মৃন্ময় নস্কর, দক্ষিণ ২৪ পরগণা: বারুইপুরে রোহিঙ্গা শরনার্থীদের ঢল। বিভিন্ন জায়গা থেকে তারা লরি করে আসতে শুরু করেছে। আর তা নিয়ে এবার নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। তাদের সম্বন্ধে খোঁজ খবর নিতে শুরু করেছে বারুইপুর জেলা পুলিসের কর্তারা।বিজেপির তরফ থেকেও প্রশ্ন তোলা হচ্ছে এই রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া নিয়ে।
বারুইপুরের কুরালিতে ৬ মাস আগে প্রথম রোহিঙ্গাদের একটি দল আসে। তাদের সাহায্য এগিয়ে আসে একটি স্বেচ্ছাসেবি সংগঠন। তারাই উদ্যোগ নিয়ে এই রোহিঙ্গা শরনার্থীদের থাকার ব্যবস্থা করে দেয়ে কুরালির খাল পাড়ে। টিন দিয়ে ঘর তৈরি করে দেওয়া হয়। সেখানে ছেলেমেয়ে নিয়ে রোহিঙ্গা শরনার্থীরা থাকতে শুরু করেন। তাদের জন্য পাণীয় জলের ব্যবস্থাও করা হয়।
রোহিঙ্গা শরনার্থীদের সাহায্য এগিয়ে আসেন ওই এলাকার বিভিন্ন মানুষ ও অন্যান্য সংগঠনের লোকজন। এরপরই এই শরনার্থী সংখ্যা বাড়তে শুরু করে। এখন সেখানে শরনার্থীর সংখ্যা ১৩০ জনের মতো। বুধবারও ট্রাকে করে প্রায় ৭০ জনের মতো শরনার্থী এসেছে। আর এই নিয়েই এবার বিতর্ক শুরু হয়েছে। আদৌ এই শরনার্থীরা বৈধ কি না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তাদের আইনি বৈধ কাগজপত্র রয়েছে কি না তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবি সংস্থার তরফে হোসেন গাজি জানান, এই শরনার্থীরা খুবই অসহায়। তাঁদের মাথা গোঁজার জায়গা নেই। তাঁদের বৈধ শরনার্থী পরিচয় পত্রও রয়েছে। তাই তাদের এখানে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তারা রোহিঙ্গা বলে বা অন্য কোন কারনে থাকতে দেওয়া হয়েছে এমনটা নয়। তবু কিছু মানুষ অপপ্রচার করছেন। তাঁরা রোহিঙ্গারা নদী পথে এসেছেন এমনটা বলছেন। কিন্তু আসলে তা নয়। এই শরনার্থীরা ২০১২ সাল থেকে এদেশে রয়েছেন। জম্বু , দিল্লি, হায়দ্রাবাদ প্রভৃতি রাজ্যে বসবাস করছেন। কোন কোন জায়গায় অসুবিধা হওয়ার কারনে তারা এখানে এসেছেন। তাদের স্থায়ী বাসস্থানের জন্য আমরা প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গায় জানিয়েছি। কোন অসহায় মানুষকে সাহায্য করার জন্য কেউ যদি মামলা করেন তবে সেটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক বলে মনে করি।




No comments:
Post a Comment