মৃন্ময় নস্কর,দক্ষিণ ২৪ পরগণাঃ বাল্যবিবাহ রুখতে আরও একধাপ এগিয়ে এক অভিনব পন্থা নিল মথুরাপুরের কৃষ্ণচন্দ্রপুর হাইস্কুল৷ নাবালিকা ছাত্রীদের যাতে কম বয়সে বিয়ে দেওয়া না হয়, তারজন্য স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে একপ্রকার মুচলেকা দিতে হচেছ ছাত্রী ও তাদের অভিভাবকদের৷ এই অঙ্গীকারের পরও যদি অভিভাবকরা কখনও তাদের নাবালিকা মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে, তা জানতে পারলে ওই অঙ্গীকারপত্রকে হাতিয়ার করে পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে সেই বিয়ে রোখার পাশাপাশি অভিভাবকের বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা নেবে স্কুল৷ তবে স্কুলের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন থেকে অভিভাবকদের একাংশ৷ তাদের দাবি, এভাবে প্রত্যেক স্কুল যদি কম বয়সি ছাত্রীদের বিয়ে রুখতে সচেতনতার পাশাপাশি এরকম বিশেষ পদক্ষেপ নেয়, তাহলে আগামী দিনে বাল্য বিবাহের সংখ্যাটা আরও কমবে৷
মথুরাপুর ১ নম্বর ব্লকের বাসিন্দাদের অধিকাংশই কৃষিকাজের পাশাপাশি ফুলঝাড়ু ও জরির কাজ করে দিনগুজরান করেন৷ এমনকি এখানকার মহিলা থেকে যুবকেরা রোজ সকালে বাড়িতে বাড়িতে পরিচারিকা, ট্রেলারিং ও চামড়ার কারখানা সহ ছোটখাটো কাজের জন্য শহর কলকাতায় পাড়ী দেয়৷ এলাকার বাসিন্দাদের অভাবের সুযোগ নিয়ে বাল্য বিবাহ ও নারী পাচারের আতুঁড় ঘর হয়ে উঠেছে এই এলাকা৷ কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত সিংহভাগ মানুষ৷ রায়দিঘি বিধানসভার অন্তগর্ত এই ব্লকে একাধিক পিছিয়ে পড়া গ্রাম রয়েছে৷ মূলত তপশিলী ও মুসলীম সম্প্রদায়ের বাস এই এলাকায়৷ তবে বাল্য বিবাহ রুখতে এই পদক্ষেপ প্রথম নয় কৃষ্ণচন্দ্রপুর হাইস্কুলের৷ বর্তমানে স্কুলের ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা প্রায় দেড় হাজার৷ এর আগে স্কুলের প্রতিটি ক্লাসের পাঁচজন করে ছাত্রী নিয়ে ‘স্বয়ংসিদ্ধা’ নামে একটি দলও তৈরী হয়েছে৷ প্রধান শিক্ষকের নেতৃত্বে ওই দলের ছাত্রীরা ছুটির দিনে প্রত্যেক গ্রামে গিয়ে নিয়মিত সচেতনতা শিবির করে৷ সেখানে কণ্যাশ্রী প্রকল্পের সরকারি সুবিধার পাশাপাশি কম বয়সের বিয়েতে ক্ষতির দিকটাও তুলে ধরা হয়৷ তারপরও কোথাও বাল্য বিবাহের খবর পেলে ‘স্বয়ংসিদ্ধা’ দলের ছাত্রীদের সঙ্গে নিয়ে নাবালক নাবালিকাদের বাড়িতে পৌঁছে অভিভাবকদের বুঝিয়ে বিয়ে বন্ধ করেন প্রধান শিক্ষক৷ এভাবে গত এক বছরে ২০টি বাল্য বিবাহ রুখতে পেরেছে স্কুল৷ প্রত্যেতেকই ওই স্কুলের ছাত্রী৷ প্রধান শিক্ষক চন্দন মাইতি বলেন,‘এতগুলো বিয়ে আটকানোর পরও বেশ কয়েকজন নাবালিকা ছাত্রীকে তাদের অভিভাবকরা লুকিয়ে বিয়ে দিয়েছে৷ যখন আমারা খবর পেয়েছি, তখন অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল৷ তাই এবার নাবালিকা বিয়ে রুখতে আরও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হল৷ স্কুলের পক্ষ থেকে একটি অঙ্গীকার পত্র বানানো হয়েছে৷ সেই অঙ্গীকার পত্রে স্কুলের সমস্ত কম বয়সি ছাত্রী ও তাদের অভিভাবকদের স্বাক্ষর ও বাড়ির মোবাইল নম্বর দিতে বলা হয়েছে৷ তারপরও যদি অভিভাবকরা কখনও তাদের কম বয়সি মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে, তা জানতে পারলে এই অঙ্গীকারপত্রকে হাতিয়ার করে পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে বিয়ে রোখার পাশাপাশি অভিভাবকের বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷’

No comments:
Post a Comment