পায়েল দেব, কলকাতা: ক্যামেরার সামনে সবাই হিরো। তবে যখন এই ক্যামেরার সামনেই অপ্রস্তুতে পড়তে হয় তখন ক্যামেরা ঢাকতে হয় হাত দিয়ে বা পাশে থাকা সামগ্রী দিয়ে। তবে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপির জেলা নেতা হয়ে যে এমনই এক কঠিন প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে তা জানা ছিল নেতাদের নিজেরই।
তবে প্রশ্নটা খুব একটা যে কঠিন, তাও নয়! প্রশ্ন হল: প্রজাতন্ত্র দিবস কি? কততম দিবস?
এই উত্তরই দিতে পারল না অধিকাংশ নেতারা। কেউ বলছে গণতান্ত্রিক তাই আবার কেউ ধন্দে পড়ে যাচ্ছে, আবার বলছে এসব প্রশ্নের উত্তর জানা নেই। হাসির মধ্যে দিয়ে উড়িয়ে দিচ্ছেন প্রশ্নটাকে। প্রজাতন্ত্র দিবস এখন তাদের হাস্যরসের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ তারাই দেশের একজন।
দেশ ভক্তি ও জাতীয়তাবাদে বিজেপির জুড়ি মেলা ভার। অথচ সেই বিজেপি নেতারাই জানেন না। প্রজাতন্ত্র দিবস সম্পর্কে। আর কত তম প্রজাতন্ত্র পালিত হচ্ছে এবার তা বলতে গিয়ে চোখ উঠল কপাঁল ছুঁয়ে আকাশে। ভাবুন তো কি অবস্থা।
এরাজ্যের রাজনীতি করা একাংশের কাছে আমরা গিয়েছিলাম। শাসক তৃণমূলের নেতারা তো বলতেই চাইলেন না। প্রশ্ন শুনে তাদের হুঁশিয়ারি , এসব করতে যেও না। ভালো হবে না। আর বিজেপি নেতারা কয়েকজন রাজি হলেন বলতে, হুগলি জেলার দুই নেতা প্রজাতন্ত্র দিবস সম্পর্কে বলতে গিয়ে সাংবাদিককে বললেন, বলে দিলে তবেই বলতে পারব।
আরেক নেতা কত তম বলতে গিয়ে চোখ আকাশে তুলে চিন্তা করতে শুরু করলেন। শেষে বললেন ৭৮তম। বুঝুন ঠ্যালা। দেশ ভক্ত বিজেপি আর সর্বগুন সম্পন্ন শাসক তৃণমূল নেতাদের দেশ সম্পর্কে জ্ঞানের ঠোঙা কেমন!
সুরেশ সাউ বিজেপির হুগলি সাংগঠনিক জেলার সম্পাদক। তিনি প্রজাতন্ত্র দিবস নিয়া যা বললেন।
সুবীর নাগ। উনি বিজেপির হুগলি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি। কত তম প্রজাতন্ত্র দিবস। এই প্রশ্নের উত্তরে উনি যা বললেন।
আজ শুক্রবার ৬৯ তম প্রজাতন্ত্র দিবস। দেশের সংবিধানে আজকের দিনটি মেনে দেশজুড়ে শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের বন্যা বয়ে চলে। দেশের উদ্দেশ্যে প্যারেড, কুচকাওয়াজ থেকে শুরু করে দেশের ফ্ল্যাগ উত্তোলন ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করা হয়ে থাকে। এছাড়াও ১০ আশিয়ান নেতা আসবে আজকের দিন ভারতীয় প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপন করতে। দর্শক হিসেবে আসছে ব্রিটিশরা।এককথায় রাজনৈতিক মহলের উপরতলার লোক, সেলিব্রিটিদের নিয়ে চাঁদের হাট বসে ভারতবর্ষে।
তবে দেশের অধিকাংশ তরুণ প্রজন্মই জানে না কি প্রজাতন্ত্র দিবস। ঠিক তারপরে জেনারেশন যারা দেশ চালানোর অঙ্গীকার করছেন তাদেরকেও এখন দেখা যাচ্ছে জানে কি প্রজাতন্ত্র দিবস!? এমন ছবিই দেখা গিয়েছে ব্রেকিংবাংলার এক প্রতিনিধির ক্যামেরায়।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার প্রজাতন্ত্র দিবস কংগ্রেস ও সেনার জন্য ! চমকে ওঠা উত্তর শুনুন পদ্মাবতে মজে থাকা তরুন সমাজের।
প্রজাতন্ত্র দিবস অনুষ্ঠান দেখার জন্য আগ্রহ দেখান বহু বিদেশি। ৬৯ তম প্রজাতন্ত্র দিবস দেখতে উপস্থিত থাকবেন দশ আসিয়ান নেতা। ৫০ সাল থেকে প্রজাতন্ত্র দিবস পালনের মঞ্চ থেকে কূটনৈতিক সম্পর্ক মজবুত করার চেষ্টা করে আসছে ভারত সরকার।
পদ্মাবত সিনেমা দেখতে গিয়ে খানিকটা অপ্রস্তুতের মধ্যে পড়তে হল দেশের তরুণ সমাজের। পদ্মাবত দেখে বেরিয়ে কেমন লেগেছে বললে বলতে পারছে না শুক্রবার কি দিবস? বলতে পারছে না আগামীকাল কিসের জন্য প্রজাতন্ত্র দিবস? কি হয়েছিল? বা কত তম দিবস?
সিনেমা দেখতে হলে গেলে সেখানে থাকা দর্শকদের প্রথমে পদ্মাবত কেমন হয়েছে জানতে চাওয়া হওয়ার পর শুক্রবার কি দিন তা জানতে চাওয়া হলে একাংশ বলতে পারে না তারা। আবার কেউ কেউ বলে প্রজাতন্ত্র দিবস। তবে প্রজাতন্ত্র দিবস কি তা সঠিক কেউ বলতে পারেনি। কেউ মুখ ঢেকে ফেলে আবার কেউ বলে সৈনিকদের দিন। এমনকি কততম প্রজাতন্ত্র দিবস তাও সঠিক কেউ বলতে পারছে না। এমনটাই বলতে দেখা গেল কলকাতার নামী দামী সিনেমা হলগুলির সামনে থাকা দর্শকদের।
আবার প্রজাতন্ত্র দিবস কি তা ব্যাখ্যা করতে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ তুলে ইয়ং জেনারেশনের ছেলে মেয়েরা বলে, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর জন্য প্রজাতন্ত্র দিবস পালিত হয়! কেউ বললেন জানেন না। কেউ বললেন প্রজাতন্ত্র দিবস কংগ্রেস পালন করতো। পরে স্বাধীনতা দিবস পালন হয়। প্রজাতন্ত্র আসলে কংগ্রেসেরই। যদিও বেশ কয়েক জন প্রজাতন্ত্র দিবস সম্পর্কে বলতে পারলেন। পদ্মাবত সিনেমা দেখতে আসা তরুণ প্রজন্ম এমন দাবি করলেন।
এমবিএ, ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে বিজ্ঞান , বানিজ্য ও কলা বিভাগের পড়ুয়ারা পদ্মাবত দেখতে এসে প্রজাতন্ত্র দিবস সম্পর্কে প্রশ্নের চমকে ওঠা উত্তর দিলেন।

No comments:
Post a Comment