-- কল্যাণ চক্রবর্তী।
হিন্দু ব্যায়ামের আখড়া, ক্রীড়াসঙ্ঘ ও শক্তিপুঞ্জে কোন কোন ব্রত, পূজা ও উৎসব উৎযাপিত হবে তার একটি তালিকা প্রস্তুত করা গেল। কেবল ষোড়শোপচারে পূজা আর হৈচৈ করেই যেন দিনগুলি না কাটে। বরং দিনগুলির প্রতীকী তাৎপর্য দেশের কিশোর ও তরুণ দলকে বিবৃত করে তাদের সংহত ও সন্নিবিষ্ট করা জরুরী। শরীর চর্চার পাশাপাশি তাদের মানসিক বিকাশ সাধিত হোক। পেশীর সৌষ্ঠবই হয়ে উঠুক সৌন্দর্যবর্ধনের অন্যতম মাপকাঠি।
আখড়া-সঙ্ঘ ও শক্তিপুঞ্জের কিশোর ও তরুণরা সব ধরণের খেলাধূলায় পারদর্শী হয়ে উঠুক; তাদের ইস্পাতের মত পেশীশক্তি হোক। গাছে চড়া সাঁতার কাটা, গাড়ী চালানো, লাঠিখেলা, কুস্তি-ক্যারাটে এবং প্রয়োজনে অস্ত্র চালনার প্রশিক্ষণ জরুরী। সনাতনী আদর্শে রচিত দেশের জন্য নিবেদিত-প্রাণ হবার জন্য দিনগুলি হয়ে উঠুক শপথ-দিবস। সর্বোপরি তারা চরিত্রবান হোক। সমাজের যে যেখানে প্রতিষ্ঠিত আছেন অনুগ্রহ করে এই কিশোর ও তরুণদলকে সাধ্যমত উৎসাহ দিন।
শৌর্যবীর্য দিবসের তালিকা:
১. মহাবীর পূজা: শ্রাবণের শুক্লা পঞ্চমীতে সৈনিক শিরোমণি ও শক্তি-ভক্তির সমন্বিত আধার শ্রী হনুমানের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে তাঁর বীর্যবত্তা, সমরকৌশল ও প্রভুভক্তির উপাসনা।
২. জন্মাষ্টমী: ভাদ্রের কৃষ্ণা অষ্টমীতে যোদ্ধৃবেশী অবতার কৃষ্ণের স্মরণ ও শোভাযাত্রা।
৩. অস্ত্র-পূজন তথা বিজয়াদশমী: আশ্বিন শুক্লা দশমীতে অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভ শক্তির জয় আনার লক্ষ্যে মগজাস্ত্রে শান দেবার দিন।
৪. কার্তিক ব্রত: কার্তিক সংক্রান্তিতে জাতীয় প্রতিরক্ষা ও বীর্য সঞ্চারকারী দেবতা তথা দেবসেনাপতি কার্তিকেয়র উপাসনা করে আত্মোৎসর্গের বীর্যদীপ্ত প্রেরণা লাভ।
৫. ভীষ্মাষ্টমী: মাঘের শুক্লা অষ্টমীতে ভীষ্ম-তর্পণ করে বীরত্ব লাভের আশীর্বাদ ও সম্বৎসরের সঞ্চিত পাপের বিনষ্টি।
৬. রামনবমী: চৈত্রের শুক্লা নবমীতে যোদ্ধৃবেশী অবতার ও প্রজাপালক রামের উপাসনা ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা।
স্বামী বিবেকানন্দ বলেছিলেন, "This world is the great gymnasium where we come to make ourselves strong." রাজযোগ গ্রন্থে বলছেন, "এই দেহই আমার শ্রেষ্ঠ যন্ত্র, শ্রেষ্ঠ সহায়, চিন্তা করিবে -- ইহা বজ্রের ন্যায় দৃঢ়... দুর্বল ব্যক্তি কখনও মুক্তিলাভ করতে পারে না। সর্বপ্রকার দুর্বলতা পরিত্যাগ কর। শরীরকে বলো -- তুমি বলিষ্ঠ। মনকে বলো -- তুমি শক্তিধর এবং নিজের উপর অসীম বিশ্বাস ও ভরসা রাখো।" স্বামীজি বলেছেন, "Strength is life; weakness is death." বলেছেন, "গীতাপাঠ অপেক্ষা ফুটবল খেলিলে তোমরা স্বর্গের আরও নিকটবর্তী হইবে।" বলেছেন, "আমি এমন মানুষ চাই যাদের মাংসপেশি লোহা দিয়ে তৈরি, স্নায়ুগুলি ইস্পাত দিয়ে তৈরি আর এই দেহের মধ্যে এমন মন থাকবে যা বজ্রের উপাদানে গঠিত।" তিনি মনে করতেন শুভঙ্করী কাজে শক্তির প্রয়োগ প্রয়োজন। জগতের কল্যাণের জন্য, সমাজের মঙ্গলের জন্য শক্তির প্রয়োগই হচ্ছে ধর্ম।
বেদের প্রার্থনায় বলের উপাসনা, সামর্থ্যের পূজা আর শক্তি-আরাধনার কথা পাই, "তেজোহসি তেজো ময়ি ধেহি। বীর্যমসি বীর্যং ময়ি ধেহি। বলমসি বলং ময়ি ধেহি। ওজোহস্যোজি ময়ি ধেহি।" হে তেজস্বরূপ, আমায় তেজস্বী কর; হে বীর্যস্বরূপ, আমায় বীর্যবান কর; হে বলস্বরূপ, আমায় বলবান কর; হে ওজঃস্বরূপ, আমায় ওজস্বী কর। তাই ইচ্ছাশক্তির একত্র সম্মিলন ও এককেন্দ্রিকরণ হোক হিন্দু ব্যায়ামাগার, ক্রীড়াসঙ্ঘ ও শক্তিপুঞ্জে। তারা আত্মোপলব্ধি করে দেশকে নির্মাণ করুক।






No comments:
Post a Comment