শহর কলকাতা, রাজপুর সোনারপুর পুরসভার কোল ঘেঁসে সোনারপুর পঞ্চায়েত সমিতির সীমানা। একদিকে গ্রাম অন্যদিকে শহরাঞ্চল। আবার কোথাও কলকাতা পুর নিগমের অনতিদূরে এই পঞ্চায়েত সমিতির গ্রাম পঞ্চায়েত রয়েছে। মোট ১১ টি গ্রাম পঞ্চায়েত রয়েছে সোনারপুর পঞ্চায়েত সমিতির অধীনে। বারুইপুর, বিষ্ণুপুরের কোল থেকে গড়িয়া ও রুবি হাসপাতালের কোল পর্যন্ত ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে সোনারপুর পঞ্চায়েত সমিতির গ্রাম পঞ্চায়েতগুলি। ৯০৪ বর্গ কিলোমিটার এই পঞ্চায়েত সমিতির আয়তন। এই পঞ্চায়েত সমিতিতে লোকসংখ্যা রয়েছে প্রায় ২ লক্ষ ২১ হাজারের মতো। মহিলার সংখ্যাই বেশি। সোনারপুর পঞ্চায়েত সমিতির উল্লেখযোগ্য কাজগুলির মধ্যে রয়েছে বেকার যুবক ও যুবতীদের জন্য স্বনির্ভর গোষ্ঠীদের জন্য তৈরি কর্মতীর্থ। প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যায়ে এই কর্মতীর্থ তৈরি হয়েছে পঞ্চায়েত সমিতি কার্যলয়ের ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে সোনারপুরের বোসপুকুরে। এতোবড় কর্মতীর্থ গোটা জেলায় কোথাও নেই বলে দাবি পঞ্চায়েত সমিতির তরফে। এছাড়া শহর কলকাতার গা ঘেঁসে রুবি হাসপাতাল ও হেরিটেজ স্কুল এবং মেঘনাদ সাহা কলেজের কাছেই খেয়াদহ ২ পঞ্চায়েতের পীরতলা ভেড়ি এলাকায় তৈরি হচ্ছে ইকো ট্যুরিজম পার্ক। প্রায় ১৮৮ বিঘা জমির ওপর এই পার্ক তৈরির পরিকাঠামো বানানোর উদ্যোগ নিয়েছে সোনারপুর পঞ্চায়েত সমিতি। ১০০ দিনের কাজের বরাত নিয়ে সেই কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা চালাচ্ছে কেয়াদহ ২ গ্রাম পঞ্চায়েত। একটি সমবায় সমিতির শতাধিক শ্রমিক সেই কাজ করছে। শহরের গা ঘেঁসে এতোবড় ইকো ট্যুরিজিম পার্ক তৈরি হলে এলাকার উন্নয়ন হবে এবং প্রচুর কর্মসংস্থান হবে বলেই আশা এলাকার মানুষের। এই এলাকা জলজমি এলাকা বলে পরিচিত। তাই এখানে কাঠের তৈরি ঘর বানানো হবে। কোন ইট বালি কংক্রিটের নির্মান করা হবে না। এই প্রকল্পটিই আগামী পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে সোনারপুর পঞ্চায়েত সমিতির সব উল্লেখযোগ্য কাজ। সমিতির মৎস্য কর্মাধ্যক্ষ শশধর হালদার জানান, এই প্রকল্পটি এলাকার মানুষের কাছে একটা স্বপ্নের প্রকল্প। শহর থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে এই ইকো ট্যুরিজিম পার্ক তৈরি হচ্ছে। সোনারপুর পঞ্চায়েত সমিতি এবং বিধায়ক ফিরদৌসি বেগমের উদ্যোগে এই পার্কের পরিকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। প্রায় ১৮৮ বিঘা জলা জমির ওপর এই পার্ক হবে। পীরতলা সমবায় সমিতির শতাধিক শ্রমিক পরিকাঠামো তৈরির কাজ করছেন। এই পরিকাঠামো তৈরি হলে সরকারের কাছে এটিকে পরিপূর্ণ ইকো ট্যুরিজিম পার্ক তৈরি করার প্রস্তাব দেওয়া হবে। আমাদের আশা সরকার এই প্রকল্প গড়ে তুলবে।
এলাকাবাসী গোরা মণ্ডল এবং পাপিয়া নস্কর জানান, এই প্রকল্প খেয়াদহ ২ পঞ্চায়েতের মানুষের কাছে একটা স্বপ্ন। এই ইকো ট্যুরিজিম পার্ক হলে এলাকার মানুষের উন্নয়ন হবে। মানুষের অনেক কর্মসংস্থানও হবে। পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তরুন মণ্ডল জানান, সাফল্যের সঙ্গে এই পঞ্চায়েত সমিতি কাজ করে চলেছে। এখানে আগের আর্থিক বছরে গীতাঞ্জলি প্রকল্পে প্রায় ১৬০০ ঘর করে দেওয়া হয়েছে। এই আর্থিক বছরে ১৬৯০ টা ঘর করে দেওয়ার কথা রয়েছে। তারমধ্যে ৩৮০ টার মতো ঘর তৈরির কাজ বাকি রয়েছে। এছাড়া সরকারের আমার ঘর, গৃহহীন প্রভৃতি প্রকল্পের কাজও করা হয়েছে। পঞ্চায়েত সমিতি মহিলাদের নানান প্রকল্পে উল্লেখযোগ্য কাজ করে চলেছে। এখানে মহিলাদের অংশগ্রহন সব থেকে বেশি। বিদ্যুতের বিষয়ে পঞ্চায়েত সমিতির প্রতিটা গ্রাম পঞ্চায়েতে বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রায় ৯৫ শতাংশ কাজ শেষও হয়েছে। সরকারের গতিধারা প্রকল্পে এই পঞ্চায়েত সমিতিতে যে যুবকরা গাড়ির জন্য আবেদন করে ছিলেন। তাদের সকলকেই গাড়ি দেওয়া হয়েছে। ছোটখাট ব্যবসা করার জন্য মহিলা ও পুরুষদের আর্থিক সাহায্যও করা হয়েছে। ন্যাশানাল ফার্টিলাইজার মিশন থেকে পঞ্চায়েত সমিতি চাষীদের প্রশিক্ষন ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। চাষীরা যাতে আদা, ফুল চাষ করতে পারে তার জন্য আর্থিক সাহায্য করা হয়েছে। কিষান ক্রেডিট কার্ডের ব্যাবস্থা করা হয়েছে। মৎস্য ও প্রানী সম্পদ বিভাগ থেকে বিভিন্ন সময়ে পঞ্চায়েতের মৎস্যজীবিদের মাছ, জাল, হাঁড়ি, বাক্স, মাছ নিয়ে যাওয়ার সাইকেলের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে এবং গৃহপালিত প্রানী হাঁস, মুরগি বিতরন করা হয়েছে। এই পঞ্চায়েত সমিতির একটি পঞ্চায়েত আই সি ডি প্রকল্পে জেলার মধ্যে প্রথম হয়েছে। রাজ্যের সেচ মন্ত্রীর উদ্যোগে পঞ্চায়েতের সব কাঠের সেতু কংক্রিটের তৈরি করা হয়েছে। সোনারপুর ২ গ্রামপঞ্চায়েতে একটি বড় সেতু উদ্বোধন করা হয়েছে। আমার শৌচালয় প্রকল্পে সোনারপুর পঞ্চায়েত সমিতি 'নির্মল' বলে ঘোষিত হয়েছে।

No comments:
Post a Comment