সাতশো বছরের পীরের মেলা - Breaking Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Sunday, 25 February 2018

সাতশো বছরের পীরের মেলা


অরিন্দম হরি :  ৭০০ বছর পেরোলেও আজও ঘোষ বাড়ির দুধে প্রথা মেনে হয়ে আসছে হাড়োয়ার পীর গোড়াচাঁদের মাজার শরীফের উরুস উৎসব।
এই মাজার শরিফকে দীর্ঘদিনের হেরিটেজ ঘোষণার দাবি হাড়োয়াবাসীর। শনিবার উরুষ উৎসব এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসে দাবি মেনে শীঘ্রই হেরিটেজের অভয় দেন  হাড়োয়ার বিধায়ক হাজী নুরুল ইসলাম। তিনি জানান, আগামী বিধানসভায় এই বিষয়টি তুলে ধরবেন তিনি। এছাড়াও এদিনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ছিলেন, পঞ্চায়েতের সভাপতি খালেক মোল্লা, ব্লক সভাপতি শফিক আহমেদ, বজরুল হোক, মেলাকমিটির সভাপতি শওকত আলী, সম্পাদক আফজল আহমেদ।
ইতিহাস ঘেটে ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাতশো পনের বছর আগে মক্কা থেকে এদেশে এসেছিলেন পীর হজরত সৈয়দ আব্বাস আলি। তাঁর বহু অলৌকিক কথা আজও হিন্দু -মুসলমানের মুখেমুখে। তিনি যখন এদেশে এসেছিলেন তখন গৌড়ের বাদশা ছিলেন সামসুদ্দিন ফিরোজ শাহ। একুশ জন পীর সঙ্গীকে নিয়ে এসেছিলেন তিনি। উদ্দেশ্য ছিল, মানবতার আদর্শকে সর্বত্র ছড়িয়ে দিয়ে ইসলাম প্রচার। তিনি যখন এসেছিলেন তখন দেবালয় বা দেউলা বর্তমানে বেড়াচাঁপার স্বাধীন হিন্দু রাজা ছিলেন চন্দ্রকেতু। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল রাজা চন্দ্রকেতুকে অলৌকিক ক্ষমতা দেখিয়ে ইসলামে দীক্ষিত করানো। কিন্তু পীর গোরাচাঁদ কখনও তা সম্ভব করতে পারেন নি। ফলে যুদ্ধ লেগেই থাকত। গোরাচাঁদের বয়স যখন প্রায় ৯০ বছর, তখন দেউলার পাশে হাতিয়াগড়ে বিদ্যাধরী নদীর পাশে দীর্ঘ যুদ্ধ হয়। যুদ্ধ প্রাণ গিয়েছিল আকানন্দের। পীর সাহেবও গুরুতর আহত হয়েছিলেন। যুদ্ধক্ষেত্রের পাশেই অসুস্থ পীর সাহেবকে রেখে দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর তিনি মারা যান। তাঁর হাড় এখানে রয়েছে বলেই গ্রামের নাম হয় হাড়োয়া। তাঁর অসুস্থ থাকাকালীন সেখানে একটা গরু তাঁকে প্রতিদিন দুধ পান করিয়ে যেত, সে গরুর মালিক ছিলেন কালু আর কানু ঘোষ। আজও পীরের মাজারে উরুস যখন হয় এই ঘোষ পরিবার থেকে দুধ আসে। সেই দুধে পীরের মাজার ভালো করে ধোওয়া হয়। তারপর শুরু হয় উরুস উৎসব। ১৩৭৩ সালের ১২ ফাল্গুন আহত পীর গোরাচাঁদের মৃত্যু হয়েছিল। ১১ ফাল্গুন তাঁর জন্ম। ২ দিনের উৎসবে টানা ২০/২৫ দিন মেলা চলে। দেশ-বিদেশের কয়েক লক্ষ মানুষ আসেন।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad