দুই বাংলার পরিবেশ দূষণ রোধ করতে যাদবপুরের অভিনব উদ্যোগ - Breaking Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Monday, 29 January 2018

দুই বাংলার পরিবেশ দূষণ রোধ করতে যাদবপুরের অভিনব উদ্যোগ



পায়েল দেব, কলকাতা:  পরিবেশ  বায়ু দূষণমুক্ত করবে এমনই এক উদ্যোগ নিল কলকাতা সাইকেল সমাজের সচেতনরা।এই উদ্যোগে শুধু কলকাতাবাসীই নয়, উদ্যোগে যুক্ত হল ভিন দেশবাসীরাও। উদ্যেগটি হল সাইকেল র্যালি। সম্প্রতি এদেশ ও বাইরের দেশে যানবাহনের সংখ্যা অনেক হারে বেড়ে গেছে। কমপক্ষে মোটরবাইক তো প্রতিটি ঘরে ঘরে। যার কারণে বায়ুদূষণের পরিমাণও অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়াও গাড়ির হর্ণে শব্দদূষণ তো রয়েছেই। যার কারণে মানুষের আয়ু কমে আসছে। শ্রবণ শক্তি লোপ পাচ্ছে, ও বিভিন্ন ধরনের রোগ ছড়িয়ে পড়ছে শরীরে। আর এই দূষণ তথা রোগের প্রতিবাদ করতে এগিয়ে এসেছে কলকাতা সাইকেল সমাজ। তারা সাইকেল নিয়ে র্যালি করে রবিবার প্রায় ৪০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেছে। সকাল ৮টা নাগাদ থেকে তাদের যাত্রা শুরু করেছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ নম্বর গেট থেকে প্রথমে সুকান্ত সেতু, ইএম বাইপাস, বেলেঘাটা, শিয়ালদহ-মৌলালি হয়ে ধর্মতলা, পার্কস্ট্রিট, নন্দন চত্বর, হাজরা মোড়, গড়িয়াহাট, গোলপার্ক হয়ে ফের যাদবপুরে। তবে এই র্যালিতে শুধুমাত্র ভারতীয়রাই নয়, র্যালিতে অংশগ্রহণ করেছিল বাংলাদেশীরাও।  ২০০ জন লোক ও মহিলা সহ সাইকেল নিয়ে এই র্যালি করেছিল কলকাতা সাইকেল সমাজের সচেতনরা। তাদের দাবী, দিনের পর দিন ধরে পরিবহণ সংখ্যা বেড়েই চলেছে যার কারণে সাইকেলের হার অনেকটাই কমে গেছে, এমনকি বড় বড় রাস্তার সিগন্যালে এখন সাইকেল দাঁড় করানোও নিষেধ করা হয়েছে,এমনকি দাঁড়িয়ে থাকলে ১০০ টাকা জরিমানাও নেওয়া হয়। যা একদমই ঠিক নয় বলে তাদের ধারণা। পাশাপাশি গাড়ির সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনাও ক্রমশ বেড়ে চলেছে। প্রচুর সাধারণ পথচারী সহ আরোহীদের মৃত্যু হচ্ছে। যা দমন করা উচিত এবং সাইকেলের ব্যবহার আগের মতন করা উচিত।

এ প্রসঙ্গে আয়োজক বাপ্পাদিত্য গাঙ্গুলী বলেন, আজকের এই সাইকেল র্যালি মূলত করা হয়েছে যারা সাইকেল নিয়ে নিয়মিত কর্মস্থলে, স্কুল কলেজে, অফিস, আদালত ও বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করছে তাদের কাছ থেকে সিগন্যালে জরিমানা নিচ্ছেন ট্রাফিক পুলিশরা।এছাড়াও সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ এর শ্লোগানের পাশাপাশি রাজ্য সরকার যেন সাইকেল আরোহীদেরও জীবন বাঁচানোর দায়িত্ব নেন।তাদের জন্য যেন বাইপাসের ধারে ও গোটা কলকাতা শহরে আলাদা রাস্তা করে দেওয়া হয় তাতে দুর্ঘটনার সংখ্যাও কমবে। তার দাবী, বাইক আরোহীদের যেমন হেলমেট না পড়লে জরিমানা নেওয়া হয় তেমনি রাজ্য সরকার যেন সাইকেল আরোহীদের জন্য আলাদা নিয়ম তৈরি করেন, যদি সেই নিয়ম লঙ্ঘন করে তাহলে তাদের থেকে যেন জরিমানা নেওয়া হয়। তিনি বলেন, সাইকেল র্যালির এই উদ্যোগ তাদের আজকের না বহু বছরের তারা প্রত্যেক বছরই এই র্যালি করেন। প্রথমে কয়েকজন মিলে শুরু করলেও পরে কয়েকশো মানুষ জড়ো হয়েছে তাদের সঙ্গে। তাদের দাবী, রাজ্য সরকার যেন সাইকেলের চাহিদা আগের মত আবার ফিরিয়ে আনে। ফলে ছোট রাস্তায় একসঙ্গে অনেক সাইকেল দাড়িয়ে থাকলেও কোনও অসুবিধা হবে না। যেখানে প্রাণহানির কোনো আশঙ্কাও থাকবে না।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad