বাংলা ১২২৯ সন ১লা বৈশাখ ইংরাজি ১৮২২সালে উত্তর ২৪ পরগনার গোবরডাঙা জমিদার বাড়ি লাগোয়া প্রসন্ন পার্ক ও যমুনা নদীর তীর বরাবর জায়গায় শুরু হয় মশলা মেলা ।এবারে এই মেলা ১৯৬বছরে পড়লো । গৃহস্থের বাড়িতে রান্নার কাজে যে সব মসলা ও ডালশস্য ব্যবহার হয় তারই সম্ভার নিয়ে আসেন কৃষকরা আর সেখান থেকে খুচরো এবং পাইকারী বিক্রিকরেন তারা । বাংলা নববর্ষের বছর সুরুর দিন থেকে বিকিকিনি ভালো হওয়া মানে বছরটা ভাল কাটবে এই আশাতেই বর্তমানে চলছে মেলা ।গোবরডাঙা জমীদার বাড়ির প্রতিষ্ঠাতা খেলারাম মুখোপাধ্যায় মুলত দুটি ভাবনা নিয়ে এই মেলা সুরু করেন ।পয়লা বৈশাখের আগেই ডাল ,হলুদ ,আদা ,রশুন জিরে ,পেয়াজের মতো মসলায় ব্যবহারিত ফসল মাঠ থেকে চাষিরা তুলে ফেলে তাই বছরের সুরুতে যদি এখানে বিক্রি করে তাহলে চাষিরা যেমন পয়সার মুখ দেখবে তেমন জমিদারদের পাওনা খাজনাও মেটাতে পারবে ।সেই ভাবনা থেকেই মেলা সুরু হয় । আজও চলছে একই ভাবে গোবরডাঙার মশলা মেলা । মসলা মেলা হিসাবে পরিচিত থাকলেও মেলার প্রধান নাম গোষ্ট বিহার মেলা । রাজ্যে এতো বড়ো মসলা মেলা বোধহয় নেই ।বহু মানুষ বছরের মসলা বাড়িতে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন ,দামটাও বাজারের তুলনায় অনেকটাই কম ।যার ফলে উপছে পড়ছে খুচরো মশলা কেনার ভীর ।
মেলা সুরু হওয়ার পর সীপাই বিদ্রহ ,প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ,দ্বীতিয় বিশ্বযুদ্ধ ,ভারত স্বাধীন হওয়ার জন্য আন্দলন সহ একাধিক অশান্ত পরিস্থিতি তৈড়ি হলেও একবারের জন্যও সেই আচ পরেনি এই মেলায় ,সেকাল থেকে একাল কোনও দিনও বন্ধ হয়নি মেলা ।মেলা সংগঠনের উদ্যগতা তথা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক পবিত্র কুমার মুখোপাধ্যায় ।
পাইকারি ক্রেতারাও কম দামে মসলা কিনতে পারায় খুশি ।
কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি কিছুটা কম টাকায় মাল কিনে কলকাতার বড়ো বাজারে বিক্রি করে মুনাফা হয় আর সেটা বছরের প্রথম দিনে হওয়ায় খুশি পাইকারী ক্রেতারাও ।


No comments:
Post a Comment