মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে আরাবুল জেলে! তবুও মুখ্যমন্ত্রীর উপর ভরসা হারালেন না তিনি - Breaking Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Saturday, 12 May 2018

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে আরাবুল জেলে! তবুও মুখ্যমন্ত্রীর উপর ভরসা হারালেন না তিনি



মৃন্ময় নস্কর, দক্ষিণ ২৪ পরগণা: বারুইপুর আদালত আরাবুলকে ১০ দিনের পুলিস হেপাজতে রাখার নির্দেশ দিল, আদালতে আরাবুল নিজেকে নির্দোষ এবং ফাঁসানো হয়েছে বলে দাবি তুললেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় অভিযোগ এনে শনিবার পুলিস তাকে বারুইপুর মহকুমা আদালতে তুলেছিল। বিচারক‌ কুন্তল ভট্টাচার্য্য তাকে ১০ দিনের পুলিশ হেপাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত শুক্রবার বিকালে ভাঙড়ে জমি কমিটির মিছিলে গুলি ও বোমা নিয়ে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছিল আরাবুলের বিরুদ্ধে। গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান এক আন্দোলনকারি। এই খবরে মুখ্যমন্ত্রী দলের '‌ডাকসাইটে' নেতাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছিলেন। রাতেই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে। এদিন আরাবুলকে পুলিস ১৪৭, ৩০২, ৩০৭, অস্ত্র আইন,বিষ্ফোরক আইন, ষড়যন্ত্র করা প্রভৃতি ধারায় মামলা করে ১৪ দিনের পুলিশ হেপাজত চেয়েছিল পুলিস। বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে তার শারীরিক পরীক্ষা করা হয়েছে। আরাবুল হাসপাতালে সাংবাদিকদের কাছে নিজেকে 'নির্দোষ' বলে দাবি করেন‌। তাকে ফাঁসানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। ঘটনার সময় তিনি ভাঙড়ে ছিলেন না। সাড়ে ৩ টে থেকে ৬ টা পর্যন্ত কলকাতায় ছিলেন। বাড়ি ফিরে এসে শোনেন জমি আন্দোলনকারির মৃত্যু হয়েছে। আন্দোলনকারিরাই গুলি ও বোমা নিয়ে এলাকায় সন্ত্রাস চালাচ্ছিল। তাদের ছোঁড়া গুলিতেই ওই আন্দোলনকারি যুবক মারা গেছেন বলে আরাবুলের অভিযোগ। তাকে ভুল বুঝে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেন, সঠিক তদন্ত করে ব্যবস্থা নিক মুখ্যমন্ত্রী। এদিকে শনিবার সকালে তাঁরই বাড়ির পিছনের ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে মাটির মধ্যে বাঙ্কারে এবং বাগানের ঝোঁপে বস্তা ও কন্টেনারে করে রাখা প্রচুর তাজা বোমা উদ্ধার করেছে পুলিস। এই বোমা কারা ওখানে মজুত করে রেখেছিল তা তদন্ত করে দেখছে পুলিস।

এদিন দুপুর ২ টো নাগাদ আরাবুলকে আদালতে হাজির করে পুলিস। তারপর শুনানি শুরু হয়। তার পক্ষের উকিল হাফিজুর রহমান দাবি করেন,  ঘটনার প্রকৃত সত্য বের হোক। আরাবুলের মোবাইল ফোনের টাওয়ার দেখা হোক ঘটনার সময় তিনি কোথায় ছিলেন। তাঁর দাবি,পুলিস এসব না দেখেই আরাবুলকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে।তিনি নিজে পঞ্চায়েত সমিতির প্রার্থী। তার ছেলেও প্রার্থী এবং বৌমাও প্রার্থী। আরাবুল ওই এলাকায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাই জমি কমিটি ভোটের আগে তাদের কাজ হাসিল করার জন্য পরিকল্পিতভাবে তাকে ফাঁসিয়েছে। শুক্রবার রাতেই জমি কমিটির পক্ষ থেকে আরাবুল, ছেলে হাকিমূল ও ভাই আজিজুল সহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পাল্টা জমি কমিটির বিরুদ্ধেও এলাকায় সন্ত্রাস, ভাঙচুর চালানো, মারধর করার অভিযোগ করা হয়েছে থানায়।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad