চাঁদনী: রক্তের অভাবে পিতৃহারা হতে হয়েছে তাঁকে৷ চিরতরে -পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেছেন বাবা৷ রক্তের অভাবে এভাবে আর কেউ যাতে স্বজনহারা না হন, তাই বাবার শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে রক্তের আয়োজন করে নজির গড়লেন সাংবাদিক-শিক্ষক ভাস্করব্রত পতি৷ ঘটনাটি পাঁশকুড়ার সাহাড়দা গ্রামের৷ পিতৃহারা ছেলের ডাকে সাড়া দিয়ে এগিয়ে এলেন গ্রামবাসী থেকে প্রিয়জনেরা৷ পরিবারের চার মহিলা সদস্য সহ অনেক এই সেচ্ছায় রক্তদান করলেন। কলকাতার একটি ব্লাড ব্যাংক এই রক্ত সংগ্রহ করে৷
ভাষ্করব্রতর কথায়, ‘‘রক্তের অভাবে বাবার মৃত্যু হল। সঠিক সময়ে রক্ত জোগাড় করতে পারলে বাবাকে হয়তো আরও কয়েকটা দিন বাঁচিয়ে রাখা যেত৷’’ বলছেন, ‘‘রক্তের জন্য এখানে সেখানে ঘুরে বেড়িয়েছি৷ কিন্তু পর্যাপ্ত রক্ত জোগাড় করতে না পারায় চোখের সামনে বাবাকে মারা যেতে হয়েছে৷ বিষয়টা আজও মন থেকে মেনে নিতে পারিনি৷ বাবাকে তো আর ফিরে পাব না৷ কিন্তু রক্তের অভাবে আর কেউ যাতে স্বজনহারা না হন, তাই রক্তদানের আয়োজন৷’’
পাঁশকুড়ার সাহাড়দা গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ভোলানাথ পতি। দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন তিনি৷ চলছিল চিকিৎসা৷ চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন ছিল বি পজেটিভ রক্ত। কিন্তু পর্যাপ্ত রক্ত জোগাড় করতে না পারায় গত ২০ মার্চ ভোলানাথবাবুর মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর। বাবার মৃত্যু নাড়া দিয়েছিল সাংবাদিক ও শিক্ষক ছেলে ভাষ্করব্রতকে।
এদিন বাবার শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে হাজির হওয়া মানুষজনের কাছে ভাস্কর জোর হাতে আবেদন করেন, ‘‘যেকোনও অনুষ্ঠানে রক্তদান শিবিরের আয়োজন করুন৷ তাতে জেলায় রক্তের অভাব অনেকটাই দূর হবে। রক্তের অভাবে এভাবে প্রিয়জন হারা হতে হবে না৷’’ এদিনের রক্তদান শিবিরে হাজির হয়েছিলেন স্থানীয় বিধায়ক ইব্রাহিম আলি। এই ধরনের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন তিনি।

No comments:
Post a Comment