ইসলাম ছেড়ে হিন্দুত্বে আসার নেপথ্যে দূর্গম হিংসা, হুসেন আলির মুখেই শুনুন...
হিন্দু না মুসলিম? ভালোবাসার বিয়ের পর সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় এই স্বীকৃতি নিয়ে হেনস্হা হয়ে প্রাণের ভয়ে ভিটে ছাড়তে হয়েছিল। শান্তির ধর্ম ইসলাম আর সহিষ্ণুতার ধর্ম হিন্দু স্বীকারের বদলে খুনের হুমকি দিয়েছে। নিরেপেক্ষতার পোশাক পরা ব্যবসায়ীক শিল্পী মন নিয়ে রক্ত মাখা বিদ্যজনদের হাসি , ধর্ম নয় মানুষ বা মানবিকতা শব্দ আউড়ে যারা উরুতে হাত পিটিয়ে তর্ক করেন তাদের কাছে গল্পটা বিছিন্ন মনে হবে। যদিও এই ঘটনাটা বিচ্ছিন্ন নয় । বরং বিচ্ছিন্নরাই স্বার্থের বাইরে সব কিছুই বিচ্ছিন্ন ভাবেন। হুসেন আলির জীবন হুসেনকে সেটাই শিখিয়েছে।
কলকাতার রাজপথে হিন্দু সংহতির জনসভাতে ইসলাম ধর্ম থেকে হিন্দু ধর্মে ফেরা সংবর্ধিত পরিবারের অতীত কাহিনীর পদে পদে ছিল হুমকি আর অস্বীকার বঞ্চনা । জীবনের এই শেকড়ের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে হিন্দু সংহতির পরামর্শে আশ্রয় নেয় মুল শেকড়ের কাছে।
হলেন হুসেন আলি ও তার পরিবারের তেরোজন সদস্য।শুক্রবার তার পরিবার জানায়, হিন্দু সংহতি কথা দিয়েছে যে তারা হিন্দুত্ব ধর্মে ফিরলে এবং তাদের আইনিভাবে হিন্দু নাম হওয়ার পরে কাজ দেবে। আলি বলেন তার স্ত্রী ময়না বিবি, বয়স ৩৩, তিনি হলেন হিন্দু ঘরের মেয়ে। তাকে বিয়ে করার পর ময়না বিবি ইসলাম ধর্মে রূপান্তরিত হয়েছিলেন। কিন্ত হুসেন আলির বাড়ি ও গ্রামের কেউ তাকে স্বীকার করেননি। তার বাড়ি ছিল শিলচর, আসাম। আসামে এই নিয়ে খুব ঝামেলা হয়েছিল। তারা বলছিল এই মেয়েকে ঘরে তোলা হবে না যেহেতু সে হিন্দু। ইসলাম ধর্মে আসা সত্ত্বেও তাকে মানা হবে না। তখন তারা দিশাহীন হয়ে পড়েছিল কি করবে বুঝতে পারছিলেন না। ঠিক এই সময় এই হিন্দু সংহতির সঙ্গে দেখা হয়, তারাই তাদেরকে সাহায্য করেছিল, খাওয়ার, আশ্রয় দিয়েছিল।আলি ব্যারাকপুরের একটি হোটেলে থেকে বলেন, তারা নতুন নাম নিয়ে নতুন জীবন শুরু করতে চলেছেন।তার ছেলেকে একটি কাজ দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে হিন্দু সংহতি।
আলি ও ময়না বিবির দুই ছেলে, পাঁচ মেয়ে ও পাঁচ নাতি নাতনি, তারা সবাই হিন্দু ধর্মে ফিরেছেন। তারা বলেন, তারা অপেক্ষা করছে নিয়মকানুন,রীতিনীতি মেনে হিন্দু ধর্মে ফিরে যাওয়ার। তারা যখন আসামে কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন ছিল তখন হিন্দু সংহতির লোকেরাই তাদেরকে সাহায্য করেছিল, আশ্রয় দিয়েছিল।
হুসেন আলির স্ত্রী বলেন, তাদের বিয়ের পর তার পরিবারের লোকজন ঘোষণা করেছিল যে তাদের মেয়ে মারা গেছেন। ঠিক তেমনি তার স্বামীর সমাজ, পরিবেশ, বাড়ি, প্রতিবেশীরা কেউ তাকে মেনে নেয়নি। তার বড় ছেলে সাত বছর আগে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছে। সে মার খেত মা হিন্দু হওয়ার জন্য, তাকে বলা হত সে হিন্দুর ছেলে। তার মেয়ে মিনারা বেগম বয়স ২৪ তার স্বামী তাকে ১১ বছর পর তালাক দেন।ফলে মেয়ে তার ছেলে মেয়ে নিয়ে তাদের কাছেই থাকে। তাদেরকে পড়াশুনা করার সুযোগ দেয়নি কেউ, যেহেতু মা হিন্দু ছিল। কিন্ত তারা এখন চায় যাতে ছোট ছোট ছেলে মেয়েগুলো স্কুলে যেতে পারে সেই ব্যবস্থা যেন তাদেরকে করে দেওয়া হয়।
ধর্মে আক্রান্ত সেই পরিবার বলে তারা আর তাদের গ্রামে ফিরতে চায়না সেখানে ফিরলে তারা মারা যাবে।আলির ছোট ছেলে জাকিরউদ্দিন বলেন, 'আমি একটা কাজ চাইছি, হিন্দু সংহতির লোকেরা বলেছেন একটা কাজ দেবে তাকে'। আর তারা আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমে তাদের নাম কোর্ট থেকে পরিবর্তন করার কাগজ পত্র দেওয়া হয়েছে। হিন্দু সংহতির উপদেষ্টা প্রসূন মৈত্র বলেন, 'আমরা এই পরিবারের দায়িত্ব নিয়েছি। তাদের নিরাপত্তা, খাওয়ার, আশ্রয় সব আমরা দেব'।
পাশাপাশি বলেন, 'আমরা পশ্চিমবঙ্গ ও বাইরের রাজ্যের ৩০০ মুসলিম মেয়েদের সাহায্য করছি যারা হিন্দু ধর্মে ফিরেছে। তাদেরকে আলাদা করে আশ্রয়, নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে'। হিন্দু সংহতির সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্য বলেন,' আমরা তাদেরকে সাহায্য করব,ভালো কাজ ও থাকার ভালো জায়গা করে দেব'।

Welcome .rich Hindu should extend hand.
ReplyDelete