ড. কল্যাণ চক্রবর্তী।
প্রথম পর্ব
(তিথি ধরে আলোচিত হবে)
ক. পৌর্ণমাসী
১. পুষ্পদোল: বৈশাখী পূর্ণিমায় মঞ্চে শ্রী গোবিন্দকে স্থাপন করে চন্দন-পুষ্পে ষোড়শোপচারে পূজা।
২. স্নানযাত্রা এবং মহাজ্যৈষ্ঠী: জ্যৈষ্ঠ পূর্ণিমায় শ্রীকৃষ্ণের পূজা ও মহাস্নান এবং গঙ্গাস্নান ও জগন্নাথদেব দর্শন।
৩. কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা: আশ্বিন পূর্ণিমায় লক্ষ্মীপূজা, নারকেল-চিপিটক দিয়ে দেবার্চনা এবং নারকেল জল পান করে নিশি জাগরণ।
৪. রাসোৎসব: কার্তিক পূর্ণিমায় রাসমন্ডপে শ্রী রাধাকৃষ্ণের পূজার্চনা।
৫. দোলযাত্রা: ফাল্গুন পূর্ণিমায় দোলমন্ডপে/মঞ্চে শ্রী গোবিন্দকে এনে পুষ্পমাল্য প্রদান, ষোড়শোপচারে রাধাগোবিন্দের পূজা ও আবীরখেলা।
খ. প্রতিপদ:
১. দ্যূত-প্রতিপৎ: কার্তিক শুক্লা প্রতিপদে অনুষ্ঠিত স্বাস্থ্য ও সম্পদশালী হবার জন্য বলিরাজের পূজা ও নিশি জাগরণ।
গ. দ্বিতীয়া:
১. রথযাত্রা: আষাঢ়ের শুক্লা দ্বিতীয়ায় জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা ও মহোৎসব, ব্রাহ্মণ ভোজন।
ঘ. তৃতীয়া:
১. অক্ষয় তৃতীয়া ব্রত: বৈশাখের শুক্লা তৃতীয়ায় যমলোক অতিক্রম করে বিষ্ণুলোক প্রাপ্তি কামনায় গণেশসহ বিবিধ দেবতার পূজা এবং সলক্ষ্মী বাসুদেব পূজার্চনা; হালখাতা উৎযাপন।
ঙ. চতুর্থী:
১. নষ্টচন্দ্র: ভাদ্রের শুক্লা ও কৃষ্ণা চতুর্থীতে চন্দ্র দর্শন নিষেধ; হঠাৎ দর্শন করে ফেললে পূর্ব ও উত্তরাস্য হয়ে মন্ত্রপাঠ করে শঙ্খের জলপান।
চ. পঞ্চমী:
১. নাগ-পঞ্চমী: আষাঢ়ের কৃষ্ণা পঞ্চমীতে গৃহাঙ্গনে সীজগাছ স্থাপন করে মনসাদেবী এবং অষ্টনাগের পূজা করে সর্পভয় দূরীকরণ।
২. মহাবীর পূজা: শ্রাবণের শুক্লা পঞ্চমীতে ব্যায়ামের আখড়ায় অনুষ্ঠিত হনুমান পূজা ও শক্তি-ভক্তির সমন্বিত আদর্শ প্রার্থনা।
৩. সরস্বতীপূজা/শ্রীপঞ্চমী:
মাঘের শুক্লা পঞ্চমীতে লক্ষ্মী, সরস্বতী, মস্যাধার ও লেখনী পূজা ও সারস্বতোৎসব।
ছ. ষষ্ঠী:
১. অরণ্য ষষ্ঠী: জ্যৈষ্ঠের শুক্লা ষষ্ঠীতে তালবৃন্ত বা পাখা এবং অন্যান্য পূজার সামগ্রী সহ বনে প্রতিষ্ঠিত ষষ্ঠীদেবীর পূজা, ব্রতাচরণ, ব্রতকথা শ্রবণ এবং সন্তানসন্ততির দীর্ঘায়ু ও ঐশ্বর্যশালী হবার কামনা।
২. দুর্গা-ষষ্ঠী: আশ্বিনের শুক্লা ষষ্ঠীতে দেবী দুর্গার বোধন।
৩. অশোক ষষ্ঠী: চৈত্রের শুক্লা ষষ্ঠীতে অশোক পুষ্পের কুঁড়ি জল গন্ডুবের সঙ্গে পান করে শোক নিবারণ ও মানসিক শান্তি লাভ।
জ. সপ্তমী
১. শীতলা পূজা: শ্রাবণ শুক্লা সপ্তমীতে অবৈধব্যের উদ্দেশ্যে এবং মসূরিকা বা বসন্ত রোগের নিবারণ ও নিরাময় কামনায় স্ত্রীলোক কর্তৃক সুবর্ণময়ী শীতলার প্রতিমায় অথবা ঘটে পূজা।
২. মহাসপ্তমী: আশ্বিনের শুক্লা সপ্তমীতে দেবী দুর্গার মহাপূজা।
ঝ. অষ্টমী
১. জন্মাষ্টমী: ভাদ্রের কৃষ্ণা অষ্টমীতে বাসুদেবের পূজা করে কৃত পাপের বিনষ্টি।
২. রাধাষ্টমী: ভাদ্রের শুক্লা অষ্টমীতে উপবাসী হয়ে মধ্যাহ্নে শ্রীরাধিকার পূজা।
৩. মহাষ্টমী: আশ্বিন শুক্লা অষ্টমীতে দেবী দুর্গার পূজা করে ধনবান, পুত্রবান ও সৌভাগ্যবান হওয়ার প্রার্থনা।
৪. গোষ্ঠাষ্টমী: কার্তিক শুক্লা অষ্টমীতে গো-পূজা, গোগ্রাস দান, গো-প্রদক্ষিণ এবং গবানুগমন করে সর্বপাপ মোচন ও মহাপুণ্য লাভ।
৫. ভীষ্মাষ্টনী: মাঘের শুক্লা অষ্টমীতে ভীষ্ম-তর্পণ ও জলদান করে সারা বছরের সঞ্চিত পাপ বিনষ্টি।
৬. অন্নপূর্ণা পূজা: চৈত্রের শুক্লা অষ্টমীতে দেবী অন্নপূর্ণার পূজা করে সংসারের দুঃখ নিবারণ।
ঞ. নবমী
১. তালনবমী: ভাদ্রের শুক্লা নবমীতে রমণী কর্তৃক পালনীয়া ব্রত। জন্মজন্মান্তর সধবা থাকতে, লক্ষ্মীকে নিশ্চলা করতে এবং দুর্ভাগ্য বিনষ্টিকরণের জন্য এই ব্রত পালিত হয়।
২. জগদ্ধাত্রী পূজা: কার্তিক শুক্লা নবমীতে প্রাতঃকালে, মধ্যাহ্ন এবং সায়াহ্নে জগদ্ধাত্রী পূজা অনুষ্ঠিত হয়।
৩. মহানবমী: আশ্বিনের শুক্লা নবমীতে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়।
৪. রামনবমী: চৈত্রের শুক্লা নবমীতে শ্রী রামচন্দ্রের জন্মতিথি পালন করলে ধর্ম-অর্থ লাভ ও অভীষ্ট সিদ্ধি হয়।
ট. দশমী
১. দশহরা/গঙ্গাপূজা: জ্যৈষ্ঠের শুক্লা দশমীতে দশ জন্মার্জিত দশবিধ পাপ বিনষ্টি বা হরণের জন্য গঙ্গাস্নান।
২. বিজয়াদশমী/ অপরাজিতা পূজা: আশ্বিন শুক্লা দশমীতে অপরাজিতা পূজা, দেবী দুর্গার বিসর্জন, বিজয়াদশমী উৎযাপন ও শস্ত্রপূজন।
ঠ. একাদশী
১. উত্থান একাদশী: কার্তিক শুক্লা একাদশীতে শ্রী বিষ্ণুর উত্থান বা ভগবৎ-প্রবোধন; দেব বিগ্রহকে জলাশয় সমীপে সংকল্প, পূজা, প্রণাম করে লক্ষ্মী-সরস্বতীর পূজা করে গৃহে আনয়নের দিন।
ড. ত্রয়োদশী
১. বারুণী: চৈত্রের কৃষ্ণা ত্রয়োদশীতে গঙ্গাস্নানে সুকৃতি লাভ ও কুলোদ্ধার।
ঢ. চতুর্দশী:
১. নৃসিংহ চতুর্দশী / উমা মহেশ্বর ব্রত: বৈশাখের শুক্লা চতুর্দশীতে এই ব্রত করলে বৈধব্য যোগ দূরীভূত হয়।
২. সাবিত্রী চতুর্দশী: জ্যৈষ্ঠের কৃষ্ণা চতুর্দশীতে স্ত্রী কর্তৃক উপবাস করে বটবৃক্ষমূলে সত্যবানসহ সাবিত্রীর অর্চনা করলে বৈধব্যের বিনষ্টি ঘটে।
৩. অনন্ত চতুর্দশী: ভাদ্রের শুক্লা চতুর্দশীতে অনন্তদেবের পূজা করলে দারিদ্র নাশ হয় এবং পরিশেষে অনন্তরূপ ভগবচ্চরণে লীন হওয়ার আস্পৃহা ঘটে।
৪. যম চতুর্দশী/ ভূতোপাসিনা চতুর্দশী: কার্তিক কৃষ্ণা চতুর্দশীতে আপাং পল্লব মস্তকে ভ্রমণ করিয়ে যম তর্পণ ও পূজায় নরকভয় বিমোচিত হয়।
৫. শিবরাত্রি: মাঘের শেষ/ ফাল্গুনের প্রথম কৃষ্ণা চতুর্দশীতে শিবরাত্রির উপবাস ও শিব পূজা।
ণ
. অমাবস্যা:
১. মহালয়া: আশ্বিন অমাবস্যায় পিতৃপুরুষের পার্বণ শ্রাদ্ধ বা তর্পণ।
২. দীপান্বিতা: কার্তিকী অমাবস্যায় প্রদোষ সময়ে গোময় দ্বারা প্রস্তুত অলক্ষ্মীর পাদ্যঅর্ঘ্য দ্বারা পূজা; দীপান্বিতা লক্ষ্মীর পূজা ও দেবগৃহে দীপদান; কালীপূজা। মহালয়ায় না হয়ে থাকলে এ দিন পিতৃ তর্পণ বা পার্বণ শ্রাদ্ধ।
Contd.













No comments:
Post a Comment