের বিভিন্ন দফতরের কাজের অগ্রগতি এখন তুঙ্গে।  রাত দিন করে কাজ সারতে ব্যস্ত বিভিন্ন দফতরের কর্মীরা। জন স্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের তোড়জোড় শুরু হয়েছে।  গঙ্গাসাগরের অভিশপ্তদিক মুড়িগঙ্গা।  পর্যপ্ত পরিমানে ভেসেল পরিষেবা থাকলেও নদীর চর পড়ে যাওয়ায় ভাটার সময় পারাপারের সমস্যা হবে মত তীর্থ যাত্রীদের । সে কারনে নামখানা বেনুবনের লঞ্চ পরিষেবা জোরদার করা হচ্ছে।  ইতিমধ্যে তীর্থ যাত্রীদের আনাগোনা বেড়েছে কপিল মুনির মন্দিরে । মকর স্নান ঘিরে উন্মাদনায় পারদ চড়ছে তীর্থযাত্রীদের তরফে ।




গঙ্গা সাগর মেলা নিয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলাশাসক একটি সাংবাদিক বৈঠক করলেন আলিপুরে। এবছর গঙ্গা সাগরের এবছরের বাজেট প্রায় সত্তর লক্ষ টাকারও বেশি। এবছর মেলার প্রায় এক গুচ্ছ নতুন ভূমিকা নিচ্ছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসকের পক্ষ থেকে। এবছর থাকছে নতুন ১৬ টি  স্যাটেলাইট ফোন । এই ফোনের কাজ ভূমিকম্পতে যদি কোনও নেটওয়ার্ক কাজ না করে, তাহলে  এই স্যাটেলাইট ফোনটি কাজ করবে। এছারা থাকছে ইন্টারনেট ব্যবস্থা অারও উন্নত হবে জানিয়েছে জেলাশাসক । পুরো মেলাটিতে থাকছে ৫০০ টি  সিসিটিভি ক্যামেরা অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা আটোসাটো। ও নজর দারির জন্য ৪৬ টি এলসিডি টিভিও থাকছে । এছাড়াও সরকারি  ১২৫৮ টি বাস থাকছে তীর্থযাত্রীদের যাওয়ার জন্য কচুবেরিয়া পয়েন্ট থেকে গঙ্গা সাগর পর্যন্ত।এবছর মেলা শুরু ৯ জানুযারি থেকে ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত ।  ও এবছর মকর সংক্রান্তি চান ১৪ জানুযারি।এবছরে মেলার করা নিরাপত্তা মোড়া থাকবে।গত বছর গঙ্গা সাগর মেলাতে প্রায় ১৫  লক্ষ লোক এসেছিলো এবছর মনে করে প্রায় ৩০ লক্ষ লোক আসবে বলে মনে করছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলাশাসক।
পাশাপাশি গঙ্গাসাগর মেলা নিয়ে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক বলেন, প্রেসক্লাবের প্রস্তাবনায় যে সব  সাংবাদিক গঙ্গাসাগর মেলায় থাকবেন তাদের সকলকে প্রেস লেখা জ্যাকেট দেওয়া হবে। 





এদের পরিচয় নিয়ে অনেক মোটা মাথার বিধর্মীরা বিভিন্ন গুজব রটাই। তাই কিছু বলার প্রয়োজন মনে করলাম। 
  এদের বাস্তবিক কাহিনী হার হিম করা। নাগা সাধু হিসেবে আমরা এদের জানি। দেবাদিদেব মহাদেবের উপাসনাকারী। হিমালয়, পাহারে তাঁবু করে থাকতে অভ্যস্থ। শীত বর্ষা এদের অদ্ভুত, মায়াবী আচরনে পিছপা হয়।
১২ বছর অন্তরীয় কূম্ভ মেলায় বিশাল সংখ্যাই এদের দেখা মেলে। দীর্ঘ ১২ বছর কঠোর ব্রহ্মচর্য পালনের পর নাগা উপাধি পেয়ে 'নাগাসাধু'র পূর্ণতা প্রাপ্তি হয়ে থাকে।
    এরা জীবিত কালেই নিজেই নিজের আত্মার পিণ্ডী দান করে মৃত্যুকে পরাজয় করে দেয়।
   কাম লোভ মোহ তাদের কাছে ত্যক্ত বিষয়। অপেক্ষা শুধু মহাদেবের এক নির্দেশের....সনাতন ধর্ম রক্ষার্থে নিজের জীবন দিতে এরা সদা প্রস্তুত। গো ছাড়া সব ধরনের খাবার এমনকি মনুষ্য মাংস সমান ভাবে প্রীয় খাবার।
     অস্ত্র হাতে এরা দূধর্ষ সেনা ও অপরাজেয়।


গঙ্গাসাগরে মকরস্নান ঘিরে তোড়জোড় 



দক্ষিন ২৪ পরগনা সব তীর্থ বার বার গঙ্গা সাগর একবার । প্রতিবছরের মতো এবছরো গঙ্গাসাগর মকরস্নান ঘিরে  তোরজোর শুরু হয়েছে।  জেলা প্রশাসন থেকে বিভিন্ন স্বেচ্ছা সেবি সংগঠনের তড়ফে প্রস্তূতি এখন তুঙ্গে। সাগরদ্বীপ ঘিরে স্বাজো স্বাজো রব গঙ্গাসাগর  দ্বীপের মেলা ঘিরে ।দক্ষিন সুন্দরবনের বড় দ্বীপের  মধ্য সাগরদ্বীপ অন্যতম। প্রায়  পঞ্চাশ হাজার মানুষের বাস এই দ্বীপে।  রুটি রুজির দিকে তাকিয়ে থাকেন বছরের ছদিন মেলাঘিরে এলাকার বাসিন্দারা।  

এবারের সাগরমেলা সরকারি ভাবে ৯ তারিখ থেকে শুরু হবে । মকরের স্নান ১৪ তারিখ ভোরে । কুম্ভ মেলা না থাকায় বিগত বছরের তুলনায় তীর্থ যাত্রীদের সংখ্যা বাড়বে বলে মত সাধু সন্ততিদের। পাশাপাশি  তারাপিঠ জয়দেবের মেলার থেকে বেশী তীর্থযাত্রী আনাগোনা বাড়বে । মেলার কাউনডাউন শুরু হতেই কপিল  মুনির দুধারে শতাধিক শাধুর ঢল নেমেছে । গঙ্গাঘাটে জমায়েত হয়েছে ভিক্ষুক আর সাধু সন্তিদের । 

মেলা চত্তরে জেলা প্রশাসনের তরফে কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে। কোথাও কেন্দ্রীয় বাহিনীদের টহল।  কোথাও আবার রাজ্য পুলিশের উর্দিধারি নিরাপত্তা রক্ষী । মেলা পূর্ব পশ্চিম সমুদ্রতট বরাবর নির্মান করা হচ্ছে হোগলা ঘর । মেলা প্রাঙ্গন ঘিরে ভ্যাপার লাইট । কোথাও আবার ত্রিফলা আলোয় সৌন্দার্য্য বাড়াতে  মুরে ফেলা হয়েছে।   গ্রিন ক্লিন গঙ্গাসাগর করতে সাগর গ্রাম পঞ্চায়েতের তরফে কর্মি নিয়োগ রয়েছে । একশ দিনের কর্মিদের দিয়ে মন্দির চত্তরে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নার ব্যবস্থা করা হচ্ছে । এছাড়া কচুবেড়িয়া বাসস্ট্যান থেকে সাগরদ্বীপ বাসস্ট্যান্ড সব জায়গাতে বাফার জোন করা হয়েছে তীর্থ যাত্রীদের জন্য ।এবারের গঙ্গাসাগর অভিনব প্রয়াস বাবুঘাট থেকে গঙ্গাসাগর প্রর্যন্ত সিসিটিভি ক্যামেরা ।স্নান ঘাটে এলসিডি টিভি থাকছে। এক্সট্রা নিরাপত্তাব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।   মেলা ঘিরে রাজ্য ও কেন্দ্রের বিভিন্ন দফতরের কাজের অগ্রগতি এখন তুঙ্গে। 

 রাত দিন করে কাজ সারতে ব্যস্ত বিভিন্ন দফতরের কর্মীরা । জন স্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের তরজর শুরু হয়েছে।  গঙ্গাসাগরের অভিশপ্তদিক মুড়িগঙ্গা।  পর্যপ্ত পরিমানে ভেসেল পরিসেবা থাকলেও নদীর চর পরে যাওয়া ভাটার সময় সমস্যা হবে মত তীর্থ যাত্রীদের । 

সেকারনে নামখানা বেনুবনের লঞ্চ পরিষেবা জোরদার করা হচ্ছে।  ইতি মধ্য তীর্থ যাত্রীদের আনাগোনা বেড়েছে কপিল মুনির মন্দিরে । মকর স্নান ঘিরে উদ্মদনায় পারদ চরছে তীর্থযাত্রীদের তরফে । ফলে জেলা প্রশাসন ব্যস্থাপনায় সব দিক দিয়ে ততপর।









জানুন গঙ্গাসাগর মেলার নিয়মাবলী! 

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্যোগে প্রতি বছরের মত এবছরেও গঙ্গাসাগর মেলা শুরু হয়েছে। এই পুণ্য স্নান করতে দেশ বিদেশ থেকে এসেছেন লক্ষ লক্ষ পুন্যার্থী ও পর্যটক। তাদের আতিথেয়তা ও নিরাপত্তার জন্য প্রডশাসন গ্রহণ করেছে প্রচুর পদক্ষেপ। আগন্তুকদের প্রতি কিছু বার্তা দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের তরফ থেকে যাতে কোনওভাবে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার সাক্ষী না হতে হয় তাদের।

করণীয়ঃ-

· উপস্থিত পুলিশ কর্মচারী ও স্বেচ্ছাসেবকদের নির্দেশ মেনে চলুন এবং এদের সাথে সহযোগিতা করুন।

· বয়স্ক মানুষ এবং শিশুদের প্রতি বিশেষভাবে খেয়াল রাখবেন। এদের সঙ্গে পরিচয়পত্র রাখলে ভালো হয়। তাতে এদের নিখোঁজ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।

· দল বেঁধে যে সকল তীর্থযাত্রীরা আসেন, তাদের দলের শিশু ও বয়স্ক মানুষদের সর্বদা নিজেদের সঙ্গে রাখুন, নতুবা ভিড়ের মধ্যে এদের নিখোঁজ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যদি কেউ নিখোঁজ হয়ে যান, তাহলে নিকটবর্তী পুলিশ সহায়তা কেন্দ্রে নিখোঁজ হওয়ার খবর জানান।

· এই যাত্রাপথে যাত্রীদের সড়ক অথবা রেল এবং জল পথে যাতায়াত করতে হয়। সুতরাং সহযাত্রীর সঙ্গে সর্বদা সতর্ক থাকবেন। কোনও অবস্থাতে আতঙ্কিত হবেন না, গুজব ছড়াবেন না বা গুজবে কান দেবেন না। এতে প্রচুর ভিড়ের মধ্যে ছোটাছুটিতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থাকে। সর্বদা প্রয়োজন মত উপস্থিত পুলিশ কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সাহায্য নিন।

· বৃষ্টিপাতের কারণে যাত্রীদের বিভিন্ন জায়গায় অপেক্ষা করতে হতে পারে। দয়া করে ধৈর্য ধরে উপস্থিত প্রশাসনিক কর্মীদের সহযোগিতা করুন।


করণীয় নয়ঃ-

· তীর্থ যাত্রার সময় দুর্ঘটনা এড়াতে দয়া করে তাড়াহুড়ো করবেন না। লঞ্চে ওঠা নামার সময় তাড়াহুড়ো বা দৌড়োদৌড়ি করবেন না। আপনার সামান্য ভুলে বহু লোকের প্রান সংশয় হতে পারে।

· ব্যারিকেড অথবা ড্রপ গেটগুলি বাঁশ ও কাঠের তৈরী, এগুলিতে চাপ দেওয়া বা টপকানোর চেষ্টা করবেন না। এগুলি ভেঙ্গে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

· মেলার মধ্যে দয়া করে আগুন জ্বালাবেন না। এতে বড় ধরনের অগ্নিকান্ডের সম্ভাবনা থাকে।

· কোনও অজানা লোকের কাছে জামা কাপড় বা অন্যান্য জিনিস রাখবেন না। এতে আপনার জিনিসপত্র চুরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

· কোনও অজানা লোকের দেওয়া খাদ্য অথবা পানীয় গ্রহণ করবেন না। এতে আপনার বিপদ হতে পারে।

· সমুদ্রে স্নানের সময় বেশী গভীরে যাবেন না, এতে প্রান সংশয় হতে পারে।

· কোনও অজানা অথবা পরিত্যক্ত বস্তু ছুঁয়ে দেখবেন না। এরকম কোনও কিছু দেখলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানান।










মকর সংক্রান্তিতে জমে উঠেছে কৃষ্ণপুরের মাছের মেলা

পলাশের বনে ফাল্গুনের  জোৎস্ননায় অশরীরিদের অবছায়া উপস্থিতির ঘ্রান নেওয়ার এখনো দেরী আছে কিছুটা ,এখন বাংলা জুড়ে মেরু বাতাসের শীতল দাপাদাপি আর সূর্যদেবের উত্তরে যাবার পালা I ঠিক এই সময় গ্রাম বাংলা ভেসে যেত হরেক রকম  মেলায়, নিজের অবসর  যাপনের  আনন্দে I বিভিন্ন রকম মেলা বসে সারা বাংলার কোনায় কোনায় ,কিন্তু আমার দেখা এক  ব্যতিক্রমী মেলার কথা বলবো আজ I প্রতি বছর পয়লা মাঘ আদিসপ্তগ্রামের কৃষ্ণপুর/কেষ্টপুর এ বসে একদিনের মাছের মেলা I

এই মাছের মেলা শুধু মেলা নয় এটা বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের মানুষের এক গুরুত্বপূর্ণ  মিলনক্ষেত্র I কিন্তু শুনতে কেমন যেন বেসুরো লাগে মাছের মেলায় বৈষ্ণব মিলন  ক্ষেত্র I এর ইতিহাস অন্য রকম I জানতে হলে ফিরে যেতে হবে ৫২১ বছর আগে তৎকালীন সপ্তগ্রাম বর্তমান আদিসপ্তগ্রামেI ওখানের জমিদার বাড়ির  ছেলে রঘুনাথ  দাস  ছিলেন মহাপ্রভুর অন্ধ ভক্ত I তাঁরই  প্রেরণায় রঘুনাথ দাস কৃষ্ণপুর এ কৃষ্ণমূর্তি প্রতিষ্ঠা করেন আর  ধর্মে মন দিয়ে তিনি ভেসে যান কৃষ্ণ সেবায়  I তাঁর নাম ছড়িয়ে পরে অঙ্গ -বঙ্গ-কলিঙ্গ সহ সমগ্র ভারতে I দলে দলে হাজির হয় ভক্ত কুল Iএইসময় রঘুনাথের ভক্তি পরীক্ষায় হাজির হন কিছু বৈষ্ণব মানুষ I তারা প্রবল শীতের এক সকালে রঘুনাথ দাসের কৃষ্ণপুরে এসে তার কাছে ইলিশ মাছ , আমের টক আর ভাত খেতে চান I সাধক রঘুনাথ দাস বুঝতে পারেন এটা তার পরীক্ষা I তিনি তার অলৌকিক  ক্ষমতা বলে নিজের পুকুর  থেকে তোলেন  ইলিশ মাছ আর বাড়ির বাগান থেকে আনেন সুমিষ্ট আমI সকল কে বসিয়ে খাওয়ান তার সাধন ভূমি কৃষ্ণ মন্দিরের সংলগ্ন মাঠে I দিনটাছিল পয়লা মাঘ ,সেই শুরু আজও এই অসময়ে  রঘুনাথ দাসের অলৌকিক ক্ষমতা মানুষ কে বিশেষত  বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের মানুষ কে পয়লা মাঘ টেনে  আনে কৃষ্ণপুরের মাছের মেলায়I
  
এবার আসি মাছের মেলায় মাছ প্রসঙ্গে I একদিকে রঘুনাথ দাসের আখড়ায় ভক্তি রসের  আস্বাদন  অন্যদিকে  মাছের আঁশটে গন্ধ গায়ে মেখে মেলায় মাছ খোঁজা I কি মাছ নেই সেখানে?? ভেটকি ,ভোলা,মাগুর ,কই,কালবোস,মৌরালা,ইলিশ ,আড় বাগড় , শঙ্কর,তোপসে,পাবদা,শাল,শোল,বোয়াল ,বান,আইলা ,রূপচাঁদা ,বাঁশপাতা , ফ্যাশা,কাচঁকি,কাজরী ,গুরজালি সহ আরো কত জানা অজানা  মাছ I মেলা থেকে মাছ কিনে বাড়ি আনতে পারেন আবার কেজি হিসাবে টাকার বিনিময়ে  ভাজিয়ে নিতে পারেন মেলা প্রাঙ্গণেI  অনেকেই সব সরঞ্জাম সঙ্গে এনে মেলার মাছ কিনে পাশের আম,কলা বাগানে চড়ুইভাতি করেন ওই দিনI 

পরিশেষে বলি এই মেলায় যাবেন কি ভাবে ? খুব ই সহজ ,হাওড়া -বর্ধমান  মেন্  লাইনের  অন্যতম স্টেশন আদিসপ্তগ্রাম I এখানে নেমে স্টেশন থেকেই পাবেন টোটো,অটো,রিকশাI তারাই আপনাকে নিয়ে যাবে কেষ্টপুরের মাছের মেলাযI যাঁরা দুচাকা বা গাড়ি তে যেতে চান তাদের জন্য তো দিল্লী রোড আর জিটি রোড রইলই I

 গুগল আদিসপ্তগ্রাম লিখে বেড়িয়ে পরুন বাকি ঠিকানা পথ ই বলে দেবে আপনাকে ......
ছবি: অভিষেক বিশ্বাস এর সৌজন্যে  






গঙ্গাসাগরে গোলামের কাঠ পেলে তবেই জ্বলে নাগা বাবাদের ধুনির আগুন


মৃন্ময় নস্কর, দক্ষিন ২৪  পরগনা: সারা দেশ জুড়ে যখন মাথাচাড়া দিচ্ছে সাম্প্রদায়িক বিভেদ।ধর্মীয় বিভেদের কারনে ছড়াচ্ছে হিংসা। অথচ সেই বিভেদের মাঝে দেখা গেল এক অন্য মিলন।যা সাগর মেলাকে  করলো আরও গৌরবন্বিত।হিন্দু নাগা সাধুদের ধুনির কাঠ সরবরাহ করেন মুসলিম বৃদ্ধ।এক আধ বছর নয় প্রায় ৬০ বছর যাবৎ তিনিই সরবরাহ করে চলেছেন এই কাঠ।কাঠ সরবরাহ কারি ওই বৃদ্ধের নাম মহম্মদ গোলাম রসুল।
  কাশ্মীর থেকে কন্যকুমারী সমস্ত জায়গার মানুষ আসেন গঙ্গা সাগরে।গঙ্গার পবিত্রতাকে গায়ে মেখে ফিরে যান তারা । ভারতবর্ষের তীর্থগুলি মানুষের উদারতা প্রেরনায় সঞ্জীবনী শক্তি দান করেছে। ধর্ম ভেদাভেদ ভুলে এই তীর্থক্ষেত্রে মানুষ ভ্রাতৃ প্রেমে অপার আনন্দ লাভ করে।আর যা মহাস্নানের আগে দেখা গেল কপিল মুনি মন্দিরের লাগোয়া আখড়া গুলি তে।সাগরের মন্দিরের অদুরে থাকেন গোলাম রসুল।প্রতি বছরের মত এবছর ও কাঠ সরবররাহ করছেন তিনি।সঙ্গে বছর দশেকের নাতি।সেই নাতির মাথায় কাঠের বোঝা চাপিয়ে নিয়ে এসেছেন কাঠ। কাকভোরে সেই কাঠ বিলি করেছেন নাগা সাধুদের। বিনিময়ে যে যা দেন তা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকেন তিনি। নেই কোনো দরদাম নেই কোনোও দরাদরি। এ বিষয়ে কাঠ সরবরাহ কারী গোলাম রসুল বলেন, "দশ বছর বয়স থেকে আমি বাবার হাত ধরে কাঠ সরবরাহ করতে আসতাম, আজ ও আসি। মাস চারেক আগে থেকে পাড়া থেকে  কাঠ কিনে শুকিয়ে রাখি এই মেলার জন্য। আর তা দিয়ে নাগা বাবা দের ধুনি জ্বালানো হয়।এর বিনিময় যে যা দেয় তা নিয়েই সন্তুষ্টি থাকি।"


ঠান্ডায় খালি গায়ে থাকা নাগা সাধুদের কাছে ধুনির কাঠ হল অন্যতম উপকরণ। ভাল বাছাই করা শুকনো কাঠ না হলে সমস্যা দেখা দেবে আগুন জ্বালাতে। কাঠ কাঁচা হলে ধোঁয়া হবে।তৈরি হবে না ছাই ভস্ম। তাই নাগা সাধুদের আখড়ায় কাঠ একটি অন্যতম উপকরণ। যা সরবরাহ করেন গোলাম রসুল। এবিষয় মহন্ত নাগা বাবা মঙ্গল গিরি বলেন,আমদের কাছে ধর্মের কোন ও ভেদাভেদ নেই । এটা হিন্দু পরম্পরা । ভারতের পরম্পরা।কিছু মানুষ রাজনীতির স্বার্থে মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ করেন।আমদের মধ্যে কোনো ও ভেদাভেদ নেই।মেলা মানে  মানুষের মিলন। যা মানে না কোনো বিভেদ, কোনো ও ধর্মীয় বেড়াজাল তা প্রমান করলো আরও একবার।এই সাগর মেলায়।




পূণ্যস্নানে জন সমুদ্রে ভাসল গঙ্গাসাগর 


মৃন্ময় নস্কর,দক্ষিণ ২৪ পরগনা:পূণ্যস্নানে জন সমুদ্রে ভাসলো সাগর।জন সমাগম প্রায় কুড়ি লক্ষ।ধীরে ধীরে জড় হতে থাকা জনতা বাঁধ ভেঙে ঝাঁপিয়ে পড়ল সাগরের জলে।লক্ষ লক্ষ মাথার ভীড়ে মুখ লুকালো বালি।পিছু হটলো শীতের কামড়।সংক্রান্তির পূন্য স্নানের চেনা ছবিটা রবিবার  ভোরেই ফিরে এল সাগর তটে।কপালে তিলক কেটে ত্রিশূল জ্বলজ্বল চোখে কপিল মুনি ফের একবার তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করলেন কুম্ভ বা অর্ধকুম্ভ না থাকলেও গঙ্গাসাগর আছে গঙ্গাসাগরেই।

        বছরের শুরু থেকে জাঁকিয়ে ঠান্ডা পড়তে শুরু করেছে এ রাজ্যে।যা বহাল আছে মকর সংক্রান্তি পর্যন্ত।হাড়হিম করা ঠান্ডা।তার উপরি পাওনা উত্তুরে ঠান্ডা হাওয়া।কুয়াশা কেটে বেড়ে ওঠা ঝাপসা রোদ টুকু নিজের তেজে নিজেই গরম হতে পারছে না।তারই মধ্যে অগ্রভাগে নাগা আর পিছনে সাধারণ পুন্যার্থীর দল মোক্ষ লাভের আকুলতায় দাঁতের কাঁপুনি আর হাঁটুর ঠকঠকানি কে আস্কারা না দিয়ে সটান জলে।
  সাগরমেলা এখন অনেক পরিস্কার। নেই নোংরা আবর্জনা। পরিস্কার আর নির্মল স্থানে সামিল আসমুদ্র হিমাচল।গোড়ালি ডোবা জল থেকে কোমর জল পর্যন্ত নানা বয়সী ছেলে মেয়ে নিড়ানি হাতে সাদা বালির মধ্যে পয়সা খুঁজে বেড়াচ্ছে।গরুর  লেজ ধরে  চলছে স্বর্গে যাওয়ার কাজ। অন্যদিকে শুয়ে, বসে, ভেসে,এমন কি শীর্ষাসনে ও চলছে সূর্য প্রনাম।আর এ সবের জন্য যথেষ্ট নিরাপত্তা ব্যাবস্থা করা হয়েছে। এলাকাজুড়ে জেলা প্রশাষনের তরফে করা হয়েছে আঁটো সাঁটো নিরাপত্তা ব্যাবস্থা।কোস্টগার্ড ও জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দল টহল দিচ্ছে একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে।লঞ্চ, হোভার ক্রাপ্ট ও হেলিকপ্টার টহল দিচ্ছে সর্বত্র।মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে মন্ত্রী সুব্রত মুখার্জী মেলায় দায়িত্ব নিয়ে আছেন সপ্তাহ খানেক আগে থেকে।সঙ্গে আছেন একাধিক মন্ত্রী।মেলা প্রাঙ্গন থেকে কচুবেড়িয়া সর্বত্র দায়িত্ব নিয়েছেন বিভিন্ন দফতরের মন্ত্রী। তবে মুখ্যমন্ত্রীর সাথে মেলা নিয়ে সব সময় যোগাযোগ রক্ষা করছেন সুব্রত বাবু।মেলা কে কেন্দ্র করে তেমন কোন বড় ঘটনার খবর নেই এদিন পর্যন্ত।তবে ঠান্ডাও প্রবল ভীড়ের চাপে কয়েক জন অসুস্থতা বোধ করায় সাগর অস্থায়ী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে চিকিৎসার জন্য।বর্তমানে  সকলেই সেখানেই চিকিৎসাধীন। 

  রবিবার রাত থেকে পুণ্য স্নান শুরু হলেও চলবে সোমবার ভোর পর্যন্ত।আনুষ্ঠানিক ভাবে ৮ ই জানুয়ারি মেলা শুরু হতেই বেড়ে চলেছে সাধু সন্তদের ভীড়।যার পরিপূর্ণ মাত্রা পেয়েছে মকরসংক্রান্তির ভোরে।ইতিমধ্যে বহু মানুষ কপিলমুনি মন্দিরে পূজা দিয়ে ফিরেও গেছেন।রাস্তায়  এখন ও আছেন বহু মানুষ।এবিষয় মন্ত্রী সুব্রত মুখার্জী বলেন,প্রায় কুড়ি লক্ষ মানুষ মেলায় এসেছেন এবার যা বিগত সব রেকর্ড কে ভেঙ্গে দিয়েছে।আগামী দুই এক দিন আরো ও এই ভীড় থাকবে।তাই প্রশাসনকে বিভিন্ন জায়গায় নজর রাখতে বলা হয়েছে।











            
গঙ্গাসাগরের মেলা কিভাবে শেষ হল? 

গঙ্গাসাগর মকরসংক্রান্তির  মেলা শেষ ।  এবার পূর্নাথীদের বাড়ি ফেরার পালা । এবছর  ত্রিশ লক্ষ্য পূর্নাথীদের সমাগমে।  এখন মেলা প্রঙ্গনে বিশাধের শূর । মেলার  ছয়টি দিন সমাগমে ভরপুর হয়ে উঠেছিল কপিলমুনির মন্দিরের চারিপাশ ।সোমবার সুনশান সাগরপার । ঘাটগুলিতে বাতাসের গুনগুন শব্দ ছাড়া কিছু নেই। মেলা প্রাঙ্গনে অস্থায়ী হল ঘর ভাঙা পূর্নাথীদের  হাড়ি কলসির টুকরো ছাড়া ছিটে ফোটা কিছুই নেই।দল বেঁধে সমাগমের পর আবার একটা বছরের অপেক্ষা মাহেন্দ্রোক্ষনে স্নানের । শুধু পূর্নাথীরা নন বাড়ি ফেরার পালা সরকারি বিভিন্ন দফতরের কর্মীদের। সাধু সন্ততী থেকে ব্যবসাহীদের ।  কিছুটা হলেও মন খারাপ  অনেকের ।  অনেকের ধারনা বছরে সব কটিদিন যদি এমন থাকতো জমজমাট মেলা। মকর স্নানের পরের দিন সাই স্নান।  সেই স্নান দিয়ে দক্ষিন সুন্দরবনের সাগরদ্বীপে শুরু ভাঙা মেলা ।  দ্বীপের লক্ষাধিক মানুষেরা ভাঙা মেলাকে আনন্দমুখর করে তোলেন ।  প্রায় পঁচিশ দিন ধরে চলে ভাঙা মেলা । আত্মীয় সমাগমে মেতে ওঠেন সাগরবাসিরা । ক্রয় বিক্রয়ে ভরপুর হয়ে ওঠেন অনেকে । গঙ্গাসাগর মেলা কটাদিন  উপার্জনের তাগিদে আনন্দ করতে পারেন না জেলেপাড়া ,কালিবাজার , ধবলাট এলাকার বাসিন্দারা । দুধের  স্বাদ ঘোলে  মেটাতে ভাঙা মেলাতে আনন্দ করেন দ্বীপবাসি । আবারো একটা বছরের দিকে তাকিয়ে থাকা।  পূর্নাথীদের কপিল মুনির মন্দিরে সমাগমের অপেক্ষায় । 


No comments:

Post a Comment

Post Top Ad