ঢাক ঢোল পিটিয়ে ১১ টা যুদ্ধ জাহাজকে ভারত মহাসাগরে পাঠানোর ঘোষণা করেছিল চিন। সারা পৃথিবীর মিডিয়াই তা নিয়ে বেশ শোরগোল ফেলেছিল। কিন্তু কেউ স্বপ্নেও ভাবতে পারেনি এত ঢাকঢোল পেটানোর পরেও ইন্দোনেশিয়া পার করার আগেই ফিরে যাবে চীনা নৌ বাহিনীর ঐ ১১ টি যুদ্ধ জাহাজ। ভারতীয় নৌ সেনার তরফ থেকে এই বিষয়টি জানানো হয়েছে।
কয়েক সপ্তাহ আগেই ভারতের প্রতিবেশী দেশ মালদ্বীপে রাজনৈতিক ডামাডোল শুরু হয়েছে। সে দেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি আবার অতীতের মতই ভারত কে সেনা পাঠিয়ে হাল ধরতে বলেছে। কিন্তু প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই প্রতিক্রিয়া জানায় চীন। তারা স্পষ্ট করে বলে দেয় ভারত সেনা পাঠালে চুপ করে বসে থাকবে না চীন। তাই মালদ্বীপের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে।
যদিও ভারতের তরফ থেকে সেনা পাঠানোর কোন ইচ্ছা এবারে দেখা যায়নি, কারণ আগের বারের থেকে বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা। এবারে দেশের মধ্যে রাজনৈতিক সমস্যা তৈরি করেছে নির্বাচিত এক জনপ্রতিনিধি, যিনি ভারতের পাশে থেকে পাকিস্তানের সার্ক সন্মেলনকে বয়কট করেছিলেন। তাই সেনা পাঠিয়ে শত্রু বৃদ্ধি করার মত ভুল ভারত করেনি।
মালদ্বীপে কয়েক কোটি টাকার বন্দর নগরি তৈরির জন্য লগ্নি করেছে চীন। কংগ্রেস পরিচালিত ইউপিএ সরকারের উদাসীনতা এবং কূটনীতিক ব্যর্থতার জন্য আটকানো জায়েনি চীনের এই লগ্নিকে। আর তাই চীনের ভয় ভারত সেনা পাঠালে তাদের সব লগ্নি জলে যাবে। তাই স্বাভাবিক ভাবেই হুঙ্কার দিচ্ছে চীন। তবে অনেকটা আমেরিকা বা ব্রিটেনের কায়েদাতে নৌ-বহর পাঠানোর ঘোষণা করে সারা পৃথিবীকেই চমকে দিয়েছিল তারা। কিন্তু তার যে এমন লজ্জ্বাজনক পরিনতি হবে সেটা মনেহয় স্বয়ং চীনের কমিউনিস্ট প্রেসিডেন্ট স্বপনেও ভাবেন নি।
ভারতীয় নৌ-সেনা সূত্রের খবর অনুযায়ী, ১০ ই ফেব্রুয়ারি পূর্ব ভারত মহাসাগরে ইন্দোনেশিয়া এবং অস্ট্রেলিয়ার মাঝে থাকা ‘সুন্দা প্রণালী’ দিয়ে প্রবেশ করে চীনের ১১ টি নৌ বহর। এর মাত্র চার দিন পরেই ‘লম্বক প্রণালী’ দিয়ে জাভাতে ফিরে যায় এবং এরপর সোজা রওনা দেয় দক্ষিণ চীন সাগরের দিকে।
সূত্রের খবর, ভারতীয় নৌ সেনার পার্সোনাল সুইমিং পুল হিসাবে পরিচিত বঙ্গোপসাগরের ইস্টার্ন কম্যান্ড খবর পেয়েই অতি সক্রিয় হয়ে পরে। আটটি যুদ্ধ জাহাজ, সাবমেরিন সমেত(অসমর্থিত সুত্র অনুযায়ী) দূরবর্তী নজরদারির বিমান পি৮আই কে দিয়ে মালাক্কা প্রণালী বা ভারত মহাসাগরে পূর্ব দিক থেকে ঢোকার প্রধান রাস্তার সামনে নজরদারি চালানো শুরু করা হয় পুরো এলাকাতে নজর রাখার জন্য।
এরই সঙ্গে ভারতের ডিফেন্স স্যাটেলাইট গুলিও চীনা জাহাজ গুলোর গতিবিধির উপর করা নজর রাখছিল। গদের উপর বিষফোঁড়া হয়ে গিয়েছিল ‘মালাক্কা প্রণালী’-র একদম সামনে থাকা নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে ভারতীয় বায়ু সেনার ঘাঁটিতে থাকা বিমান গুলোর সক্রিয় হয়ে ওঠা। আর এর ফলেই চীন বুঝে যায় এখনের ভারত আর আগের ভারত নেই। যুদ্ধের জন্য তারা সদা তৈরি। আর সেই জন্যই একরকম ভয় পেয়ে চুপিসারে মুখ বাঁচিয়ে নিজেদের ১১ টা যুদ্ধ জাহাজ কে ফিরিয়ে নিল চীন।

No comments:
Post a Comment