প্রাকৃতিক চুল্লিতে চড়ুইভাতি কিভাবে হচ্ছে! জানলে অবাক হবেন - Breaking Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Tuesday, 16 January 2018

প্রাকৃতিক চুল্লিতে চড়ুইভাতি কিভাবে হচ্ছে! জানলে অবাক হবেন

জয়ন্ত সাহা, আসানসোল ১৬ জানুয়ারি :  অসম্ভব মনে হলেও এটাই সত্যি৷ চড়ুইভাতি অথবা আপনার নিত্যনৈমিত্তিক রান্নার জন্যে আর কোনো জ্বালানির প্রয়োজন নেই৷ আসানসোল পুরসভার অন্তর্গত ৯৪নং ওয়ার্ড তথা ধেনুয়া এয়ারস্ট্রীপ সংলগ্ন দামোদরের তীরে উকড়াকুড়ি ঘাটে পৌঁছালে এমনই দৃশ্যের সম্মুখিন হবেন আপনি৷

প্রকৃতি নিজেই যেন আপনার জন্যে থরে থরে সাজিয়ে রেখেছে প্রাকৃতিক চুল্লি৷ পিকনিক এর সিজিনে উপস্থিত হলে দেখবেন প্রায় হাফ কিলোমিটার বা এক কিলোমিটার জায়গা জুড়ে নদীর তীরে বিভিন্ন স্থান থেকে পিকনিক করতে আসা দল তাদের রান্না সেরে ফেলছে এই প্রাকৃতিক চুল্লি গুলিতে৷ তাদের সঙ্গে কোনো জ্বালানি আনার প্রয়োজন হয়না৷ একমাত্র বর্ষাকাল ছাড়া অথবা নদীতে জলস্ফীতির ঘটনা ছাড়া এই প্রাকৃতিক চুল্লিগুলি আগুন বেড় করতে থাকে৷ ফলে আসে পাশের গ্রামবাসীরা বা দূরদুরান্ত থেকে আসা ভ্রমণপিপাসু মানুষ জ্যোৎস্না রাতের মাতাল সমীরণে অথবা শীতের আমেজের ধুপ-ছায়া রোদে পিঠ দিয়ে অনায়াসে তাদের রান্না সেরে ফেলেন৷

ভ্রমণপিপাসু মনের কাছে যা এক অন্যরকমের প্রাপ্তি৷ আসলে দামোদর তীরবর্তী এই অঞ্চলে ভূগর্ভের তলায় রয়েছে কোল বেসড মিথেন গ্যাসের সম্ভার৷ যা উত্তোলন করতে জিইসিএল এর আওতায় বেস কিছু সিবিএম প্রোজেক্ট ও গড়ে তোলা হয়েছে আসে পাশে৷ তবে নদী বুকে বা তীরবর্তী অঞ্চল গুলি নাব্য হওয়ায় ভূগর্ভের ছিদ্র দিয়ে বেরিয়ে আসা মিথেন গ্যাস বাতাসের সংস্পর্শে এসে আগুন ধরে বেস কিছু প্রাকৃতিক চুল্লি তৈরী করে ফেলেছে৷ কোথাও কোথাও প্রয়োজনের খাতিরে পর্যটনকারীরা নিজেদের ইচ্ছে মত দু-একটি বানিয়ে কাজ সেরে বালি চাপাও দিয়েছে৷ নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক পরিবেশে এই প্রাকৃতিক চুল্লি ক্রমশই জনপ্রিয় হয়ে পড়ায় স্থানীয়রা দাবি তুলেছে পুরসভা বা সরকার এই অঞ্চলটিকে পরিকল্পনা মাফিক পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তুলুক৷ না হলে অচীরেই বিষয়টি ভুল ব্যবহারে গুরুত্ত্ব হারাবে৷

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad