অবশেষে চালু হল সীমান্ত বানিজ‍্য - Breaking Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Thursday, 8 February 2018

অবশেষে চালু হল সীমান্ত বানিজ‍্য



তিনদিন বন্ধ থাকার পর ফের চালু হল সীমান্ত বানিজ‍্য।
 প্রসঙ্গত উল্লেখ্য বসিরহাটের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন  ঘোজাডাঙ্গা স্থলবন্দরে ঘোজাডাঙ্গা সি. এন্ড এফ. এজেন্ট(ই.) কার্গো ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশান এর তরফ থেকে ঘোজাডাঙ্গা স্থল শুল্ক দপ্তরের বিরুদ্ধে কিছু অলিখিত তথা অযৌক্তিক দাবি সামনে রেখে তার প্রতিবাদে সীমান্ত বাণিজ্যে সোমবার অনির্দিষ্টকালের জন্য 'কলম বিরতি' টানার সিদ্ধান্ত নিল । ঘোজাডাঙ্গা স্থল শুল্ক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য কিছু ভিত্তিহীন দাবি তুলে ব্যবসায়ীরা নিজেদের এবং সরকারের ক্ষতি করছেন যার ফলে সংস্থার সাথে শুল্ক দপ্তরের সম্পর্কের অবনতি হচ্ছে ।
ঘোজাডাঙ্গা স্থলবন্দরের আমদানী-রপ্তানী সীমান্ত বাণিজ্যের সঙ্গে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে প্রায় কুড়ি হাজারেরও বেশী মানুষের রুটি-রোজগার জড়িয়ে আছে । প্রতিদিন এই স্থলবন্দর দিয়ে প্রায় তিনশোর বেশী পণ্যবোঝাই লরি যাতায়াত করে । সেখানে হঠাৎ এই কর্ম বিরতির ফলে  রাস্তায় দাঁড়িয়ে ১০০০ লরি এবং পার্কিংয়ের ধকল পোহাচ্ছে ১৫০০ এর বেশী গাড়ি । সীমান্ত বাণিজ্য সংস্থার বক্তব্য, শুল্ক কতৃপক্ষ অনৈতিকভাবে টাকা চাইছে , না দিলে কাগজপত্র চেয়ে হয়রানি করছে, ইচ্ছাকৃত বিলম্ব করাচ্ছে । যদিও ঐ সংস্থা এরকম কোন লিখিত অভিযোগ কোথাও দায়ের করেনি। তাহলে কোনরকম লিখিত অভিযোগ ছাড়াই কেন এই অবরোধ ! যেখানে অবরোধের ফলে হাজারের অধিক লরি রাস্তায় দাঁড়িয়ে এবং এর ফলে সরকারের রাজস্ব বিপুল পরিমাণ ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে ।
       অপরদিকে এই সংস্থার দাবি, যেখানে পেট্রাপোল সীমান্তে দিনে হাজারটি লরি পারাপার করে সেখানে ঘোজাডাঙ্গা শুল্ক দপ্তর অত্যন্ত ধীরগতিতে কাজ করায় দিনে পারাপারকারী লরির সংখ্যা তিনশোর গন্ডি অতিক্রম করে না । এই সব দাবি সামনে রেখে এসোসিয়েশান সোমবার অনির্দিষ্টকালের জন্য সীমান্ত বাণিজ্যে অবরোধ ঘোষণা করে । এই অবরোধের ফলে কয়েক লক্ষাধিক টাকার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতো ব্যবসায়ীরা এবং লরির ড্রাইভার থেকে খালাসী, পার্কিংয়ের কর্মচারী, সীমান্ত বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা হোটেল, চায়ের দোকান তথা অন্যান্য খুচরো ব্যবসায়ীরা আর্থিক অনটনের মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে ।
     বিষয়টি নিয়ে ঘোজাডাঙ্গা শুল্ক দপ্তরের অতিরিক্ত শুল্ক আধিকারিক প্রদীপ কুমার জানা-র সাথে কথা বলতে গেলে তিনি সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের জানান, শুল্ক দপ্তর সর্বদা সীমান্ত বাণিজ্যকে সমর্থন করবে এবং যেকোন সময় কাজ শুরু করতে তৎপর । প্রতিদিনের রিপোর্ট মহকুমা শাসক, জেলা শাসক, শুল্ক আধিকারিক কে পাঠানো হচ্ছে । পণ্য পরিবহণকারী গাড়ির সংখ্যা বৃদ্ধির প্রসঙ্গে তিনি বলেন বাংলাদেশের ওপারে ভোমরা সীমান্তের ধারণক্ষমতা অনুযায়ী লরি অনুমোদন করা হয় । তবে খাতা-কলমে হিসাব দেখিয়ে তিনি বলেন গত মাসে যেথানে দিনে গড়ে ২৫০ লরি পারাপার করত সেখানে চলতি মাসে তা দৈনিক ৩৫০ ছাড়িয়েছে, এমনকি রবিবারে দিনের শেষে তা ৪৪২ এ দাঁড়িয়েছে । তিনি আরো বলেন যদি কাস্টমসের কোন কর্তা তাদের কাছে অনৈতিকভাবে টাকা চেয়ে থাকে তবে তা শুল্ক আধিকারিক বা উপরিমহলে লিখিত বা মৌখিক কোনভাবে না জানিয়ে কলম বিরতি টানা সরকারের সাথে অসহযোগিতার নিদর্শন ।
অবশেষে অতিরিক্ত জেলাশাসকের উপস্থিতিতে শুল্কদপ্তরের সাথে সি.এন্ড.এফ এর আলোচনা সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, আগের মত সীমান্ত বানিজ‍্য স্বাভাবিক ভাবে হবে। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বৃহস্পতিবার থেকে সচল হল সীমান্ত বানিজ‍্য।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad