প্রজাতন্ত্র দিবস হোক বা স্বাধীনতা দিবস এমনকি স্বাধীনতা
সংগ্রামী নেতাজী সুভাস চন্দ্র বসুর জন্মদিন পালনের সময় জাতীয় পতাকা উল্টো করে
উত্তোলন করা দস্তুর হয়ে দাঁড়িয়েছে।প্রজাতন্ত্রের ঊনসত্তর বছরে এসেও আমরা অনেকেই
জাতীয় পতাকা সঠিক করে উত্তোলন করা বা বাঁধতে শিখতে পারলাম না।কতিপয় মানুষ স্রেফ অসর্তকতার
কারণে এই ভূলটি করে থাকেন।প্রজাতন্ত্র দিবসের তিন দিন আগে এই ভূলের ছবি প্রকাশ্যে
এলো।শুক্রবার প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন ভারতীয়রা কি একটি ভালো অক্ষত জাতীয় পতাকা
সঠিক ভাবে বেঁধে উত্তোলন করতে পারবে ? প্রশ্নটি তুলে
দিল মঙ্গলবারের ঘটনা।
প্রসঙ্গত , নেতাজির জন্মদিনে জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগ উঠেছে
খোদ সরকারি দপ্তরের বিরুদ্ধে।কাণ্ডজ্ঞানহীন ভাবে সরকারি অফিসে ছেড়া জাতীয় পতাকা
উত্তোলনকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়ায় নদিয়ার করিমপুরে।সূত্রের খবর,23 জানুয়ারী
নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর জন্ম দিনে করিমপুরে রেভিনিউ অফিসে মঙ্গলবার সকালে জাতীয়
পতাকা উত্তোলন করেন অফিসের কর্মীরা।অভিযোগ,পতাকা উত্তোলনের
সময়ই পতাকার বেশ কিছুটা অংশ ছিড়ে যায়।অভিযোগ,সেটি দেখার পরও
পতাকা বদল না করেই ওই ভাবেই ছেড়া পতাকা রেখে চলে যান অফিসের কর্মীরা।অভিযোগ,স্থানীয় মানুষ এর
প্রতিবাদ করলেও তাতে কোনও কর্ণপাত করেননি ওই দপ্তরের কর্মীরা।উল্টে 26 তারিখ পতাকা
পাল্টে ফেলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এলাকা ছাড়েন তারা।এই ঘটনায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে
ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।জাতীয় পতাকা অবমাননা হয়েছে বলে ওই অফিসের কর্মীদের বিরুদ্ধে
ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
গর্বের জাতীয় পতাকার
সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
১৯০৬-এর
৭ অগস্ট কলকাতার পার্সিবাগান এলাকায় বঙ্গভঙ্গ বিরোধী এক সভায় প্রথম ত্রিবর্ণরঞ্জিত পতাকা উত্তোলিত হয়। এই পতাকায় উপরে, মধ্যে ও নিচে যথাক্রমে সবুজ, হলুদ ও কমলা-এই তিনটি রঙ ছিল। উপরের
সবুজ রঙের অংশে ছিল আটটি
অর্ধ-প্রস্ফুটিত পদ্ম এবং নিচের ডোরায় সূর্য ও অর্ধচন্দ্র অঙ্কিত ছিল। মাঝে দেবনাগরী হরফে লিখিত ছিল
"বন্দে মাতরম"। ১৯০৪ সালে স্বামী বিবেকানন্দের আইরিশ শিষ্যা ভগিনী
নিবেদিতা ভারতের প্রথম জাতীয় পতাকার রূপদান করেন।পরের বছর ১৯০৭ সালে মাদাম ভিখাজি কামা প্যারিসে অন্য একটি ত্রিবর্ণরঞ্জিত পতাকা উত্তোলন করেন। এই পতাকার উপরে
ছিল গেরুয়া রঙ। মাঝে হলুদ ও নিচে সবুজ রং। মধ্যের ডোরায় দেবনাগরী হরফে "বন্দে মাতরম" কথাটি
লিখিত ছিল। ভিখাজি কামা
ও তাঁর সহযোগীরা এই পতাকা উত্তোলন করেছিলেন। অনেকের মতেই প্রথম পতাকাটির সঙ্গে দ্বিতীয়টির অনেক মিল
ছিল।১৯২১-এ গেরুয়া ও লাল রঙের পতাকাকে আনুষ্ঠানিকভাবে মান্যতা দেওয়া হয়েছিল। এই পতাকার গেরুয়া ও লাল রঙের মাঝে ছিল
একটি বড় চক্র। কংগ্রেসের বেজওয়াড়া অধিবেশনে এই পতাকা প্রদর্শিত হয়। অন্ধ্রপ্রদেশের এক যুবক পিঙ্গলী
বেঙ্কাইয়া একটি পতাকা তৈরি করে গাঁধীজীকে
দিয়েছিলেন। এই পতাকা দুটি রঙের ছিল। লাল ও গৈরিক রঙ-দেশের দুটি প্রধান সম্প্রদায়-
হিন্দু ও মুসলমান ধর্মের প্রতীক দেশের প্রান্তিক সম্প্রদায়ের প্রতীক হিসেবে পতাকায় সাদা রঙ এবং দেশের অগ্রগতির প্রতীক হিসেবে একটি চরখা
রাখার পরামর্শ দিয়েছিলেন গাঁধীজী।১৯৩১ ভারতের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ
সন্ধিক্ষণ। ওই বছর করাচিতে কংগ্রেসের অধিবেশনে ত্রিবর্ণরঞ্জিত পতাকাকে জাতীয় পতাকা হিসেবে
অনুমোদন করার জন্য একটি প্রস্তাব বেশ করা হয়।
এবং এই পতাকাই জাতীয় পতাকা হিসেবে স্বীকৃত হয়। এই পতাকার উপরে ছিল গেরুয়া, মাঝে সাদা এবং চরকা এবং নিচে সবুজ রঙ। এই সময় সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, এর কোনও সাম্প্রদায়িক গুরুত্ব থাকবে না। গেরুয়া ত্যাগ; সাদা সত্য ও শান্তি এবং সবুজ বিশ্বাস ও
প্রগতির প্রতীক
তথা চরকা ভারতের
অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন ও দেশবাসীর শ্রমশীলতার প্রতীক হিসেবে গৃহীত হয়।১৯৪৭-এর ২২ জুলাই
সংবিধান সভা বর্তমান জাতীয় পতাকা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি লাভ করে। শুধু চরকার জায়গায় সারনাথ
স্তম্ভ থেকে অশোকের ধর্মচক্র-টি গৃহীত হয় পতাকায়। ১৯৪৭ সালের ১৫ অগস্ট স্বাধীন ভারতে প্রথমবার এই পতাকাটি উত্তোলিত হয়। (সূত্র-উইকিপিডিয়া)

No comments:
Post a Comment