ভারতেই আছে এশিয়ার পরিচ্ছন্ন গ্রাম মেঘালয়ের খাসি পাহাড় জেলার মলিনঙ। এ গ্রামের বাসিন্দাদের কাছে পরিচ্ছন্নতা যেন প্রার্থনার সমার্থক। ৬শ’ মানুষের এই গ্রামের শিশু থেকে বৃদ্ধ সকলেই পরিচ্ছন্নতার প্রতি বিশেষ যত্নবান। মলিনঙ ২০০৩ সালে এ এশিয়ার সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন গ্রামের স্বীকৃতি পায়। আর ২০০৫ সালে মলিনঙকে স্বীকৃতি দেয়া হয় ভারতের সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন গ্রাম হিসেবে। ডিস্কভার ইন্ডিয়া ম্যাগাজিনের স্বীকৃতি গ্রামটি নজর কাড়ে ভারতের ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষের। আর মলিনঙকে ঘোষণা করা হয় আদর্শ গ্রাম হিসেবে, যাকে অনুসরণ করে পরিচ্ছন্ন ভারতের অন্য গ্রামগুলো।
গ্রামে গেলে কোনো আবর্জনা নজরে পড়ে না। দেখলে মনে হয় মন্ত্রবলে ময়লা সরানো হয় এ গ্রামে। ৬টায় গ্রামের সব শিশুরা উঠে পরে তাদের কাজ গ্রামকে পরিচ্ছন্ন রাখা। ঝাঁটা হাতে এই শিশুবাহিনী গ্রামের পথে পড়ে থাকা আবর্জনা ও ঝরা পাতা সরিয়ে ফেলে সকাল সকাল। তারপর নিজেরা পরিচ্ছন্ন হয়ে স্কুলে যায়। কিছু দূর পর পর মলিনঙ-এ রাখা আছে ময়লা ফেলার পাত্র। এগুলো দেখতে সুন্দর। হাতে তৈরি, আইসক্রিম কোণের মতো দেখতে। এই বিনগুলো পরিষ্কার করাও ছোটদের দায়িত্ব। এরা বিন পরিষ্কার করার সময় পচনশীল দ্রব্য আর পুড়ানো যায় এমন দ্রব্য আলাদা করে ফেলে। পরে লতাপাতাসহ অন্য পচনশীল দ্রব্যগুলো পুঁতে ফেলা হয় মাটির নিচে। আর বাকিগুলো নিয়ে যাওয়া হয় গ্রামের বাইরে পুড়িয়ে ফেলার জন্য। এটা ছোটদের এবং সংশ্লিষ্ট বড়দের নিত্যদিনের কাজ। এই গ্রামে আছে বড় বাগান, পত্রে পুষ্পে সুশোভিত বৃক্ষে ভরা বাগান। আছে সুন্দর ফুটপাত। ছায়াময় ফুটপাত।মাওলিননং মাতৃতান্ত্রিক সমাজ। এখানে ১০০শতাংশ মানুষই শিক্ষিত। তারা জানে পরিচ্ছন্নতা সুস্থ জীবনযাপনের জন্য বড় প্রয়োজন। মলিনঙ-এ প্লাস্টিক ব্যাগ দেখা যায়। এখানে আসলে দেখতে পাবেন ঘন নীল আকাশ,সবুজে ভরা গাছগাছালী,রকমারী ফুল, প্রজাপতি, পাখি।বাড়ি গুলি ছবির মতো সুন্দর করে সাজানো। এখানে রাস্তা বাড়ি মানুষের পোশাক পরিচ্ছদ সবকিছু ঝকঝকে।এই কারনে এই গ্রামকে world cleanest village বলা হয়। গ্রামের সবুজায়ন বজায় রাখতে এখানকার মানুষ নিয়মিত গাছ লাগান।
শিলং থেকে মাওলিনঙ এর দুরত্ব ৯০ কিমি। ভারত বাংলাদেশের সীমান্তে পাহাড় জঙ্গলে ঘেরা এই গ্রামটি মেঘালয়ের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র। গাছের শিকড় দিয়ে তৈরী ব্রীজ এখানের অন্যতম দর্শনীয় বিষয়।
কিভাবে যাবেনঃ শিলং থেকে গাড়ি ভাড়া করে যাওয়া যায় মাওলিনঙ।
কোথায় থাকবেনঃ থাকার জন্য শিলং এ হোটেল ভাড়া করতে হবে। তবে এখানে ছোটো ছোটো কিছু গেস্টহাউজ আছে।


No comments:
Post a Comment