মৃন্ময় নস্কর, ভাঙড় :পাওয়া গ্রিডের আন্দোলন নিয়ে নকশাল এবং সিপিএম কংগ্রেসকে এক সঙ্গে বিঁধলেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা কলকাতার মহানাগরিক শোভন চট্টোপাধ্যায়। এদিনে ভাঙড়ে তৃণমূলের কর্মী সভায় দাঁড়িয়ে শোভন বাবু স্পষ্টতই বলেন, কয়েকশো কোটি টাকা খরচ করে ভাঙড়ে উন্নয়ন মুখী পরিকল্পনায় বাঁশ লাঠি নিয়ে গ্রামের অভ্যন্তরে বারুদের স্তুপ তৈরি করে যারা উন্নয়নকে ব্যাহত করছে, নকশাল দের পতাকার পাশে যখন কাস্তে হাতুড়ি বা কংগ্রেসের পতাকা থাকে আমাদের ভাবতে লজ্জা হয় এই সিপিএম বা কংগ্রেসের মতন দলটা একদিন বাংলায় ৩৪ বছর ক্ষমতায় ছিল বা ভারতবর্ষে ক্ষমতায় ছিল। বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তির সঙ্গে হাত মিলিয়ে বৃহত্তর উন্নয়ন পরিকল্পনায় যারা এই ভাবে বাঁধা দিচ্ছে তারা আর যাই হোক কোন রাজনৈতিক দল বলে মানুষের সামনে পরিচয় দেওয়া যোগ্যতা নেই তার নাম সুজন চক্রবর্তী হতে পারে বা সমিক লাহিড়ি।ভাঙড়ের বিজয়গঞ্জ বাজারে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী সম্মেলনে উপচে পড়া ভিড় দেখে আপ্লুত শোভন চট্টোপাধ্যায় হুঁশিয়ারি পাশাপাশি আত্মবিশ্বাসের সুরে বলেন, ভাঙড়ে তৃণমূল কংগ্রেস ঐকবদ্ধ এখানে যে লড়াই দেবে তাতে বিরোধীরা প্রার্থী খুঁজে পাবে না। এখানে মূল বক্তা হিসাবে উপস্থিত ছিলেন তিনি। এর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন ভাঙড়ের বিধায়ক তথা মন্ত্রী আব্দুর রেজ্জাক মোল্লা।সভা সফল করতে চেষ্টার ত্রুটি রাখেনি ভাঙড় ২ নং ব্লকের তৃণমূলের সভাপতি অহিদুল ইসলাম সহ নান্নু হোসেন, আব্দুর রহিমরা ।
এদিনের সভায় জেলা সভাপতি শোভন চট্টোপাধ্যায় কর্মীদের উদ্দেশ্য বলেন, ভাঙড় কে কেউ কেউ বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করছে, আপনারা সজাগ থাকুন ঐকবদ্ধ ভাবে লড়াই করুন। পাওয়া গ্রিডের আন্দোলন নিয়ে নকশাল দের পাশাপাশি তিনি সিপিএম কংগ্রেস কে কাটগড়ায় তুলে বলেন, চারটি টাওয়ার কে ওরা আপত্তি করে বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পে বাঁধা শিষ্টি করেছে। কার সার্থে আপত্তি করল। তিনি হুংকার দিয়ে বলেন, আমরা পাওয়ার গ্রীড এলাকায় এর থেকে বড় সভা করে দেখিয়ে দিতে পারি। ওরা ব্যারিকেড করে বিদ্যুৎ কে আটকে দিয়েছে, ভাঙড়ে মানুষ যদি ওদের কে ব্যারিকেড করে আটকে দেয় তখন কি হবে। শোভনের পাশাপাশি এদিন দীর্ঘ বক্তব্য দেন ভাঙড়ের বিধায়ক তথা মন্ত্রী আব্দুর রেজ্জাক মোল্লা ।তিনি বলেন, যারা মেরে কেটে খায় তারা পার্টির বোঝা। পঞ্চায়েত পঞ্চাশ শতাংশ মহিলা সংরক্ষিত শিক্ষিত মহিলা এবং যুবকদের সুযোগ দিতে হবে। তিনি কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন , এখন মমতার নামে ভোট হয়।এমন একটা সময় আসবে তখন নিজেদের ভোটে জিততে হবে তাই নিজেরা তৈরি হন। এর পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, তোলাবাজি সিন্ডিকেট বন্ধ করতে হবে না হলে মমতা ব্যানার্জি জিন্দাবাদ বলে কি হবে।এর পাশাপাশি এদিন বক্তব্য রাখেন আরাবুল ইসলাম, অহিদুল ইসলাম, নান্নু হোসেন সহ শ্রমিক নেতা শক্তিপদ মন্ডল ।এই সভার শেষে শোভন চট্টোপাধ্যায় ভাঙড়ের নেতৃত্বের নিয়ে গোপন বৈঠক করে সুত্রের খবর, ওই বৈঠকে পাওয়া গ্রিড এবং ভাঙড়ের গোষ্ঠী কোন্দল নিয়ে আলোচনা করেন এর পাশাপাশি পঞ্চায়েত নির্বাচনে ঐকবদ্ধ ভাবে মাঠে নেমে লড়াই করার নির্দেশ দেন। এদিনের এই সভায় শোভন চট্টোপাধ্যায়, রেজ্জাক মোল্লার পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন, জেলা তৃণমূলের সহ সভাপতি আবু তাহের সর্দার, শ্রমিক নেতা শক্তিপদ মন্ডল।


No comments:
Post a Comment